রাহুল সিনহা, বিজেপি

ফ্ল্যাট জবরদখল করে মানিকতলায় নির্বাচনী কার্যালয়! বিপাকে রাহুল সিনহা

বিনা অনুমতিতে আবাসনে বিজেপি কর্মীদের দাপাদাপি, আদালতের দ্বারস্থ আবাসিক বৃদ্ধা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৩, ২০১৯, ১৯:৩৭

options
link
ফ্ল্যাট জবরদখল করে মানিকতলায় নির্বাচনী কার্যালয়! বিপাকে রাহুল সিনহা

শুভময় মণ্ডল: বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার নির্বাচনী অফিস ঘিরে বিতর্ক। উত্তর কলকাতার মানিকতলায় সিআইটি রোডে সেই কার্যালয়কে ঘিরে গত ৪৮ ঘণ্টায় বহু ঝড় বয়েছে। বিতর্কের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। এই নিয়ে মানিকতলা থানায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে ফ্ল্যাট জবরদখলের অভিযোগ দায়ের হয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। পালটা বিজেপিও অভিযোগ দায়ের করেছে থানায়। গোটা বিষয়টিই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। ভোটের ঠিক মুখে উত্তর কলকাতায় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু এখন মানিকতলায় উত্তর কলকাতার বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহার নির্বাচনী কার্যালয়।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার সিআইটি রোডে একটি আবাসনের একতলার একটি ফ্ল্যাটে নির্বাচনী কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। তারপর থেকেই যেন বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না তাঁর। একদিন পর ওই আবাসনেরই দোতলার একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা বৃদ্ধা কল্পনা বিশ্বাস এবং তাঁর দুই স্বপন ও তপন বিশ্বাস আদালতের দ্বারস্থ হন। ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করে তাঁরা অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার ওই নির্বাচনী কার্যালয়ে বিনা অনুমতিতে প্রায় ৫০০ জন রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকের আনাগোনা হয়েছে। অনধিকার প্রবেশের জন্য তাঁদের নিরাপত্তা শিকেয় উঠেছে। এত হই-হট্টগোলের জেরে তাঁরা থাকতে পারছেন না। কল্পনা দেবীর অভিযোগ, তাঁর দুই ভাই অসুস্থ, হার্টের রোগী। তাঁদের সমস্যা হচ্ছে। এই নিয়ে রাহুল সিনহা ও তাঁর দলের লোকজনকে অভিযোগও জানিয়েছেন নাকি তিনি। কিন্তু তাঁদের কোনও হেলদোল নেই তাতে। তাই বাধ্য হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তিনি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: নববর্ষে মোদি ক্যালেন্ডার-লাড্ডু হাতে জনসংযোগের ভাবনা বিজেপির]

Advertisement

কল্পনা দেবীর আরও অভিযোগ, কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ভিড় লেগেই রয়েছে ওই ফ্ল্যাটে। তার উপর বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মেন গেটের তালা ভাঙার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। স্থানীয় বিজেপি নেতা অভিজিৎ সরকার তালা ভাঙার কথা অস্বীকার করে পালটা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের দিকে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের লোকজন তাঁদের অফিসে ঢুকে হামলা চালায় এবং তালা ভেঙে দেয়। তাঁদের মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় রীতিমতো হতবাক বিজেপি প্রার্থী খোদ রাহুল সিনহাই। তাঁর বক্তব্য, ‘এই ফ্ল্যাটটি নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়। তার লিজ এগ্রিমেন্টও রয়েছে তাঁদের কাছে। বছরখানেক আগে এই ফ্ল্যাটে বিজেপিরই আইটি সেলের কার্যালয় ছিল বলে দাবি তাঁর। আর ৫০০ বা ততোধিক কর্মী-সমর্থকের আনাগোনা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, এরা কেউই গুন্ডা নয় যে, অযথা দাপাদাপি করবে। এরা প্রত্যেকেই এই কার্যালয়ের কর্মী। যেমন দলের অন্যান্য অফিসে থাকে।’

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে। তাঁর বক্তব্য, ‘ওই মহিলার অভিযোগ যথার্থ। একটি আবাসিক জায়গায় কীভাবে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী অফিস চলতে পারে? সেখানে নিত্য প্রচুর লোকজনের আসা-যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের অসুবিধা তো হবেই।’ জানা গিয়েছে, প্রথম মহেশ গোয়েল নামে এক ব্যক্তি একতলার ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। সেখানে শাড়ির ব্যবসা সংক্রান্ত কাজকর্মের জন্যই নেওয়া হয়েছিল ফ্ল্যাটটি। বর্তমানে তিনি বেপাত্তা। তাঁর নামে ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে রমরমিয়ে নির্বাচনী কাজকর্ম চালাচ্ছেন রাহুল সিনহা ও তাঁর দলের লোকজন। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। মহেশ গোয়েলের ফোন নম্বরও কারও কাছে নেই। জানা গিয়েছে, গত শনিবার পুলিশ দুপক্ষের অভিযোগ পেয়েই ওই আবাসনে গিয়ে সন্দেহজনক বহিরাগতদের হটিয়ে দিয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর পুলিশ। ডিসি (পূর্ব শহরতলি) দেবস্মিতা দাসও এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গোটা ঘটনায় রীতিমতো ফাঁপরে পড়েছেন রাহুল সিনহা। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন।

[আরও পড়ুন: ‘জামাই’ কটাক্ষের জবাব প্রচারে, সমাবেশ থেকেই তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ আলুওয়ালিয়ার]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.