Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Generic vs Branded Medicine

জেনেরিক না ব্র্যান্ডেড, কোনটা? ওষুধ কেনার আগে জানুন চিকিৎসকের মত

একই মলিকিউল, অথচ দামে এত ফারাক কেন? জেনেরিক ওষুধ কি সত্যিই ব্র্যান্ডেডের মতোই কার্যকর, নাকি দামের সঙ্গে বদলায় ওষুধের মান?

ডা. শুভ্রজ্যোতি ভৌমিক
ডা. শুভ্রজ্যোতি ভৌমিক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১৫:৪৫

link
ডা. শুভ্রজ্যোতি ভৌমিক
ডা. শুভ্রজ্যোতি ভৌমিক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১৫:৪৫

options
link
জেনেরিক না ব্র্যান্ডেড, কোনটা? ওষুধ কেনার আগে জানুন চিকিৎসকের মত zoom
কার্যকারিতা কি একই?
Advertisement

জেনেরিক ও ব্র্যান্ডেড ওষুধের মধ্যে আসল পার্থক্যটা কোথায়?
একটি ওষুধের রাসায়নিক নাম, জেনেরিক বা মলিকিউলের নাম এবং বাজারজাত করার জন্য ব্র্যান্ড নাম থাকতে পারে। কোনও নতুন মলিকিউল প্রথম যে সংস্থা আবিষ্কার করে, দীর্ঘ গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর সেটি অনুমোদন পেলে তাকে ইনোভেটর বা রিসার্চ ব্র্যান্ড বলা হয়। পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে অন্য সংস্থাগুলি একই মলিকিউল তৈরি করে বাজারে আনতে পারে। সেগুলিই জেনেরিক ওষুধ।

জেনেরিক ওষুধের দাম এত কম হয় কেন?
নতুন কোনও ওষুধ আবিষ্কারের পিছনে গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিপুল অর্থ খরচ হয়। সেই বিনিয়োগের একটা অংশ ওষুধের দামে প্রতিফলিত হয়। জেনেরিক সংস্থাকে একই মলিকিউল নতুন করে আবিষ্কার করতে হয় না। মূল ওষুধের সঙ্গে তাদের তৈরি ওষুধের সমতুল্যতা বা গুণগতমান নির্দিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে দেখাতে হয়। ফলে গবেষণার খরচ তুলনামূলক কম এবং ওষুধও কম দামে বাজারে আনা সম্ভব হয়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই গুণগতমান কীভাবে যাচাই করা হয়?
এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হল বায়োইকুইভ্যালেন্স স্টাডি। সহজ করে বললে, মূল ওষুধ এবং জেনেরিক ওষুধ শরীরে গিয়ে কীভাবে শোষিত হচ্ছে, রক্তে ওষুধের মাত্রা কীভাবে বাড়ছে এবং পরে কমছে, তা নির্দিষ্ট নিয়মে পরীক্ষা করা হয়। এই ফলাফল মূল ওষুধের সঙ্গে তুলনা করা হয়। নির্ধারিত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের মধ্যে ফলাফল থাকলে জেনেরিক ওষুধ অনুমোদনের জন্য বিবেচিত হয়।

generic vs branded medicine quality effectiveness
কোনটা? ছবি: সংগৃহীত

তাহলে ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক ওষুধের কার্যকারিতা কি একই?
জেনেরিক ওষুধকে শুধু সস্তা বলে কম কার্যকর ভাবা ঠিক নয়। তবে বায়োইকুইভ্যালেন্স এবং সরাসরি ক্লিনিক্যাল ইকুইভ্যালেন্স এক বিষয় নয়। কোনও রোগে দু’টি ওষুধের সরাসরি কার্যকারিতা তুলনা করতে আলাদা ক্লিনিক্যাল স্টাডি প্রয়োজন। সব জেনেরিকের ক্ষেত্রে এই ধরনের সরাসরি তুলনামূলক গবেষণা করা হয় না। তাই জেনেরিক ওষুধের মান, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবেন কোন জেনেরিক ওষুধটি ভালো?
সাধারণ মানুষের পক্ষে শুধু ওষুধের প্যাকেট দেখে তার গুণমান বিচার করা সম্ভব নয়। তাই অনুমোদিত ওষুধ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখা জরুরি। একই মলিকিউলের একাধিক জেনেরিক ব্র্যান্ড বাজারে থাকতে পারে। কোনটি বেছে নেওয়া হবে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ইচ্ছায় বারবার ওষুধের ব্র্যান্ড বদলানো উচিত নয়।

generic vs branded medicine quality effectiveness
জরুরি চিকিৎসকের পরামর্শ। ছবি: সংগৃহীত

জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেনেরিক ওষুধ সাশ্রয়ী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় হলেও শুধু দাম কম হলেই হবে না, তার গুণমানও নিশ্চিত করতে হবে। নিম্নমানের বা ভেজাল ওষুধ বাজারে ঢুকে পড়লে রোগীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে পৌঁছনো পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর কোয়ালিটি কন্ট্রোল প্রয়োজন।

ভারতের মতো দেশে জেনেরিক ওষুধ কতটা প্রয়োজনীয়?
ভারতের মতো মধ্যম আয়ের দেশে জেনেরিক ওষুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার খরচের একটি বড় অংশ ওষুধের পিছনে যায়। দাম অত্যধিক বেশি হলে বহু রোগীর পক্ষে দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। জেনেরিক ওষুধ তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাকে মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে সাহায্য করে। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের বহু দেশেই সাশ্রয়ী চিকিৎসার জন্য জেনেরিক ওষুধের প্রয়োজন রয়েছে।

generic vs branded medicine quality effectiveness
কোনটাই খেয়ালখুশি মতো নয়। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকদের কি প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নাম লেখা উচিত?
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) চিকিৎসকদের যতটা সম্ভব জেনেরিক নামে ওষুধ লেখার পরামর্শ দিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল নির্দিষ্ট কোনও ব্র্যান্ডকে অযথা প্রাধান্য না দেওয়া। তবে বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি জটিল। যেমন কাফ সিরাপ, মাল্টিভিটামিন বা একাধিক উপাদানযুক্ত কম্বিনেশন ওষুধের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপাদানের জেনেরিক নাম আলাদা করে লেখা বাস্তবে সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই রোগীর নিরাপত্তা এবং চিকিৎসার ফলাফলকে সামনে রেখেই চিকিৎসককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সাধারণ রোগীর জন্য আপনার পরামর্শ কী?
জেনেরিক মানেই খারাপ, এই ধারণা ভুল। আবার শুধু দাম কম বলে নিজের ইচ্ছায় কোনও জেনেরিক ওষুধ বেছে নেওয়াও ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিতে হবে, বিশ্বস্ত জায়গা থেকে কিনতে হবে এবং প্রয়োজন ছাড়া ব্র্যান্ড পরিবর্তন করা উচিত নয়। জেনেরিক ওষুধ চিকিৎসাকে সাশ্রয়ী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, কিন্তু তার সঙ্গে গুণমান, মান নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীর নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.