Kolkata Police

নিষিদ্ধ অ্যাপে মধুর ‘ফাঁদ’, অশ্লীল ভিডিও তুলে যুবকের দেড় লাখ হাতানো! ধৃত কলকাতার মেধাবী ছাত্রী!

নতুন পদ্ধতিতে সেক্সটরশন! নিষিদ্ধ চিনা অ্যাপের ভারতীয় সংস্করণ তৈরি করে দেশজুড়ে চলছে সেক্সটরশন চক্র! এই অ্যাপের মাধ্যমেই শহরের এক যুবকের ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা হাতানোর অভিযোগ। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল বিমানসেবিকা কোর্সের এক মেধাবী ছাত্রী।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩, ২০২৬, ২০:৪৯

options
link
নিষিদ্ধ অ্যাপে মধুর ‘ফাঁদ’, অশ্লীল ভিডিও তুলে যুবকের দেড় লাখ হাতানো! ধৃত কলকাতার মেধাবী ছাত্রী!
ধৃত কলকাতার মেধাবী ছাত্রী! ছবি-এআই

নতুন পদ্ধতিতে সেক্সটরশন! নিষিদ্ধ চিনা অ্যাপের ভারতীয় সংস্করণ তৈরি করে দেশজুড়ে চলছে সেক্সটরশন চক্র! এই অ্যাপের মাধ্যমেই শহরের এক যুবকের ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা হাতানোর অভিযোগ। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল বিমানসেবিকা কোর্সের এক মেধাবী ছাত্রী। রবিবার ওই তরুণীকে উত্তর শহরতলিতে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন পূর্ব কলকাতার মানিকতলা থানার আধিকারিকরা।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণী রীতিমতো মেধাবী ছাত্রী। উত্তর শহরতলির নামি স্কুল ও কলেজে পড়ত সে। কলেজ থেকে পাস করার পর বিমানসেবিকা কোর্সে ভর্তি হয় তরুণী। এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হয় চণ্ডীগড়ের এক যুবতীর সঙ্গে। যুবতীর মাধ্যমে বা রেফারেন্সে ওই সেক্সটরশন অ্যাপটিতে এজেন্ট হিসাবে যোগ দেয় সে। একটি আন্তঃরাজ্য চক্র ওই নিষিদ্ধ চিনা অ্যাপের ভারতীয় সংস্করণ তৈরি করেছে। কিছু টাকা খরচ করলে ওই অ্যাপে যোগ দেওয়া যায়। 

Advertisement

ওই বিমানসেবিকা কোর্সের ছাত্রীর সঙ্গে অ্যাপেই পরিচয় হয় মানিকতলা এলাকার যুবকের। তরুণী অভিযোগকারী যুবকের কাছে নিজেকে ‘অনু’ বলে পরিচয় দেয়। প্রথমে সাধারণ চ্যাট হয় তাঁদের মধ্যে। এরপর শুধু হয় ভিডিও চ্যাট। সব ক্ষেত্রেই সেই ভিডিওর ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ হয়।

নিছক মজার জন্য সারা দেশের বহু যুবক ও যুবতী ওই অ্যাপে যোগ দেন। সারা দেশ জুড়েই তরুণ ও তরুণীরা এজেন্ট। তরুণরা টার্গেট করে মহিলাদের। অ্যাপে দেখা গিয়েছে, অনেক মহিলা, যাঁদের বয়স একটু বেশি, তাঁরা তরুণদের সঙ্গে চ্যাটে ‘ঘনিষ্ঠ’ হন। সেই সুযোগ নিয়ে ওই মহিলাদের অশ্লীল ভিডিও তুলে রেখে তাঁদের হুমকি দিয়ে সেক্সটরশন করা হয়! যেখানে এজেন্টরা তরুণী, সেখানে তারা টার্গেট করে যুবকদের।

Advertisement

এই ক্ষেত্রে ওই বিমানসেবিকা কোর্সের ছাত্রীর সঙ্গে অ্যাপেই পরিচয় হয় মানিকতলা এলাকার যুবকের। তরুণী অভিযোগকারী যুবকের কাছে নিজেকে ‘অনু’ বলে পরিচয় দেয়। প্রথমে সাধারণ চ্যাট হয় তাঁদের মধ্যে। এরপর শুধু হয় ভিডিও চ্যাট। সব ক্ষেত্রেই সেই ভিডিওর ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ হয়। ভিডিওয় যে অশ্লীলতা দেখানো হয়, তার ভিত্তিতে কমেন্ট ও লাইক পড়ে। অ্যাপের যে সদস্যরা এই ভিডিওর সরাসরি সম্প্রচার বা ‘লাইভ’ দেখেন, তাঁদের টাকা দিতে হয়। এবার সেই তরুণী এজেন্টরা ফোনের বিপরীতে থাকা ব্যক্তিটিকে সেক্সটরশন শুরু করে। 

অভিযোগ, উত্তর শহরতলির তরুণী ওই অশ্লীল ভিডিও রেকর্ড করে। রীতিমতো পেশাদার সাইবার জালিয়াতদের আদলেই যুবককে ওই অশ্লীল ভিডিও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই পদ্ধতিতেই যুবকের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তরুণী।

অভিযোগ, উত্তর শহরতলির তরুণী ওই অশ্লীল ভিডিও রেকর্ড করে। রীতিমতো পেশাদার সাইবার জালিয়াতদের আদলেই যুবককে ওই অশ্লীল ভিডিও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই পদ্ধতিতেই যুবকের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তরুণী। এরপরও হুমকি দিয়ে যুবকের কাছ থেকে আরও টাকা চায় ওই ছাত্রী। এরপরই যুবক মানিকতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে পুলিশ ওই অ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তদন্ত শুরু করে।

জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় একেকটি নাম ব্যবহার করত ‘অনু’ নামে ওই তরুণী। তবুও তার ছবি খতিয়ে দেখে ও মোবাইলের সূত্র ধরে তরুণীকে পুলিশ শনাক্ত করে। তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা ও এই রাজ্যে তার মতো কতজন এজেন্ট রয়েছে, পুলিশ জানতে চাইছে। তাদের সন্ধানেও তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.