Ritabrata Banerjee

ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, স্বীকৃতি স্পিকারের, মমতার হাত থেকে দলের রাশ নিল ‘আসল তৃণমূল’

Opposition Leader: তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মমতার দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল তৃণমূল। 'আজ থেকে বিরোধী হিসেবে আমাদের পথচলা শুরু', বললেন ঋতব্রত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৩, ২০২৬, ১৮:৩০

options
link
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, স্বীকৃতি স্পিকারের, মমতার হাত থেকে দলের রাশ নিল ‘আসল তৃণমূল’
৩ জুন, বিধানসভায় সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

জল্পনায় সিলমোহর। শক্তি পরীক্ষায় পাশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী বিধায়কদের সই করা চিঠিকে স্বীকৃতি দিলেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ ঘোষ। অর্থাৎ এবার তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ‘আসল মালিকানা’ পেলেন ঋতব্রত ও তাঁর সঙ্গী বিধায়করা। সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত বললেন, “আজ থেকে বিরোধ দল হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু।”

Advertisement
Speaker recognizes Ritabrata Banerjee as Opposition Leader after support from 58 MLAs
বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী, পালাবদলের পর থেকে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সর্বত্র। তবে প্রথম থেকেই নেতা-কর্মীদের উপর ভরসা রেখেছিলেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেছিলেন, ফের ঘুরে দাঁড়াবেন। কিন্তু দলের অন্দরে যে চোরাস্রোত বয়ে যাচ্ছে, তা সম্ভবত বুঝতে পারেননি দলনেত্রীও। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা চিঠির সই নিয়ে বিতর্কই মুহূর্তে বদলে দিয়েছে ‘খেলা’। সই কাণ্ডে মুখ খুলে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই ‘পাওয়ার গেম’-এ শামিল হয়ে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও সন্দীপন সাহা। শক্তি প্রমাণে ‘আসল তৃণমূল’ স্বীকৃতি পেতে বিদ্রোহীদের এক ছাতার তলায় আনতে মরিয়া হয়ে যান ঋতব্রত। কারণ, বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূলে’র মর্যাদা পেতে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজন জেতা আসনের দুই তৃতীয়াংশের সম্মতি। অর্থাৎ ৫২ জন বিধায়ককে প্রয়োজন ছিল ঋতব্রতর। বুধবার বেলা ১২ টা নাগাদ স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সই করা চিঠি জমা দেওয়া হয়।

Advertisement

মোটের উপর জানা ছিল, যে আজই তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ‘আসল মালিকানা’ চলে যাবে ঋতব্রতদের হাতে। জল্পনা সত্যি করে তা-ই হল। বিদ্রোহীদের চিঠিকে স্বীকৃতি দিলেন অধ্যক্ষ। অর্থাৎ এবার বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থাৎ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মমতার দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল তৃণমূল। ইতিমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলের ঘর। ঋতব্রতর হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে চাবি। এরপরই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূলের যে পরিষদীয় দল, তাতে আর কোনও নেতা নেই। কেউ নেতা, কেউ ভৃত্য তা নয়। এটা পুরোটা একটা টিম। আজ পর্যন্ত এটা ৫৮ জন বিধায়কদের টিম। আরও ২ জন আছেন। তাঁরা এই মুহূর্তে নেই। চিপ হুইপ অর্থাৎ মুখ্যসচেতক  হচ্ছেন আখরুজ্জামান, উপ দলনেতা জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহা। আমরা ৫৮ জন বিধায়ক, তাঁদের সমর্থনের চিঠি মাননীয় অধ্যক্ষকে দিয়েছিলাম। সিংহভাগ বিধায়কই সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। আজ থেকে বিরোধী হিসেবে আমাদের পথচলা শুরু।” এদিন ঋতব্রত বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হিসেবে চান তাঁরা। পাশাপাশি বললেন, “সরকারে চোখে চোখ রেখে প্রয়োজনে বিরোধিতা করব। আবার সরকারের সদর্থক ভূমিকার প্রশংসাও করব।” 

Advertisement

এখন প্রশ্ন হল, এই ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনেই কি সার্বিকভাবে মমতার হাত থেকে তৃণমূলের মালিকানা দাবি করতে পারেন ঋতব্রত? বিষয়টা এতটা সোজা নয়। দলের প্রতীক-নাম এবং অন্যান্য সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার দাবি করার বিষয়টি অনেক বৃহৎ এবং সেই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিচারের এক্তিয়ারে পড়ে। যদি ঋতব্রতরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেন তাহলে নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। নির্বাচন কমিশন সেক্ষেত্রে দলের সব বিধায়ক-সাংসদ এমনকী পদাধিকারীদের মতামত জানতে চাইবে-আসল তৃণমূল হিসাবে তারা কাকে স্বীকৃতি দিতে চায়। সেই মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। যদিও সেই সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করা যায় আদালতে। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.