স্বপরিবারে যাচ্ছেন? সাবধান! ভারতের এই ১০ স্থানে শুধু বন্ধুদের সঙ্গেই চুটিয়ে আড্ডা হবে
বাঙালির বারো মাসে ছত্রিশ ভ্রমণ। যেকোনও একটা সুযোগ পেলেই হল। পরিবার হোক বা প্রাণের বন্ধু। দল বেঁধে ভ্রমণের মজাই আলাদা। তবে, এই ভারতেই রয়েছে এমন বেশ কিছু স্থান, যেখানে বাড়ির সদস্য নয়, যেতে হলে সঙ্গে নিতে হবে প্রিয় বন্ধুকে। কেন? নাহলে যে ভ্রমণের আনন্দটাই মাটি! ভারতের কোন কোন স্থান। জানেন কি?
আরও পড়ুন:
কসৌল, হিমাচল প্রদেশ: হিমাচলের এই ছোট্ট গ্রামটি এখন তরুণ প্রজন্মের স্বর্গরাজ্য। এখানে পা রাখলেই নাকে আসবে এক অদ্ভুত মাদক গন্ধ। কসৌল মূলত পরিচিত তার হিপি কালচার এবং ড্রাগের সহজলভ্যতার জন্য। এখানে যত্রতত্র নেশাগ্রস্ত পর্যটকদের দেখা মেলে। গুরুজনদের সামনে এমন পরিবেশ আপনাকে চরম লজ্জায় ফেলতে পারে। তাই কসৌল থাক বন্ধুদের জন্য।
ওজরান বিচ, গোয়া: গোয়া মানেই উন্মাদনা। তবে উত্তর গোয়ার ওজরান বিচ বা লিটল ভাগাতোর সৈকত একটু বেশিই সাহসী। এখানে বিদেশের মতো খোলামেলা সংস্কৃতি চলে। বিদেশিরা তো বটেই, ভারতীয় তরুণরাও এখানে প্রায় নগ্ন হয়ে সূর্যস্নান করেন। রক্ষণশীল পরিবারের সঙ্গে এমন দৃশ্য দেখা নিশ্চিতভাবেই অস্বস্তিকর। পরিবারের বদলে এখানে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
প্যারাডাইস বিচ, গোকর্ণ: কর্ণাটকের গোকর্ণ যতটা আধ্যাত্মিক, তার সমুদ্র সৈকতগুলো ততটাই আধুনিক। বিশেষ করে প্যারাডাইস বিচে পৌঁছাতে হয় ট্রেকিং করে বা বোটে। এখানকার নির্জনতায় বিদেশিরা অনেক সময় সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে স্নান করেন। পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়ে এমন দৃশ্য এড়িয়ে চলাই ভালো। এখানে উদ্দাম পার্টি আর হিপি সংস্কৃতির আধিপত্য রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ধর্মকোট, হিমাচল প্রদেশ: ম্যাক্লিওডগঞ্জ থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে এই গ্রামটি ‘মিনি ইজরায়েল’ নামে পরিচিত। এখানে পর্যটকদের চেয়ে হিপিদের ভিড় বেশি। সারাদিন ক্যাফেগুলোতে চলে ধোঁয়াটে আড্ডা। এই পরিবেশ পরিবারের বয়স্কদের একদমই পছন্দ হবে না। শান্তিতে সময় কাটাতে আসা পরিবার এখানে এসে মেজাজ হারাতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেকিংয়ের জন্য এটি আদর্শ।
বরকালা, কেরালা: কেরালার এই সৈকতটি হিপিদের আখড়া। এখানে পাহাড়ের ধারে ক্যাফেগুলোতে যে ধরনের গান এবং পরিবেশ থাকে, তা পরিবারের সঙ্গে খাপ খায় না। এমনকী ড্রাগস এবং অ্যালকোহলের সহজলভ্যতা এখানে প্রবল। পরিবারের সঙ্গে কেরালা ভ্রমণে গেলে মুন্নার বা আলেপ্পি অনেক নিরাপদ। বরকালা থাক শুধুমাত্র বন্ধুদের সঙ্গে উদ্দাম রাত কাটানোর জন্য।
পুষ্কর, রাজস্থান: শুনতে অবাক লাগলেও পুষ্কর কিন্তু হিপি সংস্কৃতির বড় কেন্দ্র। বিশেষ করে হোলির সময় এখানে যে ধরনের উন্মাদনা চলে, তা পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করা অসম্ভব। জামাকাপড় ছেঁড়া থেকে শুরু করে ভাঙের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা জনতা অন্যদের মনে ভয় ধরাতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে সেই উন্মাদনা উপভোগ করা যতটা সহজ, পরিবারের সঙ্গে ততটাই কঠিন।
মালাণা, হিমাচল প্রদেশ: পৃথিবীর প্রাচীনতম গণতান্ত্রিক গ্রাম বলে পরিচিত মালাণা। তবে এর মূল আকর্ষণ ‘মালাণা ক্রিম’ বা উচ্চমানের চরস। এখানকার স্থানীয় নিয়মকানুন অত্যন্ত কড়া এবং বহিরাগতদের ছোঁয়া নিষিদ্ধ। এই ড্রাগ সংস্কৃতির টানেই পর্যটকরা এখানে আসেন। এমন একটি স্থানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়া মানেই বিড়ম্বনা ডেকে আনা। এখানে ট্রেকিং আর নির্জনতা শুধু বন্ধুদেরই মানায়।
পাালোলেম বিচ, দক্ষিণ গোয়া: দক্ষিণ গোয়া সাধারণত শান্ত। কিন্তু পাললোলেম বিচের রাতের দৃশ্য অন্যরকম। এখানকার সাইলেন্ট হেডফোন পার্টি বা বিচ সাইড ক্যাফেগুলোতে পর্যটকদের মেলামেশা অনেক সময় পরিবারের চোখে শোভন না-ও হতে পারে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার এই পরিবেশ বন্ধুদের সঙ্গে উপভোগ্য হলেও গুরুজনদের সামনে তা আড়ষ্টতা তৈরি করে।
ঋষিকেশ (লক্ষ্মণ ঝুলা এলাকা), উত্তরাখণ্ড: গঙ্গার ঘাট পবিত্র হলেও লক্ষ্মণ ঝুলার আশেপাশের ক্যাফেগুলো এখন পশ্চিমা সংস্কৃতির আখড়া। এখানে সারাদিন চিল-আউট মিউজিক। আর তামাকের ধোঁয়া। তীর্থযাত্রী বয়স্ক মানুষরা এই আধুনিকতার ভিড়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন না। তাদের জন্য রাম ঝুলা ভালো হলেও, বন্ধুদের আড্ডার আসল ঠিকানা কিন্তু এই লক্ষ্মণ ঝুলার ক্যাফেগুলোই।