টাইপ-২ ডায়াবেটিস মানেই শুধু রক্তে শর্করা বাড়া নয়। এই রোগের পর নারী ও পুরুষের শরীরে জটিলতা দেখা দিতে পারে ভিন্ন পথে, ভিন্ন সময়ে। নতুন গবেষণায় উঠে এল তেমনই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস দীর্ঘদিনের সঙ্গী হলে বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, কিডনির সমস্যা থেকে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে ছবিটা এক নয়। নতুন এক গবেষণা বলছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের পর নারী ও পুরুষের শরীরে জটিলতা তৈরির ধরন এবং সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
আরও পড়ুন:
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে পিএলওএস মেডিসিনে। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে নতুন করে টাইপ-২ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ২৮,৭২০ জনের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করেন গবেষকরা। ব্রিটেনে স্বাস্থ্য পরিষেবার নথি ব্যবহার করে তাঁদের গড়ে ৬.৮ বছর পর্যবেক্ষণ করা হয়।
আরও পড়ুন:

মহিলাদের মধ্যে দেখা দিতে পারে মানসিক স্বাস্থ্য-সমস্যা
গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হল, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা বেশি দেখা গিয়েছে। উদ্বেগ, অবসাদ এবং সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডারের মতো সমস্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। গবেষণায় ৮.১ শতাংশ মহিলার মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের কোনও না কোনও সমস্যা দেখা গেছে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৫.৩ শতাংশ। অর্থাৎ, ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় শুধু রক্তে শর্করা, ওজন বা রক্তচাপ নয়, মহিলাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নিয়মিত নজর দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
পুরুষদের ঝুঁকি বেশি হৃদ্রোগ ও কিডনির অসুখের
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস পুরুষদের হৃদ্রোগ ও কিডনির সমস্যার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রায় ৮.৪ শতাংশ পুরুষ এই ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৫.৩ শতাংশ।
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, পুরুষদের মধ্যে ডায়াবিটিস-সংক্রান্ত জটিলতা তুলনামূলকভাবে আগেই শুরু হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। মহিলাদের ক্ষেত্রে জটিলতার সূত্রপাত হয় অপেক্ষাকৃত পরে।

উভয়ের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় সমস্যা উচ্চ রক্তচাপ
তবে নারী-পুরুষের মধ্যে এত পার্থক্য থাকলেও একটি জটিলতা উভয়ের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে, সেটি হল উচ্চ রক্তচাপ। গবেষণায় ২১.১ শতাংশ পুরুষ এবং ২০.২ শতাংশ মহিলার মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ধরা পড়ে। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করাও অত্যন্ত জরুরি।
মানসিক সমস্যায় বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি!
গবেষকরা ডায়াবেটিসের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের রোগের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুঝুঁকির সম্পর্কও খতিয়ে দেখা হয়। দেখা গিয়েছে, ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর যাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা বেশি
চিকিৎসা-পরিষেবার সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মহিলারা গড়ে বেশি চিকিৎসা-পরিষেবা নিয়েছেন এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ওষুধ খাওয়াতেও পুরুষদের থেকে এগিয়ে মহিলারা।

আগে থেকে নজরদারিই বড় অস্ত্র
গবেষকদের মতে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের পর কোন জটিলতা কখন এবং কোন সমস্যা কখন তৈরি হচ্ছে, তা বুঝতে পারলে উচ্চঝুঁকির রোগীদের আগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বাড়তি নজর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে হৃদ্রোগ ও কিডনির জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করার জন্য আগাম নজরদারি দরকার।
তবে গবেষণাটি পর্যবেক্ষণমূলক। তাই টাইপ-২ ডায়াবেটিসই যে নারী-পুরুষের মধ্যে এই পার্থক্যের সরাসরি কারণ, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। চিকিৎসা-পরিষেবা নেওয়ার প্রবণতা এবং রোগ নির্ণয়ের পার্থক্যও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে গবেষণার ইঙ্গিত, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সবার জন্য এক নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ঋগ্বেদ থেকে মিশরীয় জনবিশ্বাসে সোনালি তরল, দেবভোগ্য মধুর কথা
-
জোম্যাটোতে এবার টাকা দিয়েও মিলবে না এই খাবার! কেন এমন সিদ্ধান্ত ফুড অ্যাপের?
-
সকালে ৬ মাসের শিশুকে অপহরণ! মধ্যরাতে পুলিশের রোমহর্ষক অভিযানে উদ্ধার, ধৃত ৩
-
সোশাল মিডিয়া অতীত, এবার পর্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই কাশ্মীরে জঙ্গি নিয়োগ করছে পাকিস্তান!
-
বাঁ হাতে নতুন ট্যাটু কোহলির, কীসের ইঙ্গিত? ভাইরাল ছবি নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে