Trinamool Congress symbol freeze

তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করল কমিশন, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে লড়াইয়ে থাকছে না ‘ঘাসফুল’

ওই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কী নাম এবং প্রতীক করতে চায় দুই পক্ষ, শুক্রবার সকাল ১১টার মধ‍্যে তা জানাতে হবে কমিশনকে।

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০০:০০

options
link
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করল কমিশন, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে লড়াইয়ে থাকছে না ‘ঘাসফুল’
কমিশনের নির্দেশে ভোটে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না দু'পক্ষই।

উপনির্বাচনের আগেই ঝরে গেল ঘাসফুল! দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করল নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে অন্য প্রতীকে লড়তে হবে মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীদের। কমিশনের নির্দেশ, ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক ব‍্যবহার করতে পারবে না কোনও পক্ষই। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। ভোটযুদ্ধের ময়দানে সব পক্ষ নিজের প্রার্থী দিয়েছে। ওই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কী নাম এবং প্রতীক ব্যবহার করতে চায় দুই পক্ষ, শুক্রবার সকাল ১১টার মধ‍্যে তা জানাতে হবে কমিশনকে। দুই শিবিরের বাছাই করা নাম-প্রতীক বাছাইয়ের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন।

Advertisement

নির্বাচনের কমিশনের নির্দেশিকা ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই অর্ডার আমরা মানছি না। কারণ এই রায়ের মধ্যে আইনগত অনেক বা ফাঁক রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এবার যা করার, আমরা করব। আমরা এই অর্ডার গ্রহণ করছি না।” প্রতীক ‘ফ্রিজ’ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কমিশনের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট গণতন্ত্রে ফ্যাসিবাদ, পরিবারবাদের কোনও জায়গা নেই। প্রতীক কী হবে তা নিয়ে সকলে আলোচনার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

নির্বাচনের কমিশনের নির্দেশিকা ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই অর্ডার আমরা মানছি না। কারণ এই রায়ের মধ্যে আইনগত অনেক বা ফাঁক রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এবার যা করার, আমরা করব। আমরা এই অর্ডার গ্রহণ করছি না।” তৃণমূলের ঋতব্রত-শিবিরকে তোপ দেগে কল্যাণ আরও বলেন, “আমরা যেমন নাম প্রতীক পেলাম না, বিদ্রোহী শিবিরও সেটা পেল না। ফলে ঘাসফুল প্রতীক ওদের, দল ওদের, নাম ওদের এইসব দাবি যারা করছিল, তাদের হাতেও কিছু থাকল না। তবে নতুন নাম বা প্রতীক মানুষকে চেনাতে সমস্যা হবে এটা ঠিকই। তবে সেই কাজটা আমাদের করতেই হবে”। প্রতীক ‘ফ্রিজ’ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কমিশনের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট গণতন্ত্রে ফ্যাসিবাদ, পরিবারবাদের কোনও জায়গা নেই। প্রতীক কী হবে তা নিয়ে সকলে আলোচনার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

‘জোড়াফুল’-এর প্রতীক হাতছাড়া হতেই মমতা ও ঋত শিবিরকে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “এটাই স্বাভাবিক। এটাই হওয়ার ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস বলে এখন আর কিছু নেই। যার সিংহভাগটা হল বিজেপি। বাকি যা পড়ে আছে, তাও তিন-চারভাগে বিভক্ত। বিরোধী দল হিসেবে ওদের কোনও ভূমিকা নেই।” দুই শিবিরের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সরব বর্ষীয়ান বাম নেতা। অন্যদিকে, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়ায় কালীঘাট তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে কমিশনকে দুষেছে কংগ্রেস। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে খোঁচা দিয়ে এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘মোদিজিকে জন্মদিনে শেষ রাতের উপহার দিলেন জ্ঞানেশ কুমার।’ মমতাকে প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সরব কংগ্রেস নেতারা।

Advertisement

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টেয় ঋতব্রত শিবির এবং বিকেল ৪টের সময় মমতা তৃণমূলের প্রতিনিধিদের তলব করে নির্বাচন। দুই শিবিরের কাছ থেকেই কিছু নথি এবং তাঁদের চূড়ান্ত যুক্তি শুনতে চায় কমিশন। শনিবার কালীঘাট এবং ঋতব্রত দুই তৃণমূলের বক্তব্যই শুনেছে কমিশন। শনিবার দুই শিবিরের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠকের পর ঋতব্রত শিবিরকে নিজেদের বক্তব্যের স্বপক্ষে কিছু নথি জমা দিতে বলেন জ্ঞানেশ কুমাররা। সেই নথির ভিত্তিতেই লক্ষ্মীবার ফের তাঁদের তলব করা হয়। আর এই বৈঠকের পর অন্তর্বতী নির্দেশ জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এমন সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছিল। সম্ভাবনা ছিল অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকটিই ফ্রিজ করে দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনও শিবিরই প্রতীক পাবে না। দুই শিবিরকেই আলাদা দল গড়ে বা ‘নির্দল’ হিসাবে লড়তে হবে। আর সেই সম্ভাবনাই সত্যি করে নির্বাচন কমিশনের জানিয়ে দিল, জোড়াফুলের প্রতীক ও নাম ব্যবহার করে কেউ-ই ভোটে লড়তে পারবে না। অর্থাৎ দুই দলকেই নির্বাচনী লড়াইয়ে ময়দানে নামতে হবে ভিন্ন নাম ও প্রতীকে। নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত ১৮৪ টি প্রতীক চিহ্নের মধ্যে থেকে যে কোনও তিনটি নাম ও প্রতীক বেছে নিয়ে কালই দু’পক্ষকে জানাতে হবে। সেখানে থেকে দুই শিবিরের জন্যই একটি করে প্রতীক চিহ্ন ও নাম চূড়ান্ত করবে নির্বাচন কমিশন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.