সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এ যেন চোর নটবরলাল। একজন কথার জাদুতে বিদেশি পর্যটকদের ঘোল খাইয়ে বেচে দিয়েছিল তাজমহল। আর এই গুণধরের সাধারণ মধ্যবিত্তের বাড়িতে হাতসাফাই দিয়ে শুরু। পরে শুধু গাড়িই চুরি শুরু করে। এমনকী পুলিশকে ফাঁকি দিতে গোটা মুখটাই বদলে ফেলে অস্ত্রোপচার করে। তনুজ থেকে নাম বদলে হয় কুণাল। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে প্লাস্টিক সার্জারিও করায়। তবুও শেষরক্ষা হল না, প্রায় চার বছরের চেষ্টার পর দিল্লিতে পুলিশের জালে শেষপর্যন্ত ধরা পড়ল এই গাড়ি চোর।
[যৌন হেনস্তার আখড়া ইউরোপের পার্লামেন্ট, বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড়]
১৬ বছর বয়স থেকে গৃহস্থের বাড়িতে চুরি দিয়ে শুরু। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি কুণালকে। ৬২টি গাড়ি চুরির মামলা ঝুলছে তার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে চুরি করে ফেলেছে ১৫০-টিরও বেশি গাড়ি। আর পালটে ফেলত চুরি করা গাড়ির ইঞ্জিন আর চেসিস নম্বর। তবে শুধু গাড়িই নয়, মহিলাদের মন চুরি করতেও তার জুড়ি মেলা ভার। প্রেমিকাদের মুগ্ধ করতে নিত্যনতুন গাড়িও চুরি করত। এরপর তাতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার টোপটাই কাজে লাগাত কুণাল। কথা বলার ধরন এবং লোক ঠকানোর চক্রান্তে নিজেকে প্রায় অধরা করে তুলেছিল সে।
[সম্পর্কে টানাপোড়েন, প্রেমিকের সঙ্গে আত্মঘাতী নাবালিকা]
মহিলামহলে কিন্তু বেশ জনপ্রিয় ছিল সে। কুণালের কথার কারসাজি, বিভিন্ন প্রশ্নের চটজলদি, বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর যে কারও উপরে খুব সহজেই প্রভাব বিস্তার করত। বুদ্ধি আর চাতুরিতে তার জুড়ি মেলা ভার। আর তার ভোলবদল করে প্লাস্টিক সার্জারি করিয়ে নেওয়ার গল্পটাও বিচিত্র। দক্ষিণ দিল্লি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর খানিকটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে পুলিশ। তবে একা না পেরে ওঠায় দুই সাগরেদ ইরসাদ আলি ও মহম্মদ শাদাবকেও সঙ্গে নিত কুণাল। গ্রেপ্তার করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সেই দুই চোরকেও। দিল্লির ডেপুটি কমিশনার রোমিল বানিয়া বলেন, দক্ষিণ দিল্লির নেহরু প্লেস থেকে পুলিশ কুণালকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের জেরার মুখে স্বীকার করে নিয়েছে, আসলে সে তনুজ, এক শল্য চিকিৎসকের সাহায্যে সে চেহারা পালটে ফেলেছিল। প্রায় ২০ বছর ধরে গাড়ি চুরি করছে সে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা গোপন সূত্রে খবর পায়, মুলচাঁদ হাসপাতালের পাশের রাস্তা দিয়ে একটি চোরাই আই ২০ গাড়ি আসছে। সেখানে গেলে চালক গাড়ি ফেলে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। কিন্তু ধরা পড়ে যায় সে। ১২টি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রথমে পুলিশ বুঝতে পারেনি, বহুবছর ধরে যে গাড়ি চোর অধরা এই সেই তনুজ। কারণ তনুজের যে ‘স্কেচ’ পুলিশের খাতায় রয়েছে তা নিতান্তই মামুলি চেহারার। কিন্তু ভোল বদলানো তনুজ তার কথাবার্তা—চালচলনও বদলে নিয়েছে। মাথায় রঙিন চুল, ট্রিম করা হালকা দাড়ির আড়ালে কুণাল যে আসলে তনুজই তা পুলিশি জেরায় স্বীকার করে সে।
সর্বশেষ খবর
-
কাল হল প্রতিকূল আবহে শৃঙ্গজয়ের জেদ! নেপালে তুষারধসে মৃত্যু বাংলার পর্বতারোহীর
-
বালতি হাতে বাড়িতে ঢুকল কে? তারপরই তীব্র বিস্ফোরণ, কর্নাটকে মৃত একই পরিবারের ৬ জন
-
‘নিজে ড্রাইভ করে গড়িয়াহাটে শপিং করি,’ পুজো নিয়ে আড্ডায় দিতিপ্রিয়া
-
সিনেমা হলের মধ্যেই অবাধ যৌনতা! ‘প্রান্তিকে’ একী কাণ্ড, হুলস্থুল তেহট্টে
-
বিরাট সিদ্ধান্ত বিসিসিআইয়ের, ভারতীয় দলের কোচ হলেন বালাজি!