জীবন্মৃত হয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর যন্ত্রণা ভোগ করার পর অবশেষে চিরঘুমের দেশে যাচ্ছেন হরিশ রানা (Harish Rana)। তাঁর নিষ্কৃতিমৃত্যুর আর্জি মঞ্জুর হওয়ার পর শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জীবনকে চিরতরে বিদায় জানানোর আগে হরিশের শেষ বিদায়ের চোখে জল আনা এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, এক মহিলা হরিশের মাথায় হাত বুলিয়ে বলছেন, ‘সকলকে ক্ষমা করো হরিশ।’
আরও পড়ুন:
জানা যাচ্ছে, হরিশকে চিরবিদায় জানাতে ইতিমধ্যেই নিয়ে আসা হয়েছে গাজিয়াবাদের এইমস হাসপাতালে। হরিশের আইনজীবী বলেন, নিষ্কৃতিমৃত্যুর জন্য ইতিমধ্যেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৫-৬ জন চিকিৎসককে নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি বিশেষ দল। চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়েছে, হরিশের মৃত্যুর প্রক্রিয়া গোপনে সম্পন্ন করা হবে। তাছাড়া এই প্রক্রিয়া প্রকাশ করার কোনও আবশ্যিকতাও নেই।
এক দিদি হরিশের কপালে টিকা লাগিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। সঙ্গে বলছেন, “সকলকে ক্ষমা করো হরিশ। সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও। এখন যাও ঠিক আছে।”
এই পরিস্থিতিতে জীবন থেকে নিষ্কৃতি পেতে চলা হরিশের শেষ মুহূর্তের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ২২ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত আধ্যাত্মিক সংগঠন ‘ব্রহ্মকুমারী’র সদস্যারা হরিশের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। তাঁদেরই এক দিদি হরিশের কপালে টিকা লাগিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। সঙ্গে বলছেন, “সকলকে ক্ষমা করো হরিশ। সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও। এখন যাও ঠিক আছে।” দেখা যাচ্ছে, হরিশের মাথায় তিনি যখন হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন তাঁর ঠোঁট কাঁপছে। মহিলার মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তিনি।”
“Final farewell to Harish Rana. After 13 years in coma, he has reached Delhi AIIMS where life support will be withdrawn. Heartbreaking moment for his parents who cared for him tirelessly, knowing he would never wake up. Om Shanti🙏💔
— Ghar Ke Kalesh (@gharkekalesh) March 15, 2026
উল্লেখ্য, হরিশ রানা পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়েরই পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন। এর পর থেকেই তিনি কোমাতে রয়েছেন। চিকিৎসকদের সমস্ত রিপোর্ট বিস্তারিত পরীক্ষা করার পর সম্প্রতি আদালত হরিশের ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে ফেলে তাঁকে নিষ্কৃতি মৃত্যু দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন, হরিশের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তার পরে ওই যুবকের অভিভাবকেরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানেই ঐতিহাসিক রায় দেন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ।
এদিন হরিশকে তার গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে এইমস-এ নিয়ে যাওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর বাবা-মা এবং ভাই-সহ সেখানে উপস্থিত সকলেই। ছেলেকে বিদায় জানিয়ে হরিশের বাবা অশোক পরিবারের সকল সদস্যের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, “অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাদের বাধ্য হয়েই এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ বধূ
-
‘খুব বাঁচা বেঁচেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ’, রচনার সুরবদলের পরই কেন একথা বললেন মনোরঞ্জন?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! ১০৫০ দিন পর সিরিজ হার ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের