শহরে বসেই পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি! আর এই অভিযোগে জ়াফর রিয়াজ ওরফে রিজ়ভি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ। জানা যায়, এন্টালি এলাকায় ধৃত জাফরের পারিবারিক জুতোর ব্যবসা ছিল। কিন্তু একটা দুর্ঘটনায় ধৃতের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জুতোর ব্যবসা ছেড়ে পাক গুপ্তচর হয়ে ওঠেন জাফর! ইতিমধ্যে ধৃতকে দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে এনআইএ। কীভাবে শহরে বসে ধৃত জাফর গুপ্তচরবৃত্তি করতেন তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কার কার সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে তা জানতে করা হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদ। এমনকী কলকাতায় বসে কোনও নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা জাফর করছিলেন কিনা তাও তদন্তকারীদের নজরে।
আরও পড়ুন:
জানা যায়, গত ২০০৫ সালে পাকিস্তানের বাসিন্দা এক মহিলার সঙ্গে বিয়ে হয় ধৃত রিজভির। ২০১২ সাল পর্যন্ত এন্টালিতেই থেকে করতেন ব্যবসা। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার মধ্যে পড়তে হয় জাফরকে। শরীরে একাধিক শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে সংসারে দেখা দেয় চরম আর্থিক সঙ্কট। এই অবস্থায় জাফরকে পাকিস্তানে থাকা শ্বশুরবাড়িতে চলে যেতে বলা হয়। প্রথমে নিজে না গেলেও স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেন সেই দেশে। যদিও পরবর্তীতে আর্থিক সঙ্কট এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, সমস্ত কিছু বিক্রি করে লাহোরে চলে যান জাফর। ট্রাভেল ভিসাতেই পাকিস্তানে পৌঁছে যান তিনি।
এনআইএ সূত্রে জানা যায়, লাহোরের শ্বশুরবাড়িতে থাকাকালীন এক পাক আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ হয় ধৃতের। তিনিই নাকি পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’য়ের সঙ্গে রিজভির যোগাযোগ করিয়ে দেন। দেওয়া হয় মোটা টাকার প্রলোভন। সঙ্গে আরও সুযোগ সুবিধা। সেই প্রস্তাব নাকি ফেরাতে পারেননি ধৃত ওই ব্যক্তি। এনআইএ সূত্রের দাবি, পাক গুপ্তচর সংস্থার নির্দেশেই ভারতে আসা যাওয়া শুরু হয় তাঁর। ভারতের বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য সুকৌশলে তুলে দেন সেই দেশের গোয়েন্দাদের হাতে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ভারতীয় নম্বর জোগার করে তা পাঠিয়ে দিতেন আইএসআই-এর হাতে।
লাহোরের শ্বশুরবাড়িতে থাকাকালীন এক পাক আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ হয় ধৃতের। তিনিই নাকি পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’য়ের সঙ্গে রিজভির যোগাযোগ করিয়ে দেন। দেওয়া হয় মোটা টাকার প্রলোভন। সঙ্গে আরও সুযোগ সুবিধা। সেই প্রস্তাব নাকি ফেরাতে পারেননি ধৃত ওই ব্যক্তি।
যদিও বেশিদিন সেই চক্র চলেনি। গত কয়েকবছর আগে পাঞ্জাব পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন জাফর। গ্রেপ্তার করা হয় তাঁর এক সঙ্গীকেও। দীর্ঘদিন জেলেও কাটান। পরে জামিন পেয়ে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান ধৃত। এরপর জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁও ঘটনার পর দেশজুড়ে শুরু হয় তল্লাশি। ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। তাঁদের জেরা করেই রিজভির নাম সামনে আসে। এরপরেই শুরু হয় খোঁজ। সূত্রের দাবি, দীর্ঘ একবছর ধরে জ়াফর রিয়াজ ওরফে রিজ়ভির খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। শেষমেশ কলকাতার এন্টালি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
সামুরাই সূর্যাস্ত, শিষ্য জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গুরু ব্রাজিল
-
‘তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নেই’, বঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক কংগ্রেস নেতা বেনুগোপালের
-
এবছরই দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার, কী বলল ঢাকা?
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!
-
বাড়বে স্ক্রিনের সংখ্যা! ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতিতে একগুচ্ছ ঘোষণা কেন্দ্রের