অর্ণব আইচ: শুরু হয়েছিল ক্রিসমাস ইভ থেকে। বড়দিনের বিকেল থেকে পার্ক স্ট্রিটে জমে ওঠে মানুষের ভিড়। বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পার্ক স্ট্রিট পরিণত হল ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’-এ। রাত ন’টা পর্যন্ত এই রাস্তায় কোনও গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হয়নি। শহরের বিভিন্ন কড়া নজরদারি চালিয়েছে পুলিশ, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৬ জনকে।
মহিলাদের সুরক্ষা দিতে পার্ক স্ট্রিট, ভিক্টোরিয়া, চিড়িয়াখানা থেকে শুরু করে শহরময় দাপিয়ে বেড়াল কলকাতা পুলিশের মহিলা বাহিনী উইনার্স ও ওয়ারিয়র্স। এক্স ক্যালিবার স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে পার্ক স্ট্রিটের ভিড়ের মধ্যেও কড়া নজর ছিল মহিলা পুলিশ বাহিনী ‘ওয়ারিয়র্স’-এর। আবার ‘উইনার্স’-এর সদস্যারাও স্কুটি করে চালান কড়া নজরদারি। বড়দিনে পার্ক স্ট্রিট ও শহরের অন্য অংশের নিরাপত্তায় রাস্তায় নামেন লালবাজারের পুলিশকর্তারা। পুলিশ কমিশনার নিজেও পুরো বিষয়টি মনিটরিং করেন। লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, শুধু বড়দিনের আগের রাত অর্থাৎ ক্রিসমাস ইভেই শহরে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে মোট ১ হাজার ৭২৬ জন। বড়দিনেও শহরে গোলমাল ও অভব্যতার অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে আরও বেশ কয়েকজন। সম্প্রতি হেলমেট না পরে বাইক চালানোয় একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তাই ক্রিসমাস ইভ থেকেই হেলমেট না পরে বাইক চালানো ও ট্রিপল রাইডিং রুখতে ৭৫৮ জনকে ধরা হয়েছে।
[আরও পড়ুন: শব্দকে জব্দ করতে নয়া পদক্ষেপ, রাজ্যজুড়ে ৫৮টি বিশেষ যন্ত্র বসাচ্ছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ]
পুলিশ জানিয়েছে, ক্রিসমাস ইভেই কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে চালানো হয় ব্লক রেইড। গভীর রাত পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে ছিল নাকা চেকিং। রাতে যাতে বাইক আরোহীরা ট্রাফিক আইন না ভাঙে, সেদিকও ছিল পুলিশের নজর। বড়দিনের আগের রাস্তায় অভব্যতা করার অভিযোগে পার্ক স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকা ও শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ৫৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৪ জনকে। এ ছাড়াও লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে মোট ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ ও থানার পক্ষ থেকে রাতে বেপরোয়া বাইক চালকদের উপরও নজর চালানো হয়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় নাকা চালিয়ে হেলমেটবিহীন অবস্থায় বাইক চালানোর অভিযোগে ৪৯৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাইকে ‘ট্রিপল রাইডিং’ বা তিনজন আরোহী থাকার অভিযোগে ২৬২ জনকে ধরা হয়েছে। ক্রিসমাস ইভ ও বড়দিনে পানশালা থেকে মদ্যপান করার পর গাড়ি চালান অনেকেই। মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে ১০৬ জন চালক। বেপরোয়াভাবে গাড়ি ও বাইক চালানোর অভিযোগে পুলিশ ধরেছে ৬৬ জনকে। এ ছাড়াও জামিন অযোগ্য পরোয়ানা থাকার কারণে ১৪৩ জনকে ও জুয়ার আসর চালানোর অভিযোগে ন’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিরাপত্তার জন্য পার্ক স্ট্রিটে ওয়াচ টাওয়ার থেকে বাইনোকুলারে নজরদারি রাখেন পুলিশকর্মীরা। বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে কুড়িটি অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। পার্ক স্ট্রিট ফ্লাইওভার থেকে যাতে কেউ বোতল বা অন্য কিছু নিচে মানুষের উপর না ছোড়ে, তার জন্য বসানো হয়েছে ভিউ কাটার। যেহেতু বিকেল চারটে থেকেই পার্ক স্ট্রিটকে ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল, তাই ওই রাস্তায় কেউ ঢুকলে তাঁকে পিছন দিকে আসতে দেওয়া হয়নি। ক্যামাক স্ট্রিট দিয়ে তাঁদের বের হতে হয়েছে। তাই বেশি সংখ্যক মানুষ পার্ক স্ট্রিটে যাওয়া সত্ত্বেও বড় কোনও সমস্যা হয়নি। পার্ক স্ট্রিট সংলগ্ন জায়গায় ট্রাফিক ধীরে চললেও যানজট যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
রাতের হাওড়া স্টেশনে সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি! আটক করে ব্যাগ খুলতেই তাজ্জব রেল পুলিশ, দেখলেন…
-
সাড়ে তিন কাঠা জমি-ভিটেমাটি গিলে খেয়েছে গঙ্গা! স্বামীর একটিমাত্র ঘর আঁকড়ে মুর্শিদাবাদের কল্পনা
-
বাজল না পুরো ‘বন্দে মাতরম’! কর্নাটক বিধানসভায় তুঙ্গে বিতর্ক, নজিরবিহীন পদক্ষেপ বিজেপির
-
১৮ বছর পর চেন্নাইয়ে নতুন যুগ, হেডকোচ হলেন জাহির খান
-
‘কেউ যেন বলতে না পারে মেয়েরা কিছু পারে না’, প্রার্থনা রাজ্যের প্রথম মহিলা মেকানিক সোনালির