Kalyan Banerjee

এবার সংসদ থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ঘরে-বাইরে চাপে কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ

একদিন আগেই কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাই সভায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাদে জড়ান কল্যাণ।

নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: জুলাই ২২, ২০২৬, ১৬:৩৯

options
link
এবার সংসদ থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ঘরে-বাইরে চাপে কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি।

ঘরে-বাইরে চাপে কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার লোকসভা থেকেও সাসপেন্ড হতে হল তাঁকে। লোকসভার বাদল অধিবেশনে আর সংসদে ঢুকতে পারবেন না তিনি। কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য এবং মহিলা সাংসদদের অপমান করার অভিযোগ তুলেছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়রা।

Advertisement

একদিন আগেই ধর্মতলায় কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের জনসভায় বিতর্কে জড়ান কল্যাণ (Kalyan Banerjee)। দীর্ঘ ভাষণে আপত্তি করায় খোদ দলনেত্রী মমতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সভামঞ্চ ছাড়েন শ্রীরামপুরের সাংসদ। বুধবার সকাল থেকে দলের বিরুদ্ধে একের পর এক মন্তব্য করে চলেছেন তিনি। এসবের মধ্যেই আবার লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হতে হল কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদকে।

Advertisement

এদিন অধিবেশনের শুরুতেই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির অর্থাৎ এনসিপিআই শিবিরের সাংসদদের সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু হয় কল্যাণের। এনসিপিআইয়ের শতাব্দী রায়-মিতালী বাগদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সূত্রের খবর, বিদ্রোহীদের দলবদলু বলে কটাক্ষ করেন কল্যাণ। প্রতিবাদ করেন শতাব্দীরা। শুরু হয় তর্কাতর্কি। এমনকী বিদ্রোহীদের দলবদলের কারিগর ভুপেন্দ্র যাদবকেও কটাক্ষ করেন মমতাপন্থী তৃণমূলের সাংসদ। এরপরই স্পিকার ওম বিড়লার কাছে কল্যাণের বিরুদ্ধে মহিলা সাংসদদের অপমান, ও নারীবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগে তোলে এনসিপিআই নেতৃত্ব। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কল্যাণকে বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য সাসপেন্ড করেন স্পিকার। সাসপেন্ড হয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও নাকি শ্রীরামপুরের সাংসদ কটাক্ষ করেন বিদ্রোহীদের। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “দরকারে বাইরে থাকব। কিন্তু বেইমানদের সামনে মাথা নত করব না।” পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, “যা যা অভিযোগ করা হচ্ছে সব মিথ্যা। আমি কাল থেকে সংসদে আসব। এবং বাইরে বসে থাকব। বেইমানদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।”

Advertisement

কল্যাণের সাসপেনশন কালীঘাট তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা। এমনিতেই কালীঘাটের হাতে মোটে জনা আটেক সাংসদ অবশিষ্ট আছে। কল্যাণ তাঁদের মধ্যে প্রথম সারির বক্তা এবং দলের মুখ্য সচেতক। যে কোনও ইস্যুতে সরকার বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকায় থাকেন তিনি। এ হেন সাংসদ সংসদে না থাকলে আরও চাপে পড়বে মমতা তৃণমূল। দলের সাংসদের এই সাসপেনশনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলছেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক। বেইমানদের প্রটেক্টররা কল্যাণদাদের সাসপেন্ড করছেন। কল্যাণদা যা করেছে যা বলেছেন ঠিক করেছেন।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.