‘শীতলার স্নানযাত্রা’য় ডিজে রুখতে একজোট সালকিয়ার বাসিন্দারা

সংঘবদ্ধ প্রতিবাদে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯, ১৫:৩৮

options
link
‘শীতলার স্নানযাত্রা’য় ডিজে রুখতে একজোট সালকিয়ার বাসিন্দারা

তনুময় ঘোষাল: স্কুল-কলেজে যখন বাগদেবীর আরাধনায় মাতোয়ারা পড়ুয়ারা, তখন মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে এলাকায় ডিজে বন্ধ করে জোট বেঁধেছে হাওড়ার সালকিয়ার বিভিন্ন ক্লাব ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি। সংঘবদ্ধ প্রতিবাদে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনও। হাওড়া কমিশনারেটের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শব্দসীমা ছাড়িয়ে ডিজে বাজালে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

শতাব্দী এক্সপ্রেসের বিরিয়ানিতে আরশোলা, বমি করে অসুস্থ যাত্রী]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

হাওড়ার সালকিয়ার প্রাচীন ও ঐতিহ্যশীল উৎসব ‘শীতলার স্নানযাত্রা’। এই উৎসবই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, সালকিয়া তো বটেই, প্রতি বছর মাঘ মাসের পূর্ণিমা বা মাঘী পূর্ণিমার দিন আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার মন্দির থেকে শোভাযাত্রা করে দেবী শীতলার বিগ্রহকে গঙ্গায় স্নান করতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই শোভাযাত্রাই ‘শীতলার স্নানযাত্রা’ নামে পরিচিত। সালকিয়ায় দুশোর বছরের বেশি সময় ধরে এই উৎসব হয়ে আসছে। একসময়ে নাম সংকীর্তন সহযোগে  ‘শীতলার স্নানযাত্রা’ বেশ উপভোগই করতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু, এখন আর পরিস্থিতি আগের মতো নেই। ভক্ত সমাগমে তেমন হেরফের না হলেও, শোভাযাত্রার চরিত্র বদলে গিয়েছে। স্নানযাত্রায় মদ্যপ যুবকদের দাপাদাপি ও ডিজে-র বিকট শব্দে অতিষ্ঠ সালকিয়ার বাসিন্দারা। এবছর ‘শীতলার স্নানযাত্রা’য় ডিজে বন্ধ করতে একযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এলাকার সমস্ত ক্লাব ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি। ফলও মিলেছে হাতেনাতে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ছোট-বড় মিলিয়ে শুধু সালকিয়াতেই শীতলা মন্দির ২০ থেকে ৩০টি। তার উপর মাঘী পূর্ণিমার দিন আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেক শোভাযাত্রা সালকিয়া পেরিয়ে গঙ্গার দিকে যায়। এবছর আবার দিনটি পড়েছে ১৮ ফ্রেরুয়ারি, মাধ্যমিক পরীক্ষায় সময়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ, যে পথ ধরে শোভাযাত্রা যায়, সেই পথে দু’ধারে বিভিন্ন ধরনের স্টল দেন এলাকায় একশ্রেণির উচ্ছৃঙ্খল যুবক। সকাল থেকে বড় বড় ডিজে বক্সে গান বাজাতে শুরু করে তারা। বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হযে ওঠেন সকলে। অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, গঙ্গা লাগোয়া স্কুলগুলিতে পঠনপাঠনে ব্যাঘাত ঘটে। মেয়েদের স্কুলে নিরাপত্তা খাতিরে ছুটির পর গেট বন্ধ রাখতে হয়। সালকিয়ায় স্নানযাত্রা দিনে ডিজে বাজানো নিয়ে কেউ আপত্তি বা প্রতিবাদ জানাননি, এমনটা কিন্তু নয়। কিন্তু একক প্রতিবাদে তেমন কাজ হয়নি। উলটে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে প্রতিবাদীকেই। তাই এবার আর একা নয়, মাধ্যমিকের সময়ে শব্দদানবের তাণ্ডব রুখতে একজোট সালকিয়ার সমস্ত ক্লাব ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, শুধু স্নানযাত্রাই নয়, বছরভর বিভিন্ন উৎসবেই সালকিয়ায় ডিজে বাজানো হয়। ডিজে বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

[ সমকামী সম্পর্কে বাধা পরিবার, সঙ্গিনীকে ফিরে পেতে কোর্টে তরুণী]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন