লাঠিতে ভর দিয়ে গঙ্গার দিকে তাকিয়ে আছেন কল্পনা সিংহ। চোখের সামনে উত্তাল গঙ্গা, আর পিছনে পড়ে আছে মাত্র একটি ঘর। একসময় এখানে চার কাঠা জমির ওপর পাঁচটি ঘর নিয়ে ছিল তাঁর সাজানো সংসার। আজ প্রায় সবটাই গঙ্গা কেড়ে নিয়েছে। পড়ে আছে শুধু আধ কাঠা জমি আর স্মৃতি। তবু এখনও সেই ভিটে আঁকড়েই রয়েছে কল্পনা। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ব্লকের প্রতাপগঞ্জ গ্রামপঞ্চায়েতের উওর চাচণ্ড গ্রাম। যে গ্রাম একসময় ছিল জনবহুল, আজ তার বড় অংশটাই নদীগর্ভে। প্রতি বছর ভাঙনে ঘর-বাড়ি হারাচ্ছেন মানুষ। সেই তালিকায় রয়েছেন তিনিও।
স্বামী মারা গিয়েছেন বহু বছর আগে। শরীরে বাসা বেঁধেছে অসুখ। পাঁচ সন্তান-চার ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তিন ছেলে বউ-বাচ্চা নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকে। ছোট ছেলে রংমিস্ত্রি, মায়ের সঙ্গেই থাকে। কিন্তু দেড় মাস ধরে কাজ নেই। মা-ছেলের সংসার চলছে অভাবের মধ্যেই। দিনের বেলা নিজের ওই একটুকরো ঘরেই থাকেন কল্পনা। লাঠি হাতে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। গঙ্গার দিকে তাকিয়ে খোঁজেন হারিয়ে যাওয়া উঠোন। সন্ধ্যা নামলে ভাগ্নের বাড়িতে রাত কাটাতে যেতে হয়। কিন্তু মন টেকে না।
আরও পড়ুন:

তাঁর মুখে একটাই কথা, “লোকের বাড়িতে কি ঘুম হয়? আমার সবকিছু তো এইটুকুই।” ছোট ছেলের বিয়ের বয়স হয়েছে। মায়ের ইচ্ছে ছেলের সংসার হোক। কিন্তু কোথায় রাখবেন? নিজের মাথার ওপরই তো স্থায়ী ছাদ নেই। নতুন স্বপ্ন দেখতেও ভয় হয়, যদি সেটাও গঙ্গা কেড়ে নেয়। কল্পনার গল্প শুধু তাঁর একার নয়। উওর চাচণ্ড এলাকার প্রতিটি ভাঙা ভিটের পেছনে এমনই এক একটি পরিবার। নদী শুধু মাটি ভাঙে না, ভাঙে নিরাপত্তা, স্বপ্ন, ঠিকানা।
চার কাঠা থেকে আধ কাঠায় এসে ঠেকেছে জীবন। পাঁচ ঘর থেকে এক ঘর। তবুও শেষ সম্বলটুকু আঁকড়ে বাঁচতে চান কল্পনা। কারণ এই ভাঙা ঘরটাই তাঁর নিজের। এখানেই মিশে আছে স্বামীর স্মৃতি, ছেলেদের শৈশব। লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ওই মহিলার চোখে এখন একটাই প্রশ্ন – আর কতটা হারালে গঙ্গা থামবে?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চিতার আগুনে মাংস রান্না! ভয়ংকর কাণ্ড উত্তরপ্রদেশে, গ্রেপ্তার ৩ যুবক
-
জব্দ করেন পাকিস্তানকে, ‘র’ প্রতিষ্ঠাতার ’৭১-এর মিশন এবার সিনেমায় দেখাবেন করণ জোহর
-
সিআইডি-র জিজ্ঞাসাবাদের মাঝেই অসুস্থ বিধায়ক পরেশরাম, ভর্তি এসএসকেএমে
-
অফসাইড গোলে চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান! ‘রাগে’ শিল্ড বয়কট করল মহামেডান
-
রাতের হাওড়া স্টেশনে সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি! আটক করে ব্যাগ খুলতেই তাজ্জব রেল পুলিশ, দেখলেন…