বিয়ের দিনটা নিজেকে নিখুঁত দেখাতে কে না চান? আর এ কারণে অনেকেই খোঁজেন দ্রুত ওজন কমানোর উপায়। সেই চাহিদার সুযোগে জনপ্রিয় হয়েছে বেশ কিছু ইনজেকশন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এগুলো কোনওভাবেই বিয়ের আগে তাড়াতাড়ি রোগা হওয়ার ‘শর্টকাট’ নয়, বরং ভুলভাবে ব্যবহারে উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি।
আরও পড়ুন:
এই ধরনের ওষুধ মূলত তৈরি টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা স্থূলতার মতো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যায় চিকিৎসার জন্য। মূল উপাদান সেমাগ্লুটাইড বা টিরজেপাটাইড, যা শরীরের একটি প্রাকৃতিক হরমোন জিএলপি-১-এর কাজ অনুকরণ করে। এর ফলে ইনসুলিনের নিঃসরণ বাড়ে, খিদে কমে, হজম ধীর হয় এবং ওজন কমতে শুরু করে।
আরও পড়ুন:

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এখন অনেক সুস্থ মানুষও শুধুমাত্র বিয়ের আগে নিজেকে দ্রুত স্লিম দেখানোর জন্য এই ইনজেকশন নিতে চাইছেন। চিকিৎসকদের কথায়, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা। কারণ এই ওষুধগুলি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর, অর্থাৎ, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের ইতিহাস, এগুলো বিবেচনা করেই এ ধরনের ওষুধের পরামর্শ দেন।
কেন ঝুঁকিপূর্ণ?
চিকিৎসকদের মতে, যাঁদের প্রকৃতপক্ষে এই চিকিৎসার প্রয়োজন নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ওষুধে রয়েছে ঝুঁকি। দ্রুত ওজন কমলেও তা সবসময় স্বাস্থ্যকর বা সৌন্দর্যগত দিক থেকে সন্তোষজনক হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
শুরুর দিকে বা ডোজ বাড়ানোর সময় বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন-
- বমি বা বমি বমিভাব
- ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
- অতিরিক্ত ক্লান্তি
- খিদে কমে যাওয়া
এর পাশাপাশি খুব দ্রুত ওজন কমলে শরীরে জলশূন্যতা, দুর্বলতা, এমনকী পেশি বা মাসল কমে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। অনেক ক্ষেত্রে মুখের ত্বকে সমস্যা দেখা দেয়, যাকে বলে ওজেম্পিক ফেস। কিছু ক্ষেত্রে চুলও হয়ে যায় পাতলা।
গুরুতর ঝুঁকি
কম হলেও কিছু মারাত্মক জটিলতা হতে পারে, যেমন-
- প্যানক্রিয়াটাইটিস
- গলস্টোন
- হজমের সমস্যা
- বিশেষ করে যদি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ নেওয়া হয়, তাহলে ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
এই ইনজেকশন বন্ধ করার পর আবার ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা খুবই সাধারণ। ফলে অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ চালিয়ে যেতে হয়। এছাড়া-
- পেশি ও হাড়ের ঘনত্ব কমতে পারে
- হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে
- কিছু ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও দেখা দিতে পারে
- যেহেতু এই ওষুধগুলি তুলনামূলক নতুন, তাই বহু বছরের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।
তাহলে উপায় কী?
চিকিৎসকদের স্পষ্ট মত, শুধুমাত্র সৌন্দর্য বা বিয়ের প্রস্তুতির জন্য এই ধরনের ওষুধ নেওয়া উচিত নয়। বরং ধীরে, পরিকল্পিত উপায়ে-
- সুষম খাদ্যাভ্যাস
- নিয়মিত শরীরচর্চা। বিশেষ করে স্ট্রেংথ ট্রেনিং
- পর্যাপ্ত ঘুম
এই অভ্যেসগুলোই নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী ফল দেয়। এতে শরীর যেমন ভালো থাকে, তেমনই ত্বক ও পেশির টোনও বজায় থাকে, যা বিয়ের দিন আপনাকে স্বাভাবিকভাবেই সুন্দর দেখায়। সুস্থতা কোনও তাড়াহুড়ো সমাধান নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হিন্দুদের বঞ্চিত করে মুসলমানদের সংরক্ষণ! বাম-তৃণমূলের ‘ভুল শোধরাতে’ জোড়া ওবিসি বিল বিধানসভায়
-
আর্থিক বেনিয়ম-সংগঠনের চাপ! সকাল থেকে বন্ধ ২৩৯ রুটের বাস, নাকাল যাত্রীরা
-
দুঃস্বপ্নের দুবাই! জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে জ্যাসমিন
-
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে টিউশনে ‘চাপ’ শিক্ষকের, কলকাতার স্কুলে অভিভাবক বিক্ষোভে ধুন্ধুমার
-
‘নকআউট পর্যায়ে শুরু হবে আসল লড়াই’, প্রত্যাবর্তনের বার্তা দিলেন রোনাল্ডো