Pig heart

মানব দেহে শূকরের হার্ট! যুগান্তকারী অস্ত্রোপচারে আশার আলো দেখছে কলকাতার চিকিৎসকমহল

কীভাবে সম্ভব হল এই অস্ত্রোপচার?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০২২, ১৪:০১

options
link
মানব দেহে শূকরের হার্ট! যুগান্তকারী অস্ত্রোপচারে আশার আলো দেখছে কলকাতার চিকিৎসকমহল

গৌতম ব্রহ্ম: বরাহ নন্দন বলে গাল পারার দিন বোধহয় শেষ! কারণ মনুষ্যেতর এই প্রাণীর হৃদযন্ত্র সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয়েছে মানব দেহে। হ্যাঁ, বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এটাই সত্যি। আর এই যুগান্তকারী ঘটনা নিয়ে পুলকিত তিলোত্তমার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জনরা।

Advertisement

কলকাতার চিকিৎসকদের মতে, শূকরের হার্টে (Pig Heart) যদি আমেরিকার ডেভিড বেনেট যদি বেঁচে যান, তাহলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মোড় ঘুরে যাবে। হৃদযন্ত্র বিকল হওয়া বহু মানুষের পুনর্জন্ম হবে। এমনই মত ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন চিকিৎসক তাপস রায়চৌধুরীর। তাপসবাবুর হাত ধরেই ২০১৮ সালে কলকাতা হার্ট ট্রান্সপ্লান্টেশনে নাম লিখিয়েছে। তাপসবাবু বলেন, “শূকরের হার্টের ১০ টা জিন বদলে আসল কেরামতি দেখিয়েছে ভার্জিনিয়ার ‘রিভিভিকোর’। ওই জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দৌলতেই এই জেনো ট্রান্সপ্লান্ট সম্ভব হয়েছে। আমাদের দেশে এই ধরনের ট্রান্সপ্লান্ট করতে গেলে আগে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিপ্লব দরকার।” একই বক্তব্য কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডা: প্লাবন মুখোপাধ্যায়ের। প্লাবনবাবুর নেতৃত্বেই প্রথম সরকারি হাসপাতালে হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: টিম পিকে’র সঙ্গে যোগাযোগ! বেফাঁস কথা বলে দলের রোষের মুখে বিজেপি নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী]

এ বিষয়ে প্লাবনবাবু সংবাদ প্রতিদিনকে জানান, “এটি একটি মাইলস্টোন। এমন ঘটনা কল্পনাতেও অসম্ভব ছিল। ইউনভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড মেডিক্যাল স্কুলকে (University of Maryland Medical School) অনেক অভিনন্দন। আসলে মনুষ্যেতর প্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা বহুদিন ধরেই চলছে। সমস্যা হল, ‘রিজেকশান’। এখন দেখার দশ জিনের বদল সেই প্রত্যাখ্যান আটকাতে পারে কি না।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত শুক্রবারই ডেভিড বেনেট নামে ৫৭ বছরের এক মার্কিনির শরীরে শূকরের হার্ট প্রতিস্থাপিত হয়। একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন ডেভিড। ডু-অর-ডাই সিচুয়েশন থেকেই ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সার্জন বার্টলে গ্রিফিথ। উনি ডেভিডের শরীরে শূকরের হার্ট বসিয়েছেন। জানা গিয়েছে, যে শূকরের হার্টটি অপারেশনে ব্যবহার করা হয়েছে সেটির ১০ টি জিন ‘এডিট’ করা হয়েছিল। প্রত্যাখ্যানের জন্য দায়ী তিনটে জিনকে প্রথম বাদ দেওয়া হয়। তারপর সেই জিনটিকে বাদ দেওয়া হয় যেটি শূকরের হার্টের মাত্রাতিরিক্ত বাড়বাড়ন্তের জন্য দায়ী। এরপর ছ’টা মানুষের জিন প্রবেশ করানো হয় সেই শূকরের ডিএনএতে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১০ টি জিনের অদলবদল হয়েছে।

এই অত্যন্ত জটিল কাজটি করেছে ‘রিভিভিকোর’ বলে ভার্জিনিয়ার একটি সংস্থা। গত অক্টোবরে এরাই প্রথম শূকরের দেহে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করেছিল। ব্রেন ডেথ হওয়া এক মানব দেহে শূকরের সেই কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপিতও হয়েছিল। এবার আরও বড় পদক্ষেপ। শহরের অন্যতম কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডা: প্রতিম সেনগুপ্ত এই ঘটনাকে এতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ১৯৮৪ সালে বেবুনের হার্ট একটি সদ্যজাত শিশুর শরীরে বসানো হয়েছিল। অস্ত্রোপচার সফলও হয়। কিন্তু শিশুটি ২০ দিনের বেশি বাঁচেনি। এখন দেখার বরাহ হৃদয় নিয়ে ডেভিড কতদিন বেঁচে থাকেন।

[আরও পড়ুন: ভোট-মেলা বন্ধের কথায় অভিষেকের প্রশংসা ডা. কুণাল সরকারের, পালটা কুর্নিশ সাংসদের]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.