রাম রহিমের গুন্ডাদের তাণ্ডব রুখে দেশবাসীর কুর্নিশ কুড়োচ্ছেন ইনি

এই মহিলা আইএএস না থাকলে হয়তো ডেরা প্রধানের শাস্তিই হত না।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০১৯, ১৬:১২

options
link
রাম রহিমের গুন্ডাদের তাণ্ডব রুখে দেশবাসীর কুর্নিশ কুড়োচ্ছেন ইনি

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শান্ত পাঁচকুলা তখন জ্বলছে। দিকে দিকে ছড়াচ্ছে হিংসার আগুন। একে একে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে থানা। ভাঙচুর করা হচ্ছে মিডিয়ার গাড়ি। লাঠি-ইটবৃষ্টির চোটে পুলিশরাও দিশেহারা। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে যাচ্ছিল। ভণ্ড বাবা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরই উন্মত্তপ্রায় ভক্তের দল। অবশ্য নেপথ্যে ছিল টাকার খেলা। ভাড়া করা গুন্ডারা তখন হিংসার আগুন জ্বেলে পাঁচকুলাকে মুঠিতে নিতে চাইছে। রুখে দাঁড়ালেন এক মহিলা।পাঁচকুলার ডেপুটি কমিশনার গৌরী পরাশর জোশি। মূলত তাঁর চেষ্টাতেই সেদিন পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব হয়েছিল।

Advertisement

[ ভণ্ড ও ধর্ষক বাবার আসনে এবার মেয়ে হানিপ্রীত! ]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

২০০৯ ব্যাচের আইএএস তিনি। পাঁচকুলার দায়িত্ব তাঁর উপরেই। এমনিতে শান্তই বলা চলে এই জনপদ। পুলিশের ইমেজও বেশ ভাল। কিন্তু সেদিন পরিস্থিতি এমন ছিল যে পুলিশও পিঠটান দেয়। গুরমিতের গুন্ডাদের ছক ছিল, বড় হিংসার বাতাবরণ তৈরি করে বিচারপ্রক্রিয়াকে ঘেঁটে দেওয়া। হিংসাকে ঢাল করে বিচার ব্যবস্থাকে কবজা করে গুরমিতের মুক্তির পরিকল্পনা ছিল তাদের। ছক বুঝতে অসুবিধা হয়নি এই দুঁদে মহিলা অফিসারের। ভীত পুলিশ যখন পিছু হটছে, তখন তিনি সামনে আসেন। উন্মত্ত ভক্তরা তখন লাঠি হাতে এগিয়ে আসছে তাঁর দিকে। ইটবৃষ্টি চলছে সমানে। সেই পরিস্থিতিতেও সামনে দাঁড়িয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন গৌরী। হিংসা মারামারিতে তাঁর শাড়ি ছিঁড়ে যায়। ইট আর লাঠির ঘায়ে মারাত্মক চোট পান। আহত-রক্তাক্ত-বিধ্বস্ত অবস্থায় কোনওক্রমে গভীর রাতে বাড়ি ফেরেন। বাড়িতে এগারো মাসের সন্তান রয়েছে। কিন্তু পরিবারের পরোয়া করেননি। ফের ভোরে অফিস চলে আসেন। তাঁর নির্দেশেই নামে সেনা। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সেদিন তিনি যদি রুখে না দাঁড়াতেন তবে গুরমিতের চিত্রনাট্য কীভাবে লেখা হত, তা জল্পনার বিষয়। বিচারপ্রক্রিয়াও এভাবে সম্পন্ন হত পারত কিনা তাতেও ঘোর সন্দেহ। গ্রাম ও সাধারণ অধিবাসীদের কবজা করে, হিংসার আগুন জ্বালিয়ে গুরমিত পরিস্থিতি করায়ত্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু যে নারীকে ধর্ষণ করে তিনি জেলে, সেই নারীশক্তিই তার ছক সেদিন বানচাল করে দিয়েছিল।

Advertisement

ভণ্ড বাবার চক্রান্ত ফাঁস, হিংসা ছড়াতে নগদ ৩৮ লক্ষ টাকা ইনাম ]

এখন বিশেষ সিবিআই আদালত দুটি পৃথক মামলায় কুড়ি বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে গুরমিতকে। আর দেশবাসী কুর্নিশ জানাচ্ছে এই অকুতোভয় মহিলা অফিসারকে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.