রমণী বিশ্বাস, তেহট্ট: প্রয়াত তেহট্টের বিধায়ক তাপস সাহা। বুধবারই তেহট্টে নিজের বাড়িতে ঘুমের মধ্যে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। ব্রেন ডেথও হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সোয়া আটটা নাগাদ কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গীকে হারালেন বলে এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন তিনি।
নদীয়ার তেহট্টের বিধায়ক, আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, শ্রী তাপস সাহা’র অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি আমার অনেক দিনের পুরাতন সহকর্মী ছিলেন। তাঁর এই মৃত্যু জেলা তথা বাংলার রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি।
Advertisementআমি তাঁর পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন,…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) May 15, 2025
২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পলাশিপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন তাপস সাহা। ২০২১ সালে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র পরিবর্তন করে দল। তেহট্ট থেকে নির্বাচিত হন তাপস। এরপর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ায় তাঁর। বাড়িতে সিবিআইও হানা দেয়। তল্লাশি হয়, কণ্ঠস্বরও সংগ্রহ করে তদন্তকারীরা। এর মাঝেই বুধবার নিজের বাড়িতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলেন তিনি। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক মাস আগে বেঙ্গালুরুতে যান চিকিৎসার জন্য। অবশ্য ফের পুর্ণোদ্যমে দলীয় কাজকর্ম শুরু করেন। কিন্তু বুধবার ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এদন দুপুরে বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হয় তাপস সাহার মরদেহ। তাঁর মৃতদেহে মাল্যদান করতে বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে, নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত নদিয়ার তেহট্টের বিধায়কের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে বলে বুধবারই হাই কোর্টে জানিয়েছিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে এও জানানো হয়, বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি সম্প্রতি দিয়েছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। তবে এই মামলায় রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকরা কেস ডায়েরি-সহ সম্পূর্ণ নথি দেয়নি বলে অভিযোগ সিবিআইয়ের। তার প্রেক্ষিতে আগামী ২০ মে পরবর্তী শুনানিতে এনিয়ে রাজ্যের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ। যদিও কেস ডায়েরির একটা প্রতিলিপি আদালতের কাছে আছে বলে দাবি করেন তাপস সাহার আইনজীবী। এর মাঝেই প্রয়াত হলেন তাপস সাহা। তবে কি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের চাপ অসহনীয় হয়ে উঠল তাঁর কাছে? আর তাতেই ব্রেন স্ট্রোক? প্রশ্ন অনেক। উত্তর অজানা।
সর্বশেষ খবর
-
মিরিকে ধস, জলমগ্ন আলিপুরদুয়ার, তোর্সায় বেড়েছে জল, বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে দুর্ভোগে পর্যটকরা!
-
শিল্পের খরা কাটছে জঙ্গলমহলে! ইকো টুরিজমে ভরসা করে কর্মসংস্থানের ডাক ঝাড়গ্রামে
-
বাংলায় লিচু-বিপ্লব! অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে আকাশপথে ভিনরাজ্যে মরশুমি ফল
-
বয়সকে তুড়িতে উড়িয়ে দুর্গম ‘মুকার বে’ শৃঙ্গ জয় ষাটোর্ধ্ব বসন্তর
-
গাড়িতে বোমা, প্রাক্তন প্রেমিকাকে অপহরণ করে ‘সহমরণে’র ফাঁদ, তারপর…