Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Durga Puja Indigestion

রাতভর প্যান্ডেল হপিং, ফুচকা-রোল-বিরিয়ানি দেদার? গ্যাস-অম্বল এড়িয়ে সুস্থ থাকবেন কীভাবে

পুজো মানেই রাত জাগা, প্যান্ডেল হপিং আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। আনন্দে কোনও বাধা নেই, শুধু একটু সচেতন থাকলেই হল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১৯:১৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১৯:১৭

options
link
রাতভর প্যান্ডেল হপিং, ফুচকা-রোল-বিরিয়ানি দেদার? গ্যাস-অম্বল এড়িয়ে সুস্থ থাকবেন কীভাবে zoom
আনন্দে কোনও বাধা নেই, থাকুক একটু সচেতন।
Advertisement

প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, রাত জেগে ঠাকুর দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর পছন্দের খাবার। দুর্গাপুজোয় এই আনন্দের মুহূর্তগুলিই তো সারা বছরের অপেক্ষা। কিন্তু উৎসবের ব্যস্ততায় ঘুমের সময় বদলে যাওয়া আর রাতবিরেতে তেল-মশলাদার খাবার খাওয়ার অভ্যাসে শরীরের সঙ্গে তাল কাটতে পারে পেটেরও। অম্বল, গ্যাস, পেট ফাঁপা থেকে শুরু করে ডায়েরিয়া, পুজোর আনন্দের মাঝেই দেখা দিতে পারে নানা হজমের সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুজোর কয়েক দিন খাবারের দিকে একটু নজর রাখার পাশাপাশি ঘুম ও বিশ্রামের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

রাত জাগলে হজমের সমস্যা কেন?
আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট জৈবঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ মেনে চলে। কখন ঘুমাবো, কখন খিদে পাবে, কখন খাবার হজম হবে, শরীরের নানা প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই ছন্দের যোগ রয়েছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

পুজোয় প্যান্ডেল হপিং করতে গিয়ে রাত ২টো-৩টে পর্যন্ত জেগে থাকা বা প্রায় সারারাত ঘুম না হলে এই স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে হজমের উপরও। পাকস্থলীতে অ্যাসিডের সমস্যা বাড়তে পারে, হজমের গতি ধীর হয়ে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। পরদিন ঘুমঘুম ভাব, ক্লান্তির পাশাপাশি পেটের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

durga puja indigestion late night food tips
থাকুক নিয়ন্ত্রণ। ছবি: সংগৃহীত

রাতের প্যান্ডেল হপিংয়ের প্ল্যান থাকলে কী খাবেন?
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খিদেও পেতে পারে। আর তখনই সামনে আসে ফুচকা, চপ, রোল, বিরিয়ানি থেকে শুরু করে নানা মুখরোচক স্ট্রিট ফুড। কিন্তু রাতের দিকে বেশি তেল-মশলাযুক্ত বা ভারী খাবার খেলে অম্বল ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়তে পারে।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টদের কথায়, শরীরের জৈবঘড়ির সঙ্গে খাবার ও হজমেরও সম্পর্ক রয়েছে। রাতে জেগে থাকা বা দেরিতে খাওয়ার ফলে খিদে নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ঘ্রেলিনের মাত্রা বাড়তে পারে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়।

রাতের দিকে পাকস্থলীর কাজও কিছুটা ধীর হয়ে যায়। ফলে সেই সময়ে বেশি খাবার খেলে অস্বস্তি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স হতে পারে। এমনকী অন্ত্রে থাকা জীবাণুর স্বাভাবিক ছন্দও ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হলে প্রভাবিত হতে পারে।

ঘুমের সঙ্গে যুক্ত হরমোন মেলাটোনিনও পরিপাকতন্ত্রের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তাই বারবার রাত জাগলে হজমের স্বাভাবিক ছন্দেও প্রভাব পড়তে পারে।

durga puja indigestion late night food tips
রাতভর প্যান্ডেল হপিং। ছবি: সংগৃহীত

পুজোয় পেট ভালো রাখতে কেমন হবে ডায়েট?
রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। প্যান্ডেল ঘুরতে গিয়ে খিদে পেলে মুড়ি মাখা, ছোলা, ঘুগনি, আলুকাবলি বা অল্প পরিমাণ দইয়ের মতো তুলনামূলক হালকা খাবার বেছে নিতে পারেন। খুব বেশি তেল, ঝাল বা মশলা দেওয়া খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

জলের বোতল সঙ্গে রাখুন। পুজোর ভিড়ে দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি করলে শরীরে জলের ঘাটতি হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি দেওয়া সফট ড্রিঙ্কের বদলে জল, ডাবের জল বা লেবুজল বেছে নিন।

ডায়েটে ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। ফল, স্যালাড এবং অন্যান্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধেও ফাইবার গুরুত্বপূর্ণ।

মিষ্টি খাবেন, তবে পরিমাণ বুঝে। পুজোয় মিষ্টি ছাড়া বাঙালির উৎসব অসম্পূর্ণ। কিন্তু রাতে একসঙ্গে বেশি মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস থাকলে এই বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা জরুরি। তাই মিষ্টি একেবারে বাদ দেওয়ার বদলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

durga puja indigestion late night food tips
রোল ছাড়া চলে না কি? ছবি: সংগৃহীত

রাত জাগলে দিনের ঘুম কি যথেষ্ট?
পুজোয় রাত জাগতে হলে দিনের বেলায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন। ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম শরীরকে কিছুটা বিশ্রাম দিতে পারে। তবে দিনের ঘুম রাতের স্বাভাবিক ঘুমের পুরোপুরি বিকল্প নয়। কারণ শরীরের জৈবঘড়ি এবং মেলাটোনিনের স্বাভাবিক ছন্দও সুস্থ হজমের সঙ্গে যুক্ত। তাই পুজোর ক’টা দিন রাত জেগে ঠাকুর দেখলেও শরীরকে যতটা সম্ভব বিশ্রাম দেওয়ার চেষ্টা করুন।

পেটে অস্বস্তি হলে?
সামান্য গ্যাস বা পেটের অস্বস্তি হলে হালকা গরম আদা চা অনেকের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। সকালে জিরে ভেজানো জল বা হালকা গরম জলও খেতে পারেন। তবে এগুলিকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বারবার অম্বল, তীব্র পেটব্যথা, বমি, দীর্ঘস্থায়ী ডায়েরিয়া বা অন্য কোনও গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পুজো মানেই রাত জাগা, প্যান্ডেল হপিং আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। আনন্দে কোনও বাধা নেই, শুধু একটু সচেতন থাকলেই হল। ঠাকুর দেখার আনন্দে রাত কাটুক, পেটের গোলমালে নয়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.