অর্ণব আইচ: বিপদ ডেকে আনতে পারে মোবাইলের নতুন সিম কার্ড। সিম কার্ড বদলের সময় সাবধান না হলে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যেতে পারে টাকা। তার জন্য ফাঁদ পেতে রেখেছে ‘সিম সোয়াইপিং’-এর সঙ্গে যুক্ত জালিয়াতরা। সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার গড়ফার এক বাসিন্দার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ২৬ হাজার টাকা উধাও হতেই এই বিষয়ে আরও সতর্ক হয়েছে কলকাতা পুলিশ। ‘সিম সোয়াইপ’ পদ্ধতিতে প্রতারণা রুখতে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় পুলিশ। রীতিমতো মেসেজ পাঠিয়ে শহরের মানুষকে সতর্ক করছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।
[আন্দোলনে ঠিকা শ্রমিকরা, নোংরা বাড়ছে হাওড়া স্টেশনে]
পুলিশ জানিয়েছে, ‘সিম সোয়াইপ’ -এর গেরোয় পড়ে প্রতারিত হয়েছেন এক ব্যক্তি। তিনি গড়ফার নিবেদিতা সরণির বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে নিজেদের একটি মোবাইল সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দেয়। সিম ‘আপগ্রেড’ করতে বলে। ওই ব্যক্তিকে একটি নতুন মোবাইল নম্বরের সিমকার্ড দেওয়া হয়। প্রতারকরা তাঁর কাছ থেকে পুরনো সিমকার্ডের নম্বরটি চায়। তিনি বিশ্বাস করে নম্বরটি দেওয়ার পর বেশিক্ষণ সময় নেয়নি প্রতারকরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ব্যক্তি জানতে পারেন, তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে ২৬ হাজার ১৭৮ টাকা। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, কখনও থ্রি জি থেকে ফোর জি সিমকার্ডে ‘আপগ্রেডেশন’। আবার কখনও আবার নতুন নম্বরের সিমকার্ড, যাতে ফোন আর নেট হয়ে যাবে অনেক সস্তা। এই ধরনের টোপ দিয়েই ‘সিম সোয়াইপ’ করা শুরু করছে জালিয়াতরা। আর তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন শহরের বহু বাসিন্দা। জালিয়াতরা ফোন করে নিজেদের কোনও নামী মোবাইল সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দিচ্ছে। কারও থ্রি জি সিমকার্ড থাকলে সেটি ফোর জিতে আপগ্রেড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আবার নতুন নম্বর পাইয়ে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
[পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবার অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল কংগ্রেস]
বলাবাহুল্য, সিম কার্ড নয় জালিয়াতদের হাতে পৌঁছানোর প্রয়োজন আইএমএসআই নম্বরটি। যেটি সিম কার্ডেই থাকে। জালিয়াতরা অনেক সময়ই মেসেজ পাঠিয়ে বলে, গ্রাহকের সিমকার্ড থ্রি জি থেকে ফোর জিতে আপগ্রেড করা হয়েছে। কিন্তু নম্বর একই রয়েছে। সিমকার্ডও বদলাতে হবে না। এর পর ফোন করে জালিয়াতরা বলে, তাঁর সিম কার্ডের নম্বরটি মেসেজ করে একটি বিশেষ নম্বরে পাঠাতে। সেটি পাঠানোর পরই সিম কার্ডটি বন্ধ হয়ে যায়। সিম কার্ডের যাবতীয় তথ্য এসে যায় জালিয়াতদের হাতে। জালিয়াতরা নজর রাখে ব্যাংক থেকে আসা মেসেজের উপর। তার মাধ্যমে তারা জেনে যায় অ্যাকাউন্ট নম্বরও। ওই সিম কার্ডের নম্বর ব্যবহার করেই শুরু করে অনলাইন ব্যাংকিং। ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি হাতে পেয়ে যায় জালিয়াতরা। সেটি ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট থেকে পুরো টাকা তুলে নেয়। নতুন মোবাইল নম্বর দেওয়ার নাম করেও জালিয়াতরা বলে, একই সিম কার্ডে পাওয়া যাবে নতুন মোবাইল নম্বর। আবার এমনও দেখা গিয়েছে যে, বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে জালিয়াতরা পাঠিয়ে দিয়েছে একটি নতুন সিম কার্ড। পুরনো সিম কার্ডের নম্বরটি জেনে একইভাবে জালিয়াতি করা হয়। আবার অনেক সময় আধার ‘ভেরিফিকেশন’-এর নামেও করা হয় সোয়াইপিং। এই বিষয়ে সতর্ক করে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, আসল সিম না থাকলে কখনও ওটিপি বা সিম নম্বর যেন মেসেজ করে না পাঠানো হয়। আপগ্রেডেশন বা নতুন মোবাইল নম্বর নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ মোবাইল সংস্থার স্টোরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। একই সঙ্গে ‘সিম সোয়াইপিং’-এর সঙ্গে যুক্ত জালিয়াতদেরও সন্ধান চালানো শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাট জয় এবিভিপির, বিধানসভা ভোটে সাফল্যের অঙ্ক দেখছে বিজেপি
-
রাতভর প্যান্ডেল হপিং, ফুচকা-রোল-বিরিয়ানি দেদার? গ্যাস-অম্বল এড়িয়ে সুস্থ থাকবেন কীভাবে
-
‘অপারেশন সফেদ সাগর’ সিরিজে দার্জিলিংয়ের ‘থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’, কোন ভূমিকায় ত্রয়ী?
-
হাজিরা দিয়েও আস্ফালন! সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর শেক্সপিয়র সরণি থানা থেকে বেরিয়ে কী বললেন অভিষেক?
-
এবার প্রতারক চিনিয়ে দেবে হোয়াটসঅ্যাপই! আসছে নয়া ফিচার, জেনে নিন খুঁটিনাটি