ভোটের ফল বেরনোর একমাস কেটেছে সবে। ইতিমধ্যেই শাসক থেকে বিরোধী হয়ে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে বিরোধী আসনে বসতে চলেছেন ৬৪জন বিধায়ক। কার্যত দুই আলাদা শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছে। ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী বাকি বিধায়করাও জনরোষের জেরে কার্যত ‘ঘরবন্দি’। এসবের মাঝে ভগবানগোলার তৃণমূল বিধায়ক (Bhagabangola TMC MLA) রেয়াত হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে পড়ল নিখোঁজ পোস্টার। রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সোমবার সকালে দেখা গেল একাধিক পোস্টার। কে বা কারা এই পোস্টার দিল, তা এখনও অজ্ঞাত। মনে করা হচ্ছে, স্থানীয় মানুষজনই বিধায়ককে না পেয়ে ক্ষোভে এসব পোস্টার দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভগবানগোলা রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলছে। ফলে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন স্থানীয় বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকারকে সাধারণ মানুষের পাশে দেখা যায়নি? এই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
৪ মে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশ হয়েছে। ২৯৪ আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টিতে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার মধ্যে অন্যতম ভগবানগোলা। এই কেন্দ্র থেকে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে জিতেছিলেন রেয়াত হোসেন সরকার। ছাব্বিশের ভোটে দলের ভরাডুবির মাঝেও সেই আসন রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছেন রেয়াত। কিন্তু ওই জয়টুকুই সার। তারপর থেকে আর এলাকায় দেখা যায়নি তাঁকে। তবে শুধু ভগবানগোলায় নয়, ভোটের ফলাফলের পর থেকে যেভাবে তৃণমূল নেতাদের জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে, তাতে জয়ী বিধায়কদের অনেকেই নিজের এলাকায় বেরতে পারছেন না। কাজ করা তো দূর অস্ত।

এবার ভগবানগোলার বিধায়ককে নিয়ে জমে উঠেছে ক্ষোভ। ভগবানগোলা রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলছে। ফলে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন স্থানীয় বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকারকে সাধারণ মানুষের পাশে দেখা যায়নি? এই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার রাতে রানিতলা থানার উদ্দেশে যখন যাচ্ছিলেন, সেই সময় বিধায়ককে লক্ষ্য করে কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। সেই সময়ে বিধায়ক অনুগামী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরবর্তীতে রানিতলা থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আর সোমবার সকালে একাধিক পোস্টারে বিধায়ককে ‘নিখোঁজ’ অ্যাখ্যা দিয়ে রীতিমতো আক্রমণ করা হয়েছে। পোস্টারে দাবি করা হয়েছে, তাতেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সংকটের সময়ে জনপ্রতিনিধির ভূমিকা কী হওয়া উচিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে কে দাঁড়াবে? যদিও এই পোস্টার কারা লাগিয়েছে, তার পিছনে কোনও সংগঠন বা ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এনিয়ে রেয়াত হোসেন সরকারের প্রতিক্রিয়া চাইলে তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেবেন না বলে জানান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কন্ডোম-খাট-বালিশ, বিধাননগরে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস যেন হোটেল! দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
‘কী করে ওকে বলব…?’ ভূমিকম্পে মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত স্ত্রী, ভেঙে পড়লেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার
-
‘মুসলমানদের নিয়ে স্যাটাভাঙা মার’! জনসভায় বেনজির হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!
-
মেট্রোপলিটান এলাকার বেআইনি নির্মাণে নজর, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তলব হাই কোর্টের