আংটি বদলের পরও হয়নি বিয়ে! অঞ্জু মহেন্দ্রর সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করেও কেন পিছিয়ে আসেন সোবার্স?
ততদিনে সোবার্স কিংবদন্তি। আর অঞ্জু নবাগতা। খবরের কাগজের পেজ থ্রি-তে উঠে আসত তাঁদের প্রেমকাহিনি।
১৯৫৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের। ১৯৫৮ সালে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতেই এল অপরাজিত ৩৬৫। এরপর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দ্রুতই ক্রিকেট আইকনে পরিণত হন তিনি। নবাগতা অভিনেত্রী অঞ্জু মহেন্দ্রর সঙ্গে আলাপের সময়ে তিনি ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের রাজপুত্র। অঞ্জু তাঁর চেয়ে ৯ বছরের ছোট। তবু আচমকাই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁদের।
আরও পড়ুন:
মডেলিং দিয়ে কেরিয়ার শুরুর পর অভিনয় জগতে পা দেন অঞ্জু। 'জুয়েল থিফ'-এর মতো ছবিতে তাঁকে দেখে মুগ্ধ সিনেমাপ্রেমীরা। এরই মধ্যে এক পার্টিতে নাকি আলাপ হয় দু'জনের। সোবার্স সেই সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সঙ্গে ভারতে এসেছেন। সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের মানুষ। বয়সেরও ফারাক ছিল। কিন্তু তবু দু'টি মন দ্রুত কাছাকাছি চলে আসে।
সফর শেষে ফিরে যাওয়ার আগে অঞ্জুকে সোবার্স জানিয়েছিলেন, তিনি ফিরে আসবেন দ্রুত। এমনকী আংটি বদলও নাকি হয়ে গিয়েছিল। কাগজের পাতায় তাঁদের প্রেমকাহিনি বেরোত রমরমিয়ে। কিন্তু... এরপর সেই কাহিনি হয়ে যায় বিয়োগান্তক। সোবার্স আর ফিরে আসেননি। কিন্তু কেন? শোনা যায়, ভৌগলিক দূরত্ব ছিল একটা বড় ফ্যাক্টর। বোঝাপড়ার সমস্যাও ছিল। ফলে ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে ভালোবাসার নীল রং।
শেষপর্যন্ত ১৯৬৯ সালে বিয়ে হয়ে যায় সোবার্সের। তবে তিনি বিয়ের আগে চিঠি লিখে অঞ্জুর সম্মতিও নেন। প্রাক্তন প্রেমিকা কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে চাননি। শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন। বলে রাখা ভালো, এই সময়ের মধ্যে রাজেশ খান্নার সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল তাঁর। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২- ছ'বছরের এই সম্পর্কের মাঝেই এসে দাঁড়িয়েছিলেন সোবার্স। তবে তাঁর আগমনের পর আর দানা বাঁধেনি সেই সম্পর্কও।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার প্রয়াত হয়েছেন স্যর গ্যারফিল্ড সোবার্স। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় অতীতের স্মৃতিচারণ। অঞ্জুও এখন অশীতিপর। তিনি সংবাদমাধ্যমে কোনও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বলে জানা নেই। তবে ভিতরে ভিতরে তিনিও কি হেঁটে যাননি স্মৃতির সরণি বেয়ে! ফেলে আসা জীবনের এক উষ্ণ সম্পর্কের কথা নতুন করে নিশ্চয়ই ভাবিয়েছে। যে সম্পর্ক রয়ে গিয়েছে ক্রিকেট-বলিউড রোম্যান্সের এক অনন্য কাহিনি হয়ে।