Kolkata

কলকাতা ভিন্ন রূপকথা, অন্য পিকচার পোস্টকার্ড

স্মৃতি আর স্বপ্নে নব অনুভূতি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২৭, ২০২১, ০৮:২৯

options
link
কলকাতা ভিন্ন রূপকথা, অন্য পিকচার পোস্টকার্ড

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: পুরসভার নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে এমন বিপুল বিজয়ে ফিরে এলেন, তৃণমূল যে আকাশ-বাতাস ছেয়ে উড়িয়ে দিতে পারল তার বিজয়বৈজয়ন্তী, প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল প্রতিবাদী, প্রতিপক্ষ, এই অবিশ্বাস‌্য অথচ কাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণ কী? যারা আজকের কলকাতায় জন্মেছে, বড় হচ্ছে, অভ‌্যস্ত হয়ে গেছে কলকাতার ক্রমবর্ধমান আধুনিকতায়, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ‌্যাচিভমেন্ট ঠিক তেমনভাবে ঠাওর করতে পারবে না, যেমনভাবে পারব আমরা, যারা জন্মেছিল এক্কেবারে এক অন‌্য কলকাতায়, আশি বছর আগে, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর সামান‌্য আগে বা পরে। সেই কলকাতা, যে-কলকাতায় আমি জন্মেছিলাম, সেই শহরটার সঙ্গে আজকের কলকাতার তুলনা করলে বলতেই হবে, আজকের কলকাতা যেন প‌্যারাশুটে করে আকাশ থেকে নেমে আসা অন‌্য এক শহর, যার সঙ্গে সেই ফেলে আসা অতীতের কলকাতার স্বভাব, চরিত্র, চাউনিবিন‌্যাস এবং সর্বোপরি দৈনন্দিন যাপন ও সরণিদ্রুতির কোনও মিল নেই। আজকের কলকাতা, বিশেষ করে গত দশ বছরে মমতা যে-কলকাতা তৈরি করলেন, সেই কলকাতা এক অন‌্য রূপকথা, ভিন্ন পিকচার-পোস্টকার্ড। মা-ব্রিজে ভোরবেলার কলকাতার সূর্যোদয়, আর সন্ধ‌্যার কলকাতার সূর্যাস্ত- আধুনিক কলকাতার এই অনস্বীকার্য দু’টি অভিজ্ঞান বুঝতে কলকাতার প্রয়োজন একজন ওয়র্ডসওয়র্থের, সেই কবি, যিনি লিখলেন টেমস-ব্রিজের উপর থেকে দেখা ভোরবেলার ঘুমন্ত লন্ডনের অপরিমেয় আবেদনের ম‌্যাজিকমায়ার কথা। গত দশ বছরে কলকাতার শুধু যে পরিবর্তন ও বিস্তৃত উন্নয়ন হয়েছে, তাই নয়, যা হয়েছে তা এক কথায়, নব জাগৃতি। কলকাতা এতটাই বদলেছে যে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে আর নিজের অতীত চেহারার কোনও আবছা আদলও দেখতে পাচ্ছে না। সুতরাং হয়তো ভাবছে, সে বুঝি চিরকালই এমন ছিল।

Advertisement

[আরও পড়ুন: গ্রুপ ডি কর্মীর মৃত্যুতে ধুন্ধুমার মেডিক্যাল কলেজে, নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর]

আমাদের ছেলেবেলায় কেমন ছিল কলকাতা, একটু বলে নিই। সেই কলকাতায় প্রতি বছর নিতে হত স্মলপক্সের টিকে। প্রতি বছর হাতের মাঝখানে ক্রিকেট উইকেটের মতো তিনটে চেরা ক্ষত, সামান‌্য রক্তের দাগ! তবুও স্মলপক্সের প্রাবল‌্য দেখা দিত প্রতি বছর। কত মানুষ মারা যেত এই অসুখে! কত মানুষ বেঁচে থাকত শরীরে মায়েরদয়ার ভয়ংকর চিহ্ন নিয়ে। আমাদের কলকাতায় প্রায় প্রতি বছর গ্রীষ্মে কলেরা দেখা দিত মহামারী রূপে। আর টাইফয়েডের কোনও চিকিৎসা ছিল না। সত্যি বলতে, সেই কলকাতায় ছিলেন বটে বিধানচন্দ্র রায়ের মতো ডাক্তার, কিন্তু শহরের চিকিৎসা ব‌্যবস্থা তখনও ছিল আঁতুড়ঘরে। কী করে যে বেঁচে থাকলাম, সে আমার বাপের ভাগ্যি। ছেলেবেলায় ডিপথিরিয়া হয়েছিল আমার। সেই আসুরিক চিকিৎসার কথা মনে আছে। এখন তো ডিপথিরিয়া অসুখটার নামই শুনতে পাই না। আর আজকের বঙ্গে পাওযা যাচ্ছে চিকিৎসার খরচের জন‌্য স্বাস্থ‌্যসাথী কার্ড! দশ বছর আগেও কেউ ভাবতে পেরেছিল সারা বাংলার চিকিৎসা ব‌্যবস্থা, আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধের এমন আমূল পরিবর্তন হবে! আমার মনে পড়ে যাচ্ছে, এই কলকাতায় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের অপারেশন হল তাঁর জোড়াসাঁকোর বাড়ির বারান্দায়! আর এক সপ্তার মধ্যে তিনি মারা গেলেন অসহনীয় যন্ত্রণায়!

