গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সলমন খানের বদলে যাওয়া চেহারা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় বিস্তর আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে আগের তুলনায় অনেকটাই ছিপছিপে দেখার পর থেকেই অনুরাগীদের একাংশের প্রশ্ন ছিল, ভাইজানের শরীর ঠিক আছে তো?
আরও পড়ুন:
শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনায় ইতি টেনে অভিনেতা নিজেই জানালেন, তিনি ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন। তবে কোনও অসুস্থতার কারণে নয়, বরং সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ফিটনেস রুটিন মেনেই এই পরিবর্তন।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি এক রিয়্যালিটি শোয়ে ভাই সোহেল খানের সঙ্গে কথোপকথনের সময়ই বিষয়টি সামনে আসে। সোহেল জানান, তিনি ১২ কেজি ওজন কমিয়ে আবার সিক্স-প্যাক অ্যাবস ফিরে পেয়েছেন। তখনই সলমন (Salman Khan) হেসে বলেন, ‘আমি ১৬ কেজি কমিয়েছি।’ এই এক কথাতেই অভিনেতার স্বাস্থ্য নিয়ে চলা সব জল্পনার অবসান হয়।

ওজন কমা মানেই অসুস্থতা নয়
পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ওজন কমানো শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি হাঁটু ও কোমরের উপর চাপ কমে, ঘুমের মান উন্নত হয় এবং শরীর আরও কর্মক্ষম হয়ে ওঠে।
ধীরে কমান, সুস্থ থাকুন
চিকিৎসকদের মতে, সপ্তাহে গড়ে হাফ কেজি থেকে ১ কেজি ওজন কমানোই সবচেয়ে নিরাপদ। দ্রুত রোগা হওয়ার আশায় কঠোর ডায়েট, না খেয়ে থাকা বা অতিরিক্ত শরীরচর্চা করলে পেশি ক্ষয়, পুষ্টির ঘাটতি, দুর্বলতা এবং বিপাকক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর জন্য খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে নিয়মিত শক্তিবর্ধক ও কার্ডিও ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিমিত জল পানও সমান জরুরি।

হঠাৎ ওজন কমলে সতর্ক
কোনও চেষ্টা ছাড়াই যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তা কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে এর সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তি, খিদে কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন জ্বর, রাতে অতিরিক্ত ঘাম, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, পায়খানায় রক্ত, দীর্ঘদিনের কাশি বা গিলতে সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এ ধরনের অনিচ্ছাকৃত ওজন কমে যাওয়া থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, পরিপাকতন্ত্রের রোগ, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ বা কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারেরও প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
তারকার অনুপ্রেরণা, সিদ্ধান্ত হোক নিজের
তারকাদের ফিটনেস অনেককে অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু প্রত্যেকের শরীর, বয়স, বিপাকক্রিয়া এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থা আলাদা। তাই অন্যের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজের তুলনা না করে, চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর দিকেই জোর দেওয়া উচিত।
সলমন খানের ১৬ কেজি ওজন কমানোর খবর শুধু তাঁর ফিটনেসের গল্প নয়। বরং এটি মনে করিয়ে দেয়, ওজন কমানোর আসল সাফল্য দাঁড়িপাল্লার সংখ্যায় নয়, বরং তা কতটা স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ এবং দীর্ঘদিন তা মেনে চলা সম্ভব কি না, তার উপরই নির্ভর করে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
-
ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর, মাকে শ্লীলতাহানি! পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