গরম চা বা কফি অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কিন্তু কাপ থেকে ধোঁয়া ওঠা পানীয় ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষা না করে পানের অভ্যাস কি ক্ষতিকর? নতুন এক গবেষণা বলছে, অত্যন্ত গরম পানীয় নিয়মিত পানের সঙ্গে খাদ্যনালির এক বিশেষ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। এমনকী পানীয় ‘অত্যন্ত গরম’ অবস্থায় খাওয়ার অভ্যাস থাকলে এই ঝুঁকি প্রায় তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন:
সমীক্ষায় প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের তথ্য
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ব্রিটেনের প্রায় ৯ লক্ষ ৮০ হাজার প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ইউকে বায়োব্যাঙ্ক এবং মিলিয়ন উইমেন স্টাডির অংশগ্রহণকারীরাও এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ক্যানসার-এ।
আরও পড়ুন:
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা তাঁদের পানীয়কে ‘গরম’ অবস্থায় পান করতে পছন্দ করেন, তাঁদের খাদ্যনালির স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমার ঝুঁকি ‘ঈষদুষ্ণ’ পানীয় পছন্দ করা ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ১.৭ গুণ বেশি। আর যাঁরা ‘অত্যন্ত গরম’ পানীয় খান, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি প্রায় তিনগুণ।

যত গরম, তত বেশি আশঙ্কা?
গবেষণায় শুধু পানীয়ের তাপমাত্রা নয়, দিনে কতবার গরম পানীয় পান করছেন, সেটিও দেখা হয়েছে। দিনে ছ’বার বা তার বেশি গরম পানীয় পান করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কম পরিমাণে গরম পানীয় পান করা ব্যক্তিদের তুলনায় খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি ৭১ শতাংশ বেশি ছিল।
গবেষকদের বক্তব্য, ঝুঁকি বাড়ার ক্ষেত্রে পানীয়ের তাপমাত্রার ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, দিনে কত কাপ চা বা কফি পান করছেন, তার পাশাপাশি সেটি কতটা গরম অবস্থায় পান করছেন, সেদিকে নজর দেওয়া বেশি প্রয়োজন।
বারবার গরমের ছ্যাঁকা
খাদ্যনালি মুখ থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত খাবার ও পানীয় পৌঁছে দেয়। অত্যন্ত গরম পানীয় নিয়মিত পান করলে খাদ্যনালির ভেতরের আবরণে বারবার তাপজনিত ক্ষতি হতে পারে। এর ফলে প্রদাহ এবং কোষের ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন ক্ষতি চলতে থাকলে কোষে পরিবর্তন তৈরি হয়ে ক্যানসারের পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
এর আগে আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি) ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পানীয়কে মানুষের জন্য ‘সম্ভাব্য ক্যানসার-সৃষ্টিকারী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। নতুন গবেষণার ফল সেই সতর্কতাকেই আরও জোরালো করল।

চা-কফি বন্ধ নয়, অভ্যাসে বদল
এই গবেষণার ফলকে অবশ্য চা বা কফির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার কারণ নেই। চা বা কফি খাদ্যনালির ক্যানসার ঘটায়, এমনটা দাবি করা হয়নি গবেষণাটিতে। মূল বিষয় হল পানীয়টি কতটা গরম অবস্থায় পান করছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, গরম পানীয় একটু ঠান্ডা করে পানের অভ্যাস খাদ্যনালির স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমার ঝুঁকি অনেকটাই কমায়। চা-কফি পান নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। চুমুক দেওয়ার আগে একটু ঠান্ডা করে নিন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আদানির হাসপাতালে ১০০০ শয্যা গরিবদের জন্য! ‘ভাতা-তোষণে’ মমতাকে বিঁধে উন্নয়নের আহ্বান শুভেন্দুর
-
বাংলার ভোটে কত খরচ করেছে বিজেপি? কমিশনে দেওয়া তথ্যে মিলল হিসাব
-
নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’, প্রত্যাহারের দাবিতে রেজিনগর থানার সামনে ধরনা হুমায়ুনের
-
চুলের ব্যবসায় চাপে বাংলা, বাজার দখলে এগিয়ে পড়শি দেশ
-
নিউটাউনে আদানিদের ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মুখ্যমন্ত্রীর