বঙ্গে পালাবদল
Mamata Banerjee

দল আবারও ঘুরে দাঁড়াবে, কাজ দিয়ে ফের মানুষের আস্থা অর্জনের বার্তা মমতার

২০২৮ সালে পঞ্চায়েত ভোট। সে কথা মনে করিয়ে বৈঠকে মমতার স্পষ্ট বার্তা, ‘এই সময়ের মধ্যে ভাল করে কাজ করে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। কোথাও কোনও কাজে ফাঁক রাখা যাবে না। দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে। মানুষের আস্থা অর্জন করে তৃণমূল আবার ক্ষমতায় আসবে।’

Advertisement
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: মে ১৮, ২০২৬, ১৪:৩৭

options
link
দল আবারও ঘুরে দাঁড়াবে, কাজ দিয়ে ফের মানুষের আস্থা অর্জনের বার্তা মমতার
কালীঘাটে বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী।

কেন্দ্র এবং রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন বিজেপি সরকার। জেলা পরিষদের শাসন ক্ষমতা আবার বর্তমান বিরোধী দল তৃণমূলের হাতে। ফলে পঞ্চায়েত এলাকায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্র বা রা‌জ‌্য সরকারের তরফে আসা ফান্ড নিয়ে বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ইতিমধ্যে চর্চায় এসেছে। এমনকী, নির্বাচিত জেলা পরিষদ বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে কিনা সেই প্রশ্নও উঠেছে। কিন্তু কোনও সরকারই নির্বাচিত কোনও জেলা পরিষদ বোর্ড জোর করে ভেঙে দিতে পারে না বলে দলের কর্মীদের আশ্বস্ত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার কালীঘাটের কার্যালয়ে দলের জেলা পরিষদের নেতৃত্বকে বৈঠকে ডেকেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। ২০২৮ সালে পঞ্চায়েত ভোট। সে কথা মনে করিয়ে বৈঠকে মমতার স্পষ্ট বার্তা, ‘এই সময়ের মধ্যে ভাল করে কাজ করে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। কোথাও কোনও কাজে ফাঁক রাখা যাবে না। দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে। মানুষের আস্থা অর্জন করে তৃণমূল আবার ক্ষমতায় আসবে।’

Advertisement

রাজ্যের ২০টি জেলা পরিষদই তৃণমূলের দখলে। তাদের মধ্যে মূলত দক্ষিণবঙ্গের জেলা পরিষদের নেতৃত্বকে এদিন কালীঘাটের বাড়ির বৈঠকে ডেকেছিলেন মমতা। ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের প্রত্যেকের সামনে তৃণমূলনেত্রী বিগত দিনের লড়াই, ২০২৬-এর লড়াইয়ের কথা তুলে ধরতে গিয়ে নিজের দৃষ্টান্ত দেন। হাতের চোট দেখিয়ে বলেন, ‘বাম আমলে আমি অনেক মার খেয়েছি। গণনার দিনও মারা হয়েছে আমাকে। আমি হেরেছি। কিন্তু তার পরও আমি ভেঙে পড়িনি। তাহলে আপনারা কেন ভেঙে পড়ছেন?’ এর মধ্যে জেলায় বিজেপি তাদের পার্টি অফিস ভাঙচুর, কর্মীদের ভয় দেখিয়ে ঘরছাড়া করার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।

Advertisement

হাতের চোট দেখিয়ে মমতা বলেন, ‘বাম আমলে আমি অনেক মার খেয়েছি। গণনার দিনও মারা হয়েছে আমাকে। আমি হেরেছি। কিন্তু তার পরও আমি ভেঙে পড়িনি। তাহলে আপনারা কেন ভেঙে পড়ছেন?’

সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘যেখানে যেখানে ভাঙচুর হয়েছে, দলের কর্মীরা ঘরছাড়া, সেখানে যান, মানুষের পাশে দাঁড়ান। পার্টি অফিস নতুন করে করুন, আমি নিজে দু-এক জায়গায় যাব, পার্টি অফিস রং করব।’ তবে সব আলোচনার মধ্যেই ঘুরেফিরে এসেছে জেলা পরিষদ ভেঙে দেওয়া নিয়ে আশঙ্কার প্রসঙ্গ। কারণ কেন্দ্র বা রাজ‌্য সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে জেলা পরিষদের মাধ‌্যমে যে কাজগুলি হয় তাদের মধ্যে অন‌্যতম সড়ক, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহ, আবাস, ১০০ দিনের কাজের মতো প্রকল্প। সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে অনেক কাজই তৃণমূলের দখলে থাকা জেলা পরিষদগুলি থেকে হয়েছে বলে দাবি করেছিল তারা। মমতা বলে দেন, এর পরেও কোথাও কোনওরকম কাজ বাকি থেকে গিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে মানুষের সঙ্গে মিশে তঁাদের অভাব-অভিযোগ দেখে উন্নত পরিষেবা দিতে হবে। পরের নির্বাচনের আগে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

Advertisement

অভিষেকও বিগত দিনে মমতার লড়াই এবং লোকসভায় একটি আসন থেকে এক সময় ৩৪ আসনে জয়, এমনকী, বিধানসভায় ৩৫ আসন থেকে ২০০-র বেশি আসন নিয়ে সরকার গড়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। সঙ্গে মমতা এও বলেছেন কর্মীদের মামলার হাত থেকে বাঁচাতে দলের তরফে আইনি সহযোগিতা করবেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তবে এদিনও দল বদলের প্রসঙ্গ এসেছে মমতার কথায়। অনেকেই তলে তলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘অনেকেই দল বদলের কথা ভাবচেন। যঁাদের তেমন ইচ্ছে রয়েছে দল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন।’

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.