জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা থেকে মানুষ বঞ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তার জবাবদিহি করতে হবে। মাসিক রিপোর্টে যে প্রশাসনের শীর্ষমহল আর সন্তুষ্ট হবে না, সেটাও দপ্তরের সচিবদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে নবান্ন। প্রশাসনের অন্দরের খবর, শীর্ষ মহল মনে করছে প্রকল্পের অর্থ কিংবা সুবিধা তৃণমূলস্তরে প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছোনোয় কিছুটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এরপরই মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল (Manoj Kumar Agarwal) একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন, যা ইদানিংকালের মধ্যে কড়া নির্দেশাবালি বলেই মনে করছেন অফিসাররাও। সাফ জানানো হয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনা, আবাসের মতো প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করা হলেও সময়ে উপভোক্তা তা পাচ্ছে না। এটা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে নির্দেশিকায় সরাসরি ইঙ্গিত দিয়ে জানানো হয়েছে, দপ্তরের সচিবকে বিষয়টিতে কড়া নজর রাখতে হবে। বিন্দুমাত্র এদিক-ওদিক হলে তা জানাতে হবে মুখ্যসচিবকে।
আরও পড়ুন:
কতজন উপভোক্তা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, যাঁরা পাননি তাঁরা কেন পাচ্ছেন না, এমন খুঁটিনাটি তথ্য দিয়ে সপ্তাহান্তে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বিজেপি-সরকার ক্ষমতায় আসার ১০০ দিন পার হতে চলেছে। মন্ত্রী এবং শীর্ষ কর্তারা বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে এরমধ্যেই একাধিকবার বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকের পর মন্ত্রীদের মনে হয়েছে দপ্তরের রিপোর্ট এবং গ্রাউন্ড রিয়েলিটির মধ্যে ফারাক রয়েছে। এরপরই এনিয়ে শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়। নবান্ন সূত্রে খবর, একাধিক প্রকল্পকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে টাকা পাওয়ায় বেশ কিছু কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবার যোজনার টাকা বরাদ্দ করা হলেও বিভিন্নক্ষেত্রে জট না কাটায় উপভোক্তা শেষ পর্যন্ত বঞ্চিত থেকেছেন। ১২৫ দিনের কাজ অর্থাৎ জি রাম জি প্রকল্পের টাকার কোনও সমস্যা নেই। অথচ তৃণমূলস্তরে সেই কাজের বণ্টন ঘটেনি। যদিও এক্ষেত্রে পঞ্চায়েতগুলোতে রাজনৈতিক টালবাহানা অন্যতম কারণ হলেও তারপর ক্ষমতা প্রশাসনিকস্তরে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজে গতি আসেনি।
অ-চিরাচিরত শক্তিতে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রীর সূর্যঘরের মতো প্রকল্প হাতে নিয়েছে নয়া সরকার। মিলেছে কেন্দ্রীয় সাহায্যও। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মানুষকে উৎসাহিত করে প্রকল্পে সামিল করার ক্ষেত্রে সেই উদ্যোগ নেই। এইসব প্রকল্পের হাল নজরে আসার পর মুখ্যসচিবের তরফে দপ্তরগুলোকে চিঠি দিয়ে নিয়মিত নজরদারি করতে বলা হয়েছে। রবিবার রাজ্যে উদ্বোধন হওয়া আয়ুস্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও উপভোক্তার কোনও সমস্যা না হয়, তা দেখতে বলা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও ক্ষেত্রের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে নিয়মিত নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে অন্নপূর্ণা প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জি রাম জি, প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর, আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা এবং রাজ্য সরকারি সংস্থাগুলিকে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব।
নির্দেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের নিজেদের দপ্তরের প্রকল্পগুলির কাজ ব্যক্তিগত ভাবে নজরে রাখতে হবে। প্রকল্পের সুবিধা যাতে সময়মতো এবং সঠিক ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান সচিব ও অন্য সচিবদের এই নির্দেশ দিয়েছেন। চিহ্নিত প্রকল্পগুলির অগ্রগতি প্রতি সপ্তাহে পর্যালোচনা করা হবে। একইসঙ্গে এও জানানো হয়েছে, কাজের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা বা বাধা তৈরি হলে তা দ্রুত মুখ্যসচিবের নজরে আনতে হবে। প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করে সমস্যা মেটানোর ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্ব স্পষ্ট করে দেওয়া ও কাজে কোনও গাফিলতি হলে তার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ হিসেবে বিবেচনা করার কথাও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গুরুত্ব বাড়ছে নতুন প্রজন্মের! এবার নন্দনে জেন জি চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন, কী বললেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’?
-
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, ফের পাক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি গাভাসকর, কপিল-সহ ২১ প্রাক্তন অধিনায়কের
-
আনন্দপুরে পরিচারিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছুরির কোপ! ফিল্মি কায়দায় চলন্ত ট্রেন থেকে রাঁধুনীকে ধরল পুলিশ
-
বরফ কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক! অসুস্থ শিশু-সহ কমপক্ষে ২৫, উত্তপ্ত হাড়োয়া
-
রাখিতে গেজেটপ্রেমী ভাই-বোনকে কী দেবেন ভাবছেন? রইল দারুণ গিফটের আইডিয়া