Turkman Gate

দেশের প্রথম বুলডোজার অ্যাকশন দিল্লির তুর্কমান গেটেই! ৫ দশক পর ফিরল সঞ্জয় গান্ধীর স্মৃতি

জরুরি অবস্থার দুঃসহ স্মৃতি ফিরল তুর্কমান গেটে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ১৫:৩৯

options
link
দেশের প্রথম বুলডোজার অ্যাকশন দিল্লির তুর্কমান গেটেই! ৫ দশক পর ফিরল সঞ্জয় গান্ধীর স্মৃতি

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ১৯৭৬ সালের এপ্রিল মাস। দেশে জরুরি অবস্থা চলছে। প্রধানমন্ত্রী পদে ইন্দিরা গান্ধী বসে রইলেও প্রশাসনের ভার অনেকাংশে চলে গিয়েছে তাঁর ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর হাতে। অন্তত নিন্দুকেরা তাই বলতেন। সেসময় দিল্লির তুর্কমান গেট পরিদর্শনে গিয়ে সেই সঞ্জয় গান্ধী বললেন, “আমি চাই, তুর্কমান গেট থেকে জামা মসজিদ স্পষ্ট দেখা যাক।” সঙ্গে ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত তৎকালীন ডিডিএ ভাইস চেয়ারম্যান জগমোহন মালহোত্রা।

Advertisement

সঞ্জয় গান্ধীর সেই ‘ইচ্ছা’কে আদেশ হিসাবে গ্রহণ করলেন জগমোহন। অন্য উপায়ও ছিল না। কারণ ওই ইচ্ছাপূরণ না হলে যে শাস্তির খাড়া তাঁর উপরও নেমে আসত। সঞ্জয় গান্ধীর সেই ‘আদেশে’ মেনেই জগমোহন সিদ্ধান্ত নেন তুর্কমান গেট থেকে জামা মসজিদের মাঝখানে থাকা সমস্ত বসতি ও নির্মাণ ভেঙে ফেলা হবে। ১৩ এপ্রিল, ১৯৭৬ সেখানে পৌঁছে যায় বুলডোজার। প্রথমে মানুষকে শান্ত রাখতে ফুটপাত ভাঙা শুরু করা হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘরবাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বসতিবাসীকে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সেই উচ্ছেদ অভিযান চলে বেশ কিছুদিন। ১৯৭৬ সালের ১৯ এপ্রিল প্রায় ৫০০ মহিলা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে উচ্ছেদস্থলে জড়ো হন। হাতে কালো ফিতে বেঁধে তাঁরা বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামলাতে সিআরপিএফ নামানো হয়। উত্তেজিত জনতা ধ্বংসস্তূপ থেকে পাথর ছুড়তে শুরু করে। পালটা গুলি চালায় পুলিশ ও সিআরপিএফ। সরকারি হিসাবে সেদিন মাত্র ৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু অনেকে বলেন বেসরকারি হিসাবে সেটা দেড়শো পেরিয়েছে। বহু মানুষ আহত হন। সেই উচ্ছেদ অভিযানে নাকি ৭ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হন। অভিযোগ, এসব নিয়ে স্থানীয় সাংসদ সঞ্জয়ের কাছে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তিনি তাঁকে পাত্তাই দেননি। অনেকে বলেন, সঞ্জয় নাকি ওই তুর্কমান গেটের বসতি এলাকাকে ‘মিনি পাকিস্তান’ হিসাবে দেখতেন। স্রেফ সৌন্দর্যায়নের নামে গোটা বসতি গুঁড়িয়ে দেন। বস্তুত আজকে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে যে ‘বুলডোজার জাস্টিস’ নিয়ে এত সমালোচনা হচ্ছে সেটার শুরু হয়েছিল সঞ্জয় গান্ধীর হাত ধরেই।

Advertisement

এই ইতিহাস নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে ওই তুর্কমান গেটের কাছে দিল্লি পুরসভা নতুন করে বুলডোজার চালানোয়। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার মধ্যরাতে দিল্লির ফৈজ-ই-ইলাহি ও তুর্কমান গেটের কাছে বুলডোজার অভিযান চালায় পুরসভা। গোটা এলাকায় বসানো হয় ব্যারিকেড। বুলডোজার অ্যাকশন শুরু হতেই সেখানে জড়ো হয় বিরাট ভিড়। অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে বাধা দেন তাঁরা। সে দাবি গ্রাহ্য করেনি প্রশাসন। ভাঙা শুরু হতেই পুলিশের উপর হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট ও পাথরের টুকরো। হামলায় অন্তত ৫ জন পুলিশকর্মী আহত হন। এই অবস্থায় পালটা জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বহু মানুষ আহত হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অনেকের মনে পড়ছে ৫০ বছর আগের কথা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন