CJP Protest

‘জাত অপরাধী’, ধর্মতলায় ‘হামলাকারী’দের কয়েকজন আগেই চিহ্নিত! পুলিশ হেফাজতে ধৃত ১৪

রবিবার এই মামলায় ব্যাঙ্কশাল আদালতে দীর্ঘ সওয়াল-জবাবে জড়িয়ে পড়েন দু'পক্ষের আইনজীবীরা।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১৭:৫৬

options
link
‘জাত অপরাধী’, ধর্মতলায় ‘হামলাকারী’দের কয়েকজন আগেই চিহ্নিত! পুলিশ হেফাজতে ধৃত ১৪
ধর্মতলায় 'ককরোচ' আন্দোলনে ধৃতদের পুলিশ হেফাজত, ফাইল ছবি

ধর্মতলায় ককরোচ পার্টির সমর্থনে মিছিল থেকে নজিরবিহীন অশান্তি, পুলিশ-সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে পাঠাল আদালত। রবিবার ধৃত ১৪ জনকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন ব্যাঙ্কশাল আদালতের বিচারক। এই মামলার শুনানিতে এদিন দীর্ঘ সওয়াল-জবাবে জড়িয়ে পড়েন দু’পক্ষের আইনজীবীরা। উঠে আসে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যাচ্ছে, ধৃত ১৪ জনের মধ্যে অন্তত চারজন ‘জাত অপরাধী’ বলে আগে থেকেই চিহ্নিত। তাঁদের বিরুদ্ধে ৪ থেকে ৮টি চার্জশিট রয়েছে। তার ভিত্তিতেই সরকারি আইনজীবীর আবেদন, এরা যে কোনও অশান্তিতে মদতদাতা। পুলিশ হেফাজতে রেখে জেরা প্রয়োজন। তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুর করে ২ দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

Advertisement

রবিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে সরকারি আইনজীবী রীতিমতো তথ্যপ্রমাণ পেশ করে জানান, অভিযুক্ত ও ধৃত ইরফান খুরশেদের নামে আগে ৮টি চার্জশিট ছিল। এছাড়া আরশাদ আলি, জামির আহমেদদের নামে ২টি করে ও ইমরান আহমেদের বিরুদ্ধে ৪টি চার্জশিট। এরা ‘ট্রাবল মঙ্গার’ বা ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’ বলে আগে থেকেই চিহ্নিত।

শুক্রবার ধর্মতলার ছাত্র-যুবদের আয়োজিত ওই মিছিল শেষে বড়সড় অশান্তির সাক্ষী ছিল প্রতিবাদের শহর কলকাতা। সাংবাদিকরা খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। তার আগে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় জুতো, বোতল। লাঠি-পাথর ছোড়ার অভিযোগও ওঠে। এনিয়ে শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারি ও কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সেই বার্তার পর রাতারাতি অশান্তির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের রবিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়েছিল। সেখানেই সরকারি আইনজীবী রীতিমতো তথ্যপ্রমাণ পেশ করে জানান, অভিযুক্ত ইরফান খুরশেদের নামে আগে ৮টি চার্জশিট ছিল। এছাড়া আরশাদ আলি, জামির আহমেদদের নামে ২টি করে ও ইমরান আহমেদের বিরুদ্ধে ৪টি চার্জশিট। এরা ‘ট্রাবল মঙ্গার’ বা ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’ বলে আগে থেকেই চিহ্নিত।

Advertisement

তার আগে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী জোরদার সওয়াল করে বলেন, ‘‘১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা কেউ দেশদ্রোহী নন, সন্ত্রাসবাদী নন। দেশজুড়ে নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আন্দোলন চলছে। কলকাতাতেও ককরোচ জনতা পার্টি একটা আন্দোলন ডেকেছিল। এটা শুধুই ছাত্র আন্দোলন নয়। এখানে প্রচুর মানুষ নিজেদের উৎসাহে এসেছিলেন। কলকাতা সচেতনতার শহর। তাই সচেতন নাগরিক পথে নেমেছেন। ছাত্রদের সঙ্গে অভিভাবকরা এসেছেন। ছাত্র সংগঠনের তরফে মিছিল, জমায়েতের অনুমতি নেওয়া ছিল। অনুমতি না থাকলে ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসতে পারতেন না। তাও বলা হচ্ছে প্রভাবিত করা হয়েছ, উসকানি দেওয়া হয়েছে। এদের জামিনের আবেদন জানাচ্ছি।”

Advertisement

সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, ‘‘ওঁরা তো পুলিশকে অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। ওঁদের সরে যেতে বলা হয়, তারপরই পুলিশকে উদ্দেশ্য করে জলের বোতল, পাথর, জুতো ছুঁড়ে মারতে শুরু করল। মারধর করা হল সাংবাদিকদের।সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অধিকার সকলের আছে। কিন্ত ওঁরা অশান্তি পাকিয়েছন, ভায়োলেন্স ছড়ানো হয়েছে।” বিচারক সরকারি আইনজীবীর কাছে তথ্যপ্রমাণ দেখতে চান। তা দেখার পর ধৃতদের ২দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.