সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতিবেদনের ছবিতে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তিনি সেলিম। অমরনাথ থেকে পূণ্যার্থীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব ছিল এই ব্যক্তির উপরই। জঙ্গিহানার জন্য সকলকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে না পারলেও এই মুসলিম ব্যক্তির জন্যই প্রাণে বাঁচলেন অন্তত জনা পঞ্চাশেক হিন্দু পূণ্যার্থী।
সোমবার কাশ্মীরের অনন্তনাগে অমরনাথ দর্শন করে ফেরার সময়ে পূণ্যার্থীদের একটি বাসে হামলা চালায় জঙ্গিরা। জানা গিয়েছে, পূণ্যার্থীদের বাসটিতে এসকর্ট করে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ আচমকাই বাসে জঙ্গি হামলা হয়। বান্তিগো এলাকায় দর্শনার্থীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় জঙ্গিরা। পুলিশ সূত্রে খবর, জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে সাতজন পূণ্যার্থীর। আহত হয়েছেন তিন পুলিশকর্মী-সহ ১২ জন। আর সেই বাসেরই চালক ছিলেন সেলিম। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। কিন্তু সেই ভয়াবহতার হাত থেকে বাঁচালেন সেলিমই। জঙ্গিহানা হতে দেখেও আতঙ্কে বাস থামিয়ে দেননি তিনি। এমন ভয়ংকর মুহূর্তেও তাঁর বাস চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্তের জন্যই বাঁচে একাধিক প্রাণ। এমনটাই জানাচ্ছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। দেশে জাতি-ধর্মের নামে যখন অসহিষ্ণুতার প্রশ্ন ওঠে, তখন এই ছবিগুলিই যেন নতুন করে দেশের একতার প্রতীক হয়ে ধরা দেয়। রক্তাক্ত অমরনাথেও এমন সম্প্রীতিই দেশকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
He called me up around 9:30 pm informing about firing on the vehicle: Javed Mirza, Cousin of Saleem (driving the bus attacked by terrorists) pic.twitter.com/FV9I8Njy9M
Advertisement— ANI (@ANI_news) July 11, 2017
সেলিমের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁর আত্মীয় জাভেদ মির্জা বলেন, সেলিম সাতজনের প্রাণ বাঁচাতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু পঞ্চাশজনের প্রাণ তো বাঁচিয়েছে। ওর জন্য আমরা গর্বিত।
Valsad (Gujarat): He couldn’t save 7 lives,but managed to move 50 people to a safe place;proud of him:Javed,Cousin of Saleem #AmarnathYatra pic.twitter.com/E1QFgV1kwy
— ANI (@ANI_news) July 11, 2017
[বারবার অমরনাথ, কেন নিশানায় নিরাপরাধ পূণ্যার্থীরা?]
অমরনাথ যাত্রায় পূণ্যার্থীদের উপর জঙ্গিহানার ঘটনায় সরব গোটা দেশ। অক্ষয় কুমার থেকে শচীন তেণ্ডুলকর, সকলেই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের আইজি মুনির খান জানিয়েছেন, অমরনাথ যাত্রীদের উপর হামলার চালিয়েছে লস্কর জঙ্গিরা। হামলার নেতৃত্বে ছিল ইসমাইল নামের এক পাক জঙ্গি। এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই কাশ্মীরের রাজ্যপাল এনএন ভোরা ও মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তবে সন্ত্রাসবাদের চোখ রাঙানির কাছে মাথা নত করেননি দর্শর্নার্থীরা। নতুন করে অমরনাথের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন তীর্থযাত্রীরা। এদিকে, আজ মৃতদেহগুলিকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
[বাসের টায়ার পাংচার হওয়াতেই জঙ্গিদের নিশানায় পড়েন পূণ্যার্থীরা]
সর্বশেষ খবর
-
চারঘণ্টা জেরা, মোবাইলও ফেরত দিচ্ছে না পাক ক্রিকেট বোর্ড! রেগেমেগে বিরাট চিঠি রিজওয়ানের
-
এখনই খালি করতে হবে না ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়, ‘ত্রুটি খতিয়ে দেখবে দমকল’, নোটিস খারিজ করে জানাল হাই কোর্ট
-
ভোপালে আসাদুদ্দিন ওয়েইসির কনভয়ের সঙ্গে সংঘর্ষ! আহত অন্তত ৫ বাইক আরোহী
-
বাঙালিত্বে মিশল তেতো! মিষ্টিতেও ভেজাল, বঙ্গজীবনে এখন ভেজালত্বের বাড়াবাড়ন্ত
-
বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণাবর্ত, বৃষ্টিতে ভাসতে পারে গোটা বাংলা! ভেস্তে যাবে বিশ্বকর্মা পুজোর প্ল্যান?