ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে এবার প্রথম পশ্চিমবঙ্গ জুড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সঙ্গে। যাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না আপাতত, তাঁদের জন্য রয়েছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা’। সঙ্গে চালু থাকবে তৃণমূল সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ও। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের ত্রিফলা স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার মাঝেই ‘ওঁত’ পেতে বসে একশ্রেণির অসাধু নার্সিংহোম ব্যবসায়ীরা। স্বাস্থ্যভবনের অন্তর্তদন্তে ধরা পড়েছে ‘অনিয়ম’।
আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজ’ নামে একটি বিভাগ থাকে। প্রকল্পের এই ভাগে কোনও রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, সেখানে চিকিৎসার খরচের কোনও সীমা ধার্য করা নেই। রোগীর অস্ত্রোপচার করতে হলে সেই প্যাকেজ আলাদা। সে ক্ষেত্রে খরচের সীমা নির্দিষ্ট করা থাকে। বর্ধমানের নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের রোগীকে ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজে’ ভর্তি করিয়ে ভুয়ো বিল তৈরি করা হয়েছে।
সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের একটি নার্সিংহোম আচমকা হানা দেয় স্বাস্থ্যভবনের প্রতিনিধি দল। সেখানেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, ভুয়ো বিল তৈরি করে সাধারণ রোগীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ লুট করা হয়েছে। স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজ’ নামে একটি বিভাগ থাকে। প্রকল্পের এই ভাগে কোনও রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, সেখানে চিকিৎসার খরচের কোনও সীমা ধার্য করা নেই। রোগীর অস্ত্রোপচার করতে হলে সেই প্যাকেজ আলাদা। সে ক্ষেত্রে খরচের সীমা নির্দিষ্ট করা থাকে। বর্ধমানের নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের রোগীকে ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজে’ ভর্তি করিয়ে ভুয়ো বিল তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের এক আধিকারিক জানান, অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারের খরচ যেখানে ৩০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা, সেখানে ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজে’ ব্রেন স্ট্রোকের চিকিৎসার খরচ দেখানো হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। এ ধরনের ১৪টি ঘটনা পাওয়া গিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে যে রোগের চিকিৎসা পরিষেবা নেই, সেই ধরনের রোগীকে ভর্তি করিয়ে প্রকল্পে আছে এমন রোগের রোগী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বেসরকারি নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক সদস্যের দাবি, পূর্ব বর্ধমানের ঘটনা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। রাজ্যের প্রায় প্রতি জেলায় একাধিক বেসরকারি নার্সিংহোম, হাসপাতাল এই পথে রোজগার করে প্রতিপত্তি বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্যভবনের এক আধিকারিক জানান, “অর্থোপেডিক চিকিৎসার রোগীকে ব্রেন স্ট্রোকের রোগী সাজানোর জন্য পুরনো কোনও ব্রেন স্ট্রোকের রোগীর সেই সিটি স্ক্যান ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু রিপোর্টে লেখা রোগীর নাম, তারিখ এডিট করে দেওয়া হচ্ছে!” এ প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এ ধরনের অনেক অসঙ্গতি আছে। চুরি, দুর্নীতি, লুটের জন্যই মানুষ নতুন সরকারকে নিয়ে এসেছে। সরকারকে একটু সময় দিন। এই লুঠের বিরুদ্ধে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি কঠোর হাতে প্রথমদিন থেকে ব্যবস্থা নিয়ে যাচ্ছেন এবং তিনি আগামীদিনেও নেবেন।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গুরুত্ব বাড়ছে নতুন প্রজন্মের! এবার নন্দনে জেন জি চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন, কী বললেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’?
-
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, ফের পাক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি গাভাসকর, কপিল-সহ ২১ প্রাক্তন অধিনায়কের
-
আনন্দপুরে পরিচারিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছুরির কোপ! ফিল্মি কায়দায় চলন্ত ট্রেন থেকে রাঁধুনীকে ধরল পুলিশ
-
বরফ কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক! অসুস্থ শিশু-সহ কমপক্ষে ২৫, উত্তপ্ত হাড়োয়া
-
রাখিতে গেজেটপ্রেমী ভাই-বোনকে কী দেবেন ভাবছেন? রইল দারুণ গিফটের আইডিয়া