Summer Fruits

গরমের ফলেই সুগার স্পাইক! ডায়াবেটিসে কোন ফল বাঁচাবে, এড়িয়ে চলবেন কোনগুলি?

ডায়াবেটিস মানেই জীবনের স্বাদহীনতা নয়। বরং খাদ্যাভ্যাসকে একটু সচেতনভাবে গুছিয়ে নিলেই সবকিছুই উপভোগ করা সম্ভব, গরমের মিষ্টি ফলও তার বাইরে নয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৫, ২০২৬, ২১:২২

options
link
গরমের ফলেই সুগার স্পাইক! ডায়াবেটিসে কোন ফল বাঁচাবে, এড়িয়ে চলবেন কোনগুলি?
ডায়াবেটিসে সব ফল কি নিরাপদ? ছবি: সংগৃহীত

গরম মানেই আম, জাম, কাঠলের মতো সুস্বাদু রসালো ফলের সমাহার। কিন্তু যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে, এই ফলগুলো কি আদৌ নিরাপদ? উত্তরটা সহজ, হ্যাঁ, তবে বুঝে-শুনে খেতে হবে।

Advertisement

ফল মানেই শুধু মিষ্টি নয়। এতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ফাইবার এমন এক উপাদান, যা রক্তে শর্করার ওঠানামা ধীর করে। ফলে হঠাৎ করে সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
diabetes summer fruits sugar spike safe vs risky
ডায়াবেটিস থাকলে ফল একটু বুঝে-শুনে। ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবেটিসে মূল চ্যালেঞ্জ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। দীর্ঘদিন সুগার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, স্নায়ু বা চোখের ক্ষতির মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কী খাবেন, কখন খাবেন, এই সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম
ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দুটি। ১. গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) এবং পরিমাণ। জিআই বোঝায় কোন খাবার কত দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায়। কম জিআই-যুক্ত ফল যেমন আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, জাম বা পেঁপে- এসব ফল ধীরে ধীরে গ্লুকোজ বাড়ায়। ফলে এগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং নিয়ম মেনে খাওয়াই যায়। তবে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি, ফলের রস নয়, আস্ত ফলই খেতে হবে। কারণ জুস করলে ফাইবার কমে যায়, আর তখন সুগার দ্রুত বাড়তে পারে।

diabetes summer fruits sugar spike safe vs risky
একসঙ্গে অনেকটা নয়। ছবি: সংগৃহীত

সব ফল কি নিরাপদ?
না, কিছু ফল আছে যেগুলো বেশি মিষ্টি বা উচ্চ জিআই-যুক্ত। যেমন- আম, তরমুজ, আঙুর, আনারস। এসব ফল খেতে হলে একেবারে বাদ দিতে হবে এমন নয়, কিন্তু কতটা খাচ্ছেন সেটাই এখানে মূল বিষয়। একটু বেশি খেলেই সুগার হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, এটাই ঝুঁকি।

কীভাবে ফল খেলে ঝুঁকি কমবে?
ডায়াবেটিস থাকলেও ফল খাওয়া পুরোপুরি নিরাপদ করা যায়, যদি কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চলা যায়-

  • ফলের সঙ্গে প্রোটিন বা ভালো ফ্যাট যোগ করুন। যেমন আমন্ড বাদাম বা দই। এতে রক্তে শর্করা ধীরে বাড়বে।
  • একবারে বেশি ফল না খেয়ে, দিনে ১-২ বার ভাগ করে খান।
  • খালি পেটে বা ভারী খাবার খাওয়ার পর ফল খাওয়া এড়িয়ে চলুন, এতে সুগার দ্রুত বাড়তে পারে।
  • ফল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় দুপুরের আগে বা বিকেলে।
  • খেয়াল রাখুন, পরিমাণের দিকেও। একটা মাঝারি মাপের পেয়ারা বা ছোট একটা আপেল খেতে পারেন। বেশি নয়।
diabetes summer fruits sugar spike safe vs risky
শুধু পরিমাণ নয়, সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত

গরমকালে বাড়তি সতর্কতা

  • গরমে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়, যা রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করা খুব জরুরি। শসা বা তরমুজের মতো জলসমৃদ্ধ ফল এতে সাহায্য করতে পারে।
  • জিআই বেশি এমন কোনও ফল খেলে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করে দেখুন, আপনার শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে, সেটাই হবে আপনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গাইড।
  • আর একটা বড় ভুল ফলের রস, ক্যানজাত ফল বা শুকনো ফল খাওয়া। এগুলোতে অতিরিক্ত চিনি থাকে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ডায়াবেটিস মানেই জীবনের স্বাদহীনতা নয়। বরং খাদ্যাভ্যাসকে একটু সচেতনভাবে গুছিয়ে নিলেই সবকিছুই উপভোগ করা সম্ভব, গরমের মিষ্টি ফলও তার বাইরে নয়। শরীরের কথা শুনুন, পরিমাণ বুঝুন, আর প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন- এই তিনই আপনাকে রাখবে নিরাপদ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.