মাসের পর মাস কেটে গেলেও গ্রেপ্তার হননি অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। এই মামলায় বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর তোপের মুখে সিআইডি। কলকাতা হাই কোর্টের প্রশ্ন, একজন ‘নিখোঁজ’ বিডিও কীভাবে মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন:
বিধাননগরে দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার অপহরণ এবং খুনে মূল অভিযুক্ত হিসাবে নাম জড়ায় রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত। ওই অপহরণ-খুনের মামলায় যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কোচবিহারের তৃণমূল নেতা সজল সরকার। গ্রেপ্তারির সময় তিনি ছিলেন কোচবিহার-২ ব্লকের সভাপতি। জামিন চেয়ে তিনি কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন। ধৃতের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। দিন কয়েক আগে নিউটাউনে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটান পালিয়ে বেড়ানো প্রশান্ত। গ্রেপ্তার হওয়ার পরের দিনই তিনি জামিন পেয়ে যান। সজলের বক্তব্য, অপহরণ এবং খুনে মূল অভিযুক্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হয়নি। তাঁকে হাতের নাগালে পেয়েও প্রশান্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সজলের আইনজীবীর সওয়াল, তাঁর মক্কেলকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আর এদিকে, ‘নিখোঁজ’ বিডিও মাসের পর মাস মোটা অঙ্কের বেতন পাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবারই বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “সরকারি কর্মী হিসাবে প্রতি মাসে বেতন নিচ্ছেন। অথচ হাই কোর্টে এসে রাজ্যের তরফে ওই আধিকারিক নিখোঁজ। এটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? বিডিওর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা রয়েছে। অথচ সিআইডি বলছে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের হুঁশ নেই কেন? এটা বিরলের মধ্যে বিরলতম। ওঁর নাম চার্জশিটে নেই।” প্রশান্ত বর্মনের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট আপনার মক্কেলের জামিন খারিজ করে দিয়েছিল তো? আপনি সুপ্রিম কোর্টেরও নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন? আপনি তো প্রভাবশালী ব্যক্তি।” এরপর অতিরিক্ত অ্য়াডভোকেট জেনারেলের উদ্দেশে বিচারপতির নির্দেশ, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অভিযুক্তকে খুঁজে বের করুন। কেন একজন ‘নিখোঁজ’ আধিকারিককে বেতন দেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেন। আগামী ৩ সপ্তাহ পর এই মামলার শুনানি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানি, আসতে পারে প্রতিনিধি দল, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
-
সিএপিএফ মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন ডেরেকের, আলোচনা হবে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে
-
উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে বাংলাতেও হোক প্রতিরক্ষা শিল্প করিডর, আর্জি শমীকের
-
সংঘের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক রাজ্য বিজেপির, লক্ষ্মীবারে দিল্লিতে এক টেবিলে শমীক-শুভেন্দু
-
একবারেই কর্মীদের ৭ বছরের বকেয়া ডিএ মেটাবে সরকার, বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের