আমরা সাধারণত রক্তে উচ্চ শর্করা বা হাই ব্লাড সুগারের ঝুঁকি নিয়ে বেশি আলোচনা করি, কিন্তু রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া সেভাবে আলোচনায় আসে না। কিন্তু হাই ব্লাড সুগারের মতো হাইপোগ্লাইসেমিয়াও সমানভাবে বিপজ্জনক। কখনও কখনও কয়েক মিনিটের মধ্যেই জীবনহানির কারণও হতে পারে। কারণ গ্লুকোজ আমাদের শরীরের প্রধান জ্বালানি। এটি হঠাৎ কমে গেলে শরীর একপ্রকার ‘এনার্জি ক্রাইসিস’-এ চলে যায়।
আরও পড়ুন:

লো ব্লাড সুগারের ঝুঁকি
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া
মস্তিষ্ক গ্লুকোজ বা শর্করার উপর নির্ভরশীল। সুগার কমে গেলে বিভ্রান্তি, বিরক্তি, মনোযোগে ঘাটতি, এমনকী ‘ব্রেন ফগ’ দেখা দিতে পারে।
শারীরিক লক্ষণ
ঘাম, কাঁপুনি, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পড়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনা
হঠাৎ দুর্বলতা বা ভারসাম্য হারালে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
মারাত্মক জটিলতা
দীর্ঘ সময় চিকিৎসা না হলে কোমা বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
হৃদ্যন্ত্রের উপর প্রভাব
লো সুগারে শরীরে ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এতে হার্টবিট বেড়ে যায়, রক্তচাপ বাড়ে, এমনকী অনিয়মিত হার্টবিট বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে।
আরও পড়ুন:

সম্ভাব্য কারণ
ডায়াবেটিসের ওষুধ: অতিরিক্ত ইনসুলিন বা সুগার কমানোর ওষুধ
খাবার না খাওয়া: ওষুধ নেওয়ার পর খাবার মিস করা
অতিরিক্ত মদ্যপান: খালি পেটে মদ্যপান করলে লিভার থেকে গ্লুকোজ তৈরি কমে যায়
অতিরিক্ত ব্যায়াম: পর্যাপ্ত খাবার ছাড়া দীর্ঘ সময় শারীরিক কসরত
হরমোনের সমস্যা: অ্যাড্রিনাল বা পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা
রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া: বেশি কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পর অতিরিক্ত ইনসুলিন নিঃসরণ
কী করবেন?
তৎক্ষণাৎ করণীয়
লক্ষণ দেখা দিলে ১৫-২০ গ্রাম দ্রুত শোষিত কার্বোহাইড্রেট নিন, যেমন গ্লুকোজ ট্যাবলেট, ফলের রস, সাধারণ সফট ড্রিংক বা মিষ্টি। ১৫ মিনিট পর আবার সুগার চেক করুন, প্রয়োজন হলে পুনরায় খান।
দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ
ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধ ও ডায়েট ঠিক করুন। নিয়মিত সুষম খাবার (প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসহ) খেলে সুগার হঠাৎ কমার ঝুঁকি কমে।

সবসময় সঙ্গে রাখুন
গ্লুকোজ বিস্কুট, ক্যান্ডি ইত্য়াদি রাখলে জরুরি সময়ে কাজে আসে।
সচেতনতা বাড়ান
লক্ষণ চেনা ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্পর্কে জানা জরুরি।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
- বারবার লো ব্লাড সুগার
- লক্ষণ নিজে থেকে ঠিক না হওয়া
- কারণ বুঝতে না পারা
- অজ্ঞান হওয়া বা খিঁচুনির মতো গুরুতর সমস্যা
লো ব্লাড সুগারকে অবহেলা করা ঠিক নয়। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, কিন্তু অবহেলা করলে তা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই লক্ষণ চিনুন, সময়মতো ব্যবস্থা নিন এবং প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মন্দারমণির উত্তাল সমুদ্রে বড় অঘটন, স্নানে নেমে মৃত ১, খোঁজ নেই আরও এক পর্যটকের
-
বিমানবন্দরের ধাঁচে গড়ে উঠবে হাওড়া স্টেশন, থাকবে আধুনিক সুবিধা! পরিদর্শনে মন্ত্রী
-
আরাবুলের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা! কপাল জোরে প্রাণরক্ষা ভাঙড়ের ‘তাজা’ নেতার
-
ওড়িশা উপকূলে ডুবল পানামার পতাকাধারী জাহাজ! ২৪ নাবিকের খোঁজে তল্লাশি
-
রাজস্থানের ৬১১ সরকারি স্কুলের নিজস্ব ভবনই নেই! ‘আরশোলা’দের কর্মসূচির মাঝেই প্রকাশ্যে রিপোর্ট