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

গত দশ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আধুনিক শহর চেতনার সৌজন্যে যে কাণ্ডটা ঘটিয়েছেন, তা শুধু উড়ালপুলের আশ্চর্য গতি ও দূরত্ব কমানোর সহজ তৎপরতা নয়, তা শুধু নয় মলসংস্কৃতির অতি আধুনিক ঝলমলে বিপণন! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত দশ বছরে এমন একটি কলকাতার প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছেন, যে-কলকাতার মূল‌্যবোধে, রুচিতে, মানস চাহিদা ও গঠনে, ব‌্যবহারে, যাপনে, রীতিনীতিতে এবং পানাহারে এসেছে আমূল বিবর্তন! শহরের মানুষকে বদলে দিয়েছেন মমতা। কোনও জোর করে, চাপ দিয়ে বদলানো নয়। কোনও রাজনৈতিক স্লোগান তুলে পাল্টে দেওয়া নয়। মানুষদের মধ্যে ভিতর থেকে তিনি জাগিয়ে তুলতে পেরেছেন এক নতুন শহুরে-চেতনা, শহুরে হয়ে-ওঠার দীক্ষা, এক অনিবার্য আন্তর্জাতিকতা! একটি আধুনিক শহর শুধু দেয় না। শহরবাসীর কাছে আধুনিক শহরের দাবি ও চাহিদাও কম নয়। সবচেয়ে বড় দাবি শহরবাসীর ভালবাসা। গত দশ বছরে কলকাতাকে আমরা যেভাবে ভালবাসতে শিখেছি, আগে কখনও সেভাবে ভালবাসিনি। কলকাতাকে নতুন চোখে দেখে, নতুন মহিমা ও অবতারে আবিষ্কার করে, নতুন ভঙ্গিতে ও বন্ধুত্বে তাকে পেয়ে আজকের কলকাতাকে ভালবাসছি আমরা। কলকাতার প্রতি এই ভালবাসা কয়েক বছর আগেও কি আমাদের ছিল? ছিল না। আমাদের এই কলকাতা-প্রেম আমাদের নতুন শহর চেতনার অবদান, যা খুব ধীরে গড়ে তুললেন মমতা সাবলীল সৌষ্ঠবে!

Advertisement

তবু বলব, আরও অনেক কাজ বাকি, যে বাকি কাজ একমাত্র মমতার পক্ষেই করা সম্ভব, সব বাধা টপকে! এই আস্থাতেই মানুষ তাঁকে ফিরিয়ে এনেছে কলকাতার সেবা ও সার্বিক উন্নয়নের কাজে। মমতা তাঁর নিজের ধরনেই সেই কাজ করবেন। প্রকৃতি যেমন করে ফুল ফোটায়, নিয়ে আসে ভোরবেলার আলো ও আকাশ, তেমনি সাবলীল মাধুর্যেই মমতা করবেন কলকাতাকে ফুটিয়ে তোলার বাকি কাজ। কোনও তাড়াহুড়ো থাকবে না সেই কাজে। কলকাতা ফুটবে ভিতর থেকে নিঃশব্দে পাপড়ি মেলতে-মেলতে। কোনও স্লোগান তুলে নয়। প্রকাশের সুগন্ধ ছড়িয়ে ফুটবে আগামিদিনের কলকাতা! মমতার অবদান ও অভিপ্রায়ের নির্মিতিতে।

[আরও পড়ুন: বাংলায় আরও বাড়ছে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা? সন্দেহভাজনের তালিকায় বিদেশফেরত ৪]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.