সোশাল মিডিয়ায় ছেয়ে গিয়েছে মেদ ঝরানোর এক চাইনিজ ‘ক্যালোরি-ফ্রি’ হ্যাক। যার মূলমন্ত্রই হল— সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না! অর্থাৎ খাওয়ার আনন্দ জীবন থেকে বাদ না দিয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তবে কেন প্রাণনাশের আশঙ্কা? বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
আরও পড়ুন:
এই ট্রেন্ড অনুযায়ী, মুখের ভিতর পাতলা প্লাস্টিকের পরত বা ‘ক্লিং ফিল্ম’ গুঁজে দিচ্ছেন সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা। এরপর মুখে দিচ্ছেন খাবার। এমনভাবেই, যাতে তা সরাসরি মুখে না পৌঁছে, রয়ে যাচ্ছে প্লাস্টিকের পরতের ভিতর। তারপর যত খুশি চিবানো যাক, প্লাস্টিক ভেদ করে খাবার মুখে যেতে পারছে না কোনওভাবেই। একসময়ে চিবানো খাবার প্লাস্টিক সমেত উগড়ে দিচ্ছেন তাঁরা!

ইনফ্লুয়েনসারদের মতে, এতে খাবার পেটে না পৌঁছালেও গন্ধ ঠিকই পৌঁছে যাচ্ছে নাকে। গন্ধ ও চিবানোর অনুভূতি পেয়ে মস্তিস্ক ধরেই নিচ্ছে যে খাবার পৌঁছেছে শরীরে! এতে খিদেও কম পাচ্ছে আর ওজনও কম থাকছে। কিন্তু বাস্তবে কতখানি স্বাস্থ্যসম্মত এই পদ্ধতি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বজুড়ে।
শরীরে পৌঁছায় মাইক্রোপ্লাস্টিক:
চোখে দেখা না গেলেও, অতিরিক্ত ঘর্ষণে প্লাস্টিক ভেঙে বেরিয়ে আসে মাইক্রোপ্লাস্টিক। মুখের লালারসের সঙ্গে মিশে তা পেটে গেলে, লিভার, কিডনি, বৃহদান্ত্র, ক্ষুদ্রান্ত্র— সবের ক্ষেত্রেই ক্ষতিকারক হতে পারে।
ক্ষতি হতে পারে দাঁত ও মাড়ির:
দীর্ঘ সময় ধরে প্লাস্টিক চিবালে, মাড়ির সংক্রমণ হতে পারে। চুলের মতো সরু চিড় ধরতে পারে দাঁতে। এ থেকে মুখের আলসার পর্যন্ত হতে পারে এক সময়ে!
দেখা দিতে পারে গ্যাস্ট্রিক:
এ ধরনের আচরণে ব্যহত হয় পেট ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক। আমরা যখন খাবার চিবোই, পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত হয় এক বিশেষ অ্যাসিড যা খাবার হজমে সাহায্য করে। এমতাবস্থায় যদি খাবার শরীরের ভিতর না যায়, তাহলে দেখা দিতে পারে গ্যাস্ট্রিসাইটিস ও আলসার।

মানসিক রোগের পথ প্রশস্ত হয়:
কেবল শরীর নয়, এমন ক্ষতিকারক ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য ভীষণরকম প্রভাবিত হয়। ট্রেন্ড মেনে চলা সত্ত্বেও ওজন না কমলে সামাজিক উদ্বেগ দেখা দেয়। হতে পারে ডিপ্রেশন, বুলিমিয়া কিংবা অ্যানোরেক্সিয়ার মতো মানসিক রোগও। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বুলিমিয়া এমন এক ধরনের মানসিক রোগ যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রয়োজনের দ্বিগুণ খাবার খায় ও ইচ্ছাকৃত তা বমি করে বের করে দেয়।
এই সমস্ত থেকে বাঁচতে তাই সবচাইতে জরুরি হল, অন্ধভাবে কোনও সোশাল মিডিয়া ট্রেন্ড ফলো না-করা। ওজন কমানো এক সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, যার জন্য প্রয়োজন সঠিক ডায়েট, ব্যায়াম ও জীবনযাপনের সামগ্রিক পরিবর্তন। ‘চটজলদি সমাধান’ কখনওই দীর্ঘমেয়াদি ফল দিতে পারে না, বরং বিপদই বাড়িয়ে তোলে!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গুরুত্ব বাড়ছে নতুন প্রজন্মের! এবার নন্দনে জেন জি চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন, কী বললেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’?
-
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, ফের পাক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি গাভাসকর, কপিল-সহ ২১ প্রাক্তন অধিনায়কের
-
আনন্দপুরে পরিচারিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছুরির কোপ! ফিল্মি কায়দায় চলন্ত ট্রেন থেকে রাঁধুনীকে ধরল পুলিশ
-
বরফ কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক! অসুস্থ শিশু-সহ কমপক্ষে ২৫, উত্তপ্ত হাড়োয়া
-
রাখিতে গেজেটপ্রেমী ভাই-বোনকে কী দেবেন ভাবছেন? রইল দারুণ গিফটের আইডিয়া