North Bengal

সমতলের গাড়িতে পাহাড় ভ্রমণ নয়! পুজোর মুখে দার্জিলিঙের সংযুক্ত চালক মঞ্চের ফতোয়ায় বিতর্ক

ফতোয়া মানতে নারাজ সমতলের চালকরা।

অভ্রবরণ চট্টোপাধ্যায়
অভ্রবরণ চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ২০:০১

options
link
সমতলের গাড়িতে পাহাড় ভ্রমণ নয়! পুজোর মুখে দার্জিলিঙের সংযুক্ত চালক মঞ্চের ফতোয়ায় বিতর্ক
ফাইল ছবি।

পাহাড়ে আর পর্যটকদের নিয়ে বিভিন্ন দ্রষ্টব্য স্থানে ভ্রমণ করাতে পারবে না সমতলের চালকরা! এহেন ফতোয়া জারি করে দিল দার্জিলিং-এর সংযুক্ত চালক মঞ্চ। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা আর সমতলের চালকদের পাহাড়ে ঘুরতে দেবেন না। শুধু পর্যটক এনে তাদের ছেড়ে দিয়ে চলে আসবে। যদিও এই ফতোয়া মানতে নারাজ সমতলের চালকরা। তাদের পালটা দাবি, গোটা জেলায় গাড়ি চালানোর অনুমতি রয়েছে। এখানে বিতর্কের কোনও জায়গা নেই। তবে এই বিষয়ে যা বলার পরিবহন মন্ত্রী বলবেন বলেই জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।

Advertisement

বাগডোগরা ট্যাক্সি ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বিকাশ সাহা বলেন, “আমরা এই ফতোয়াকে মানছি না। তার কারণ আমাদের কাছে গোটা দার্জিলিং জেলার অনুমতি রয়েছে।” 

পাহাড় এবং সমতলের সমন্বয়েই উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে এগিয়ে চলেছে। পাহাড় ও সমতলের অসংখ্য গাড়ির মালিক এবং চালক একে অপরের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে, সুসম্পর্ক বজায় রেখে পর্যটকদের পরিষেবা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাস্তবতা হল, সমতল এলাকার বহু গাড়ির মালিক ও চালকও দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন দ্রষ্টব্য এলাকা ঘোরানো এবং টাইগার হিলে নিয়ে যাওয়ার উপর নির্ভরশীল। একইভাবে পাহাড়ের গাড়িগুলিও সমতলের পর্যটন পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তাই একে অপরের সহযোগিতা ছাড়া এই পর্যটন ব্যবস্থা সুস্থভাবে চলা কঠিন। কিন্তু বর্তমানে অভিযোগ উঠছে, দার্জিলিং জেলার সমতলের কিছু গাড়ির চালক পাহাড়ে পর্যটক নিয়ে যাওয়ার পর পাহাড়ের বিভিন্ন দ্রষ্টব্য স্থান এবং বিশেষ করে টাইগার হিল ঘোরানোর ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ে সমতলের গাড়ির মালিক ও চালকদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সমতলের একাংশের গাড়ির মালিক ও চালকরা সংঘবদ্ধ হয়ে পালটা অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

দার্জিলিং এর সংযুক্ত চালক মঞ্চের সম্পাদক প্রসন্ন প্রধান বলেন, “সমতলের চালকরা কেন পাহাড়ে এসে পর্যটকদের ঘোরাবেন। তাহলে আমাদের কি অবস্থা হবে। তারা পর্যটকদের যেমন নিয়ে আসে নিয়ে যায় তাই করুক। পাহাড়ে পর্যটকদের ঘোরানোর দায়িত্ব আমাদের। আমরা ১ সেপ্টেম্বর থেকে সমতলের কোনও গাড়িকে ঘুরতে দেবো না।” বিষয়টিকে আবার একদম গুরুত্ব দিতেই চাইছে না সমতলের চালকরা। এবিষয়ে বাগডোগরা ট্যাক্সি ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বিকাশ সাহা বলেন, “আমরা এই ফতোয়াকে মানছি না। তার কারণ আমাদের কাছে গোটা দার্জিলিং জেলার অনুমতি রয়েছে। পাশাপাশি এহেন কোনও সিদ্ধান্ত প্রশাসন নেবে। যারা ফতোয়া জারি করেছে তার কি প্রশাসন নাকি?”

Advertisement

এদিকে গোটা বিষয় নিয়ে কিছুই বলতে চাননি পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তাঁকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এনিয়ে যা বলার তা পরিবহন মন্ত্রী বলবেন। আমি কিছু বলতে পারব না।” তবে বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মন্ত্রী-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিককে চিঠি দেওয়া হয়েছে হিমালয়ান হসপিটালিটি এন্ড টুরিজম ডেভালোপমেন্ট নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্কের তরফে। তবে সামনেই পুজো। ধীরে ধীরে পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকবে। কিন্তু তার আগে এহেন ফতোয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতা। 

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.