Wimbledon

জকোভিচ থেকে শিয়নটেক, উইম্বলডনের ভারতীয় তোয়ালের প্রেমে মজেছেন বিশ্বসেরা তারকারা

উইম্বলডনের গ্যালারিতে চোখ রাখলে শুধু টেনিসের প্রতিভার ছটা নয়, নজর কাড়বে অন্য এক বিলাসী অনুষঙ্গও। তা হল খেলোয়াড়দের হাতের সেই রঙিন তোয়ালে। কোর্টের ঘাম মোছার গণ্ডি পেরিয়ে যা এখন হয়ে উঠেছে আভিজাত্যের প্রতীক। আর এই রাজকীয় তোয়ালের বুননেই জড়িয়ে রয়েছে ভারতবর্ষ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১১, ২০২৬, ২১:১০

options
link
জকোভিচ থেকে শিয়নটেক, উইম্বলডনের ভারতীয় তোয়ালের প্রেমে মজেছেন বিশ্বসেরা তারকারা
কীভাবে তৈরি হয় এই তোয়ালে? জানেন!

সবুজ ঘাসের কোর্টে তখন গতির ঝড়। র‍্যাকেটের সুইং আর টেনিস বলের জাদুতে বুঁদ গোটা বিশ্ব। তবে উইম্বলডনের গ্যালারিতে চোখ রাখলে শুধু টেনিসের প্রতিভার ছটা নয়, নজর কাড়বে অন্য এক বিলাসী অনুষঙ্গও। তা হল খেলোয়াড়দের হাতের সেই রঙিন তোয়ালে। কোর্টের ঘাম মোছার গণ্ডি পেরিয়ে যা এখন হয়ে উঠেছে আভিজাত্যের প্রতীক। আর এই রাজকীয় তোয়ালের বুননেই জড়িয়ে রয়েছে ভারতবর্ষ।

Advertisement
ছবি: সংগৃহীত

কীভাবে তৈরি হয় এই তোয়ালে?
শুনতে অবাক লাগলেও, উইম্বলডনের এই ভাইরাল তোয়ালের নাড়ি পোঁতা রয়েছে গুজরাটের ভাপিতে। ১৯৮৭ সাল থেকে ব্রিটিশ ব্র্যান্ড ‘ক্রিস্টি’ এই প্রতিযোগিতার অফিশিয়াল তোয়ালে তৈরি করছে। তবে বছর পনেরো আগে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের অন্যতম নামী সংস্থা ‘ওয়েলস্পান’ এই ব্র্যান্ডটি কিনে নেয়। তারপর থেকেই এর উৎপাদন শুরু হয় ভারতে। প্রতি বছর উইম্বলডন শুরুর প্রায় দেড় বছর আগে থেকে শুরু হয় এর নকশা তৈরির কাজ। একটি তোয়ালে নিখুঁতভাবে তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় সাত দিন।

Advertisement
ছবি: সংগৃহীত

এবারে নতুনত্ব কী?
এবার ঐতিহ্যবাহী সবুজ ও বেগুনি রঙের পাশাপাশি এসেছে একটি বিশেষ ‘স্ট্রবেরি’ রঙের তোয়ালে। টুর্নামেন্টের বিখ্যাত খাবার ‘স্ট্রবেরি অ্যান্ড ক্রিম’-এর প্রতি সম্মান জানিয়েই এই রঙের ছোঁয়া। প্রিমিয়াম কটন সুতোয় তৈরি এই তোয়ালে এতটাই নরম ও জলশোষক যে, এর প্রেমে পড়েননি এমন তারকা মেলা ভার। নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ শেষে তোয়ালে ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু সিংহভাগ খেলোয়াড়ই তা করেন না। মাত্র ১৫ শতাংশ তোয়ালে ফেরত আসে। বাকিটা আশ্রয় নেয় খেলোয়াড়দের কিট ব্যাগে।

Advertisement

তোয়ালের প্রেমে গোটা বিশ্ব!
পোল্যান্ডের ইগা শিয়াতেক তো প্রতিবারই ব্যাগ ভর্তি করে এই তোয়ালে বাড়ি নিয়ে যান। ভক্তরা তাঁকে ভালোবেসে ‘উইম্বলডনের তোয়ালে চোর’ বলেও ডাকেন। নোভাক জকোভিচও একবার ঠাট্টা করে বলেছিলেন, বন্ধু-বান্ধবদের উপহার দেওয়ার জন্য তিনিও তোয়ালে জমিয়ে বাড়ি নিয়ে যান। প্রায় ২৫০০ তোয়ালে প্রতি বছর এভাবেই মাঠ থেকে উধাও হয়। এই উদ্বৃত্ত তোয়ালে দিয়ে ক্রিস্টি এখন তৈরি করছে বিলাসবহুল টোট ব্যাগ ও পোশাক। যার দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকার কাছাকাছি।

ছবি: সংগৃহীত

উইম্বলডনের সঙ্গে ভারতের এই প্রেম অবশ্য এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি উইম্বলডনের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে রজার ফেডেরারের শট ছড়িয়ে পড়েছে ‘পহেলা নেশা’ গানের সুরে। জকোভিচের কোর্ট কাঁপানো মুহূর্তের নেপথ্যে বেজেছে ডিভাইন-এর ‘বাজিগর’। শুধু গানই নয়, দিল্লির শতবর্ষ প্রাচীন ‘কুরেমাল কুলফি’-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে উইম্বলডন তৈরি করেছে বিশেষ স্ট্রবেরি কুলফি। সাহেবি মেজাজ আর ভারতীয় স্বাদের এই মেলবন্ধন যেন খেলাধুলার আঙিনায় এক নতুন যুগের সূচনা করল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.