Bangladeshi Arrested

প্রাণের ভয়ে দেশছাড়া! গ্রেপ্তারির পরও সঙ্গী গিটার, ভিসার মেয়াদ ফুরানোয় ধৃত বাংলাদেশি গায়ক-সহ ৬

ধৃতদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাঁরা মূলত বাংলাদেশের নোয়াখালি, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা। বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতিতে গত বছর ৬ জনই আলাদাভাবে দেশছাড়া হন।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১২:১৩

options
link
প্রাণের ভয়ে দেশছাড়া! গ্রেপ্তারির পরও সঙ্গী গিটার, ভিসার মেয়াদ ফুরানোয় ধৃত বাংলাদেশি গায়ক-সহ ৬
প্রতীকী ছবি।

বাংলাদেশে ফিরতে ভয়। তাই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও  লুকিয়ে কলকাতায়। এক হোটেল থেকে অন‌্য হোটেলে। কিন্তু পার্ক স্ট্রিটের একটি হোটেলে বিদেশি বোর্ডারদের পাসপোর্ট, ভিসা পরীক্ষা করতে গিয়েই অবাক হয়ে যান পুলিশ আধিকারিকরা। দীর্ঘদিন ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও একটি হোটেলের রুম ভাড়া নিয়ে রয়েছেন ৬ জন বাংলাদেশি। এই খবরের ভিত্তিতে পার্ক স্ট্রিট থানার আধিকারিকরা কলিন স্ট্রিটের একটি হোটেলে হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করলেন ৬ জন বাংলাদেশিকে (Bangladeshi Arrested)।

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, এই বাংলাদেশি যুবকরা প্রত্যেকেই আওয়ামি লিগের সদস‌্য। বাংলাদেশ অশান্ত হওয়ার পর আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে মেডিক‌্যাল ভিসা নিয়ে পালিয়ে আসেন কলকাতায়। তাঁদের কাছ থেকে ৬টি বাংলাদেশের বৈধ পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে। ধৃতরা হচ্ছেন আবির হোসেন, মহম্মদ মামুন রশিদ, মহম্মদ আলিমুন গাজি, আজম মোল্লা, ফয়জল আমিন, জায়দুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে আজম মোল্লা বাংলাদেশের গায়ক। কলকাতায় আসার পরও পরিচিত মহলে গান গেয়ে বেড়িয়েছেন। রবিবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আজম নিজের গিটারও হাতছাড়া করতে চাননি। পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ আধিকারিকদেরও অনুরোধ জানান, যাতে তাঁকে গান গাইতে দেওয়া হয়। যদিও সোমবার তাঁদের ব‌্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে ৬ জনকেই ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

Advertisement

গত বছরের নভেম্বর থেকে তাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হতে থাকে। জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যেকেরই ভিসা শেষ হয়ে যায়।

পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, ধৃতদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাঁরা মূলত বাংলাদেশের নোয়াখালি, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা। বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতিতে গত বছর ৬ জনই আলাদাভাবে দেশছাড়া হন। শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে চিকিৎসার কারণে তাঁরা ভিসা নিয়ে কলকাতায় এসে পৌঁছন। এখানে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ক্রমে হোটেল পালটে পালটে থাকতে শুরু করেন। এখানে কাজেরও খোঁজ করেন কয়েকজন। এর মধ্যে গায়ক আজম মোল্লা পরিচিতদের মহলে গানও গাইছিলেন।

Advertisement

গত বছরের নভেম্বর থেকে তাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হতে থাকে। জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যেকেরই ভিসা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্রাণের ভয়ে কেউ বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাননি। বরং কলকাতা থেকে বিদেশে পালিয়ে সেখানে চাকরির ছক কষছিলেন। শেষ পর্যন্ত দিন সাতেক আগে কলিন স্ট্রিটের হোটেলটিতে উঠে থাকতে শুরু করেন। হোটেল পরীক্ষার সময় গ্রেপ্তার হন তাঁরা। গ্রেপ্তারির পরও ধৃত বাংলাদেশি তথা আওয়ামি লিগের সদস‌্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁরা দেশে ফিরতে চান না। যদিও সাজার মেয়াদের শেষে আইন মেনেই তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব‌্যাক’ করার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.