অর্ণব আইচ: ভুয়ো ডিএসপির সঙ্গী তথা চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ। এক মহিলাকে রেলে চাকরি দেওয়ার টোপ দিয়ে বেনামে তাঁকে বিয়ে করে সে। এর পর গত সাত বছর ধরে মহিলার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া পুলিশকর্মী রবি মুর্মু। কিছুদিন আগে কলকাতা (Kolkata) পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে ভুয়ো ডিএসপি মাসুদ রানার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় তারই ‘মেন্টর’ রবি মুর্মু। তাদের বিরুদ্ধে ৬ জন যুবককে হোমগার্ডে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৩৫ লাখ টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনায় ফের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়ার পর রবি মুর্মুর ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এর পরই এক মহিলা আসেন মধ্য কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায়। তিনি দাবি করেন, ধৃত রবি মুর্মুকে তিনি চেনেন তাপস চৌধুরি নামে। সে তাঁরই ‘স্বামী’। এতে হতবাক হয়ে যান পুলিশ আধিকারিকরা। কারণ, রবির পরিবার থাকে মালদহে। থানার পক্ষে বিষয়টি লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগকে জানানো হয়। গোয়েন্দারা মহিলাকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে রবির সামনে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আর তাতেই বেরিয়ে পড়ে নতুন তথ্য। জানা গিয়েছে, প্রায় আট বছর আগে কলকাতারই বাসিন্দা ওই মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয় রবির। সে নিজেকে তাপস চৌধুরি নামে পরিচয় দেয়। ততদিনে সে কলকাতা পুলিশের চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেও মহিলার কাছে নিজেকে পুলিশ বলেই পরিচয় দেয়। মহিলা চাকরি খুঁজছিলেন। জানায়, সে রেলে চাকরি দিতে পারে। ২০১৪ সালে টোপ দিয়ে তাপস পরিচয়েই তাঁকে একটি মন্দিরে গিয়ে ‘বিয়ে’ করে রবি। কিছুতেই রেজিস্ট্রি করছিল না সে। ২০২১ পর্যন্ত তাঁকে চাকরি করিয়ে দেওয়ার নাম করে ও ‘স্বামী’ হিসাবে অন্যান্য কারণ দেখিয়ে সে তাঁর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এতে সাহায্য করত ভুয়ো ডিএসপি মাসুদ রানা ও অন্য আরও তিন সঙ্গী। ‘স্বামী’ তাপসের উপর ভরসা করে মহিলাও বেশ কয়েক দফায় ওই টাকা তাকে দিয়ে দেয়। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তাঁকে রবি এড়িয়ে যাচ্ছিল।
[আরও পড়ুন: নিজের বাড়িতেই ডাকাতির ছক? উত্তর কলকাতায় বধূর কাণ্ডকারখানায় ধন্দে পুলিশ]
‘স্বামী’র আসল পরিচয় পেয়ে রীতিমতো ভেঙে পড়েন ওই মহিলা। গত ৮ জুলাই হোমগার্ডে চাকরি দেওয়ার নাম করে ভুয়ো নিয়োগপত্র ও হোমগার্ডের উর্দি দিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে মুর্শিদাবাদের রানিতলার বাসিন্দা ভুয়ো ডিএসপি মাসুদ রানা, তার সঙ্গী রবি মুর্মু, শুভ্র নাগরায়, পরিতোষ বর্মনকে পুলিশ বউবাজারের একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে। এর পর পলাতক নরোত্তম বর্মনকেও গ্রেফতার করা হয়। ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে নতুন করে জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের হয়। বুধবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে পাঁচজনকে ফের ২৮ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের জেরা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[আরও পড়ুন: একুশের মঞ্চে বাম-কংগ্রেসকে নিয়ে কার্যত নীরব Mamata, কী বার্তা TMC নেত্রীর?]
সর্বশেষ খবর
-
ধূমপান না করলেও ধূমপায়ীদের সঙ্গে হরদম ওঠাবসা? সাবধান, অন্যের ধোঁয়ায় ভারতে বাড়ছে মৃত্যু
-
কে বলেছে ক্রিকেটের দুর্দিন! নতুন ৩ সহকারী স্পনসর পেল বিসিসিআই, টাকার অঙ্ক চমকে দেবে
-
মেয়ে দুয়ার জন্মদিনে বড় চমক রণবীর-দীপিকার! মাতৃত্বকালীন ফটোশুটে রোম্যান্টিক মুডে দম্পতি
-
ইসলামের নামে মুসলমানদেরই মারছে পাক মৌলবাদীরা! বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিদ্বেষের পোস্টার
-
আত্মীয়ের সঙ্গে ধস্তাধস্তি রেখা পাত্রের! বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে উঠল আদালত অবমাননার অভিযোগ