Investment Tips

বাজার পড়লেই আতঙ্কে ভোগেন? জেনে নিন বিনিয়োগের খুঁটিনাটি

সাফল্যের জন্য বাজারের প্রতিটি ওঠানামা আগে থেকে অনুমান করা জরুরি নয়। তার বদলে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়মিত বিনিয়োগ করতে হবে। এবং, হ্যাঁ, পর্যাপ্ত সময় দিয়ে বিনিয়োগে থাকতে হবে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১৮:১৪

options
link
বাজার পড়লেই আতঙ্কে ভোগেন? জেনে নিন বিনিয়োগের খুঁটিনাটি
প্রতীকী ছবি।

বিনিয়োগ যদি ‘লং-টার্ম’ হয়, তাহলে দু’টি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার। এক, ‘টাইমিং দ্য মার্কেট’ আর দুই, ‘টাইম ইন দ্য মার্কেট’। এই দু’য়ের গুরুত্ব এবং মাঝের ফারাক বুঝলেই। বিনিয়োগকারীরা ইনভেস্টমেন্ট সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর নিজেরাই পেয়ে যাবেন। সূত্র ধরিয়ে দিলেন কৌশিক চ্যাটার্জি

Advertisement

মাঝে মাঝেই ইনভেস্টর মহল থেকে একটি প্রশ্ন পাই আমি। ইকু‌্যইটি মার্কেটে কখন পা রাখব, তার জন্য ‘ঠিক সময়’ বলে কি কিছু হয়? আজ এই নিয়ে খোলাখুলি কয়েকটি কথা বলতে চাই।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

শেয়ার বাজারে সরাসরিই হোক অথবা মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে, বিনিয়োগ করার সময় অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর মনে স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়টি ঢুকে পড়ে। বাজার পড়লে মনে হয়, আরও একটু অপেক্ষা করা উচিত। আবার বাজার বাড়লে মনে হয়, এখন বিনিয়োগ করলে হয়তো বেশি দামে কিনতে হবে। এই দ্বিধার কারণে অনেক ইনভেস্টর উঠেপড়ে লাগেন “ঠিক সময়” ধরার চেষ্টা করতে।

Advertisement

তাহলে আপনি জিজ্ঞাসা করতে পারেন, বাজারের কারেকশন কি ভয়ের কারণ? আমার মতে, কারেকশন তথা ভোলাটিলিটি, অথবা সাময়িক পতন, খুবই স্বাভাবিক। বাজার কখনও সরলরেখায় উপরে ওঠে না। মাঝেমধ্যে পড়ে, আবার ঘুরে দাঁড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ইনভেস্টরদের কাছে এমন পতন সবসময় বিপদ নয়। বরং নিয়মিত SIP করলে বাজার পড়লে একই টাকায় বেশি সংখ্যক ইউনিট কেনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে যদি পুনরুদ্ধার (রিকভারি) হয়, তাহলে সেই অতিরিক্ত ইউনিট তাঁদের সম্পদ বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

তাই বাজার পড়লেই আতঙ্কিত না হয়ে, আর বিনিয়োগ বন্ধ না করে, শুধু টিকে থাকার স্ট্র্যাটেজি নিন। সেই সঙ্গে নিজের ফিনান্সিয়াল গোলস, ইনভেস্টমেন্ট হরাইজন এবং রিস্ক প্রোফাইল ফের মূল্যায়ন করুন।

SIP কেন time in the market-এর ভাল উদাহরণ, জানেন? এর সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলির একটি তো সহজে বোঝা যায়–বিনিয়োগকারীকে ‘ঠিক সময়’ অনুমান করার চাপ থেকে অনেকটাই মুক্ত করে। এখানে নিয়ম মেনে চলা খুব সহজ। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করুন, বাজারের বিভিন্ন স্তরে ইউনিট কিনতে পারবেন। বাজার চড়া থাকলে কম ইউনিট এবং নিচে থাকলে তুলনামূলক বেশি ইউনিট পাবেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়া চালান, রুপি-কস্ট অ‌্যাভারেজিং-জনিত সুবিধা পাবেন। ছোট ছোট অনিয়মিত বিনিয়োগও এর সঙ্গে যোগ দিন। সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সম্পদ তৈরি করতে পারবেন।

আপনি ভাবতেই পারেন, তাহলে কি কখনও মার্কেট টাইমিং করব না? দেখুন, মার্কেট ভ‌্যালুয়েশন, অ‌্যাসেট অ‌্যালোকেশন এবং বিনিয়োগের সময়কাল (হরাইজন) অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একজন সাধারণ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীর জন্য, প্রতিটি ওঠানামা অনুমান করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

এবার শেষ কথায় আসি। সাফল্যের জন্য বাজারের প্রতিটি ওঠানামা আগে থেকে অনুমান করা জরুরি নয়। তার বদলে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়মিত বিনিয়োগ করতে হবে। এবং, হ্যাঁ, পর্যাপ্ত সময় দিয়ে বিনিয়োগে থাকতে হবে। আজ, ঠিক এই মুহূর্তে, বাজার কোথায় আছে তা জানা দরকার। এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আর্থিক লক্ষ্যের জন্য আজ থেকে আগামী ১০, ১৫ বা ২০ বছর কতটা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বিনিয়োগে থাকতে পারবেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.