গুরুর খাঁটি শিষ্য! ব্যাটিংয়ে যুবরাজকে সমানে টক্কর, নারীঘটিত কাণ্ডেও পিছিয়ে নেই অভিষেক
কী বলছে গুরু-শিষ্যের পরিসংখ্যান?
এশিয়াড ফাইনালে পাকিস্তানি বোলিংকে বিধ্বস্ত করে অভিষেক ২৮ বলে ৬১ রান করেন। চার-ছক্কায় পাক বোলারদের রীতিমতো চাপে ফেলে দেন অভিষেক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে তিনটে চার ও ৭টা ছক্কা। শেষমেশ ভারত ম্যাচ জেতে ১৯ রানে। এদিন নয়া নজির গড়েছেন অভিষেক। ভারত-পাকিস্তান একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানোর নজিরে নাম লেখালেন। ছুঁয়ে ফেললেন তাঁরই গুরু যুবরাজকে।
আরও পড়ুন:
২০১২ সালে যুবরাজ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি টি-টোয়েন্টিতে ৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। সেই নজিরে গুরুর সঙ্গে এক শিষ্যের নাম। মাত্র ৩৫১৩ বলে ৪০০ ছক্কা মেরেছেন অভিষেক। এছাড়া একবছরে ৬৫১টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। মজার বিষয় হল ইতিমধ্যে যুবরাজের থেকে বেশি টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছেন অভিষেক। যুবি খেলেছেন ৫৮ ম্যাচ। সেখানে অভিষেক ৬২টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। যেখানে তাঁর রানসংখ্যা ১৯২৬।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক, দুই ক্রিকেটারের পরিসংখ্যান। ৫৮ ম্যাচে যুবরাজের রান ১১৭৭। গড় ২৮.০২। স্ট্রাইক রেট ১৩৬.৩৮। আটটি হাফসেঞ্চুরি আছে। সংখ্যার দিক থেকে কিন্তু অভিষেক অনেক এগিয়ে। ৫৮ টি-টোয়েন্টির পর অভিষেকের রান ছিল ১৭৫০। গড় ৩১.৮১। স্ট্রাইক রেট ১৯০। দু'টো সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি আছে। দু'জনের উইকেটও ১০। কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে কি সব কিছু বিচার করা যায়?
চাপের মুখে যুবরাজ ছিলেন অনবদ্য। আর তিনি ব্যাট করতেন মিডল অর্ডারে। সেখানে অভিষেক ওপেন করেন। তাছাড়া যুবরাজ তিন ফরম্যাটে খেলেছেন। ওয়ানডেতে ভারতকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। ২০১১-র বিশ্বকাপে স্বপ্নের ফর্মে ছিলেন। সেখানে অভিষেক টি-টোয়েন্টি ছাড়া অন্য কোনও ফরম্যাটে খেলার সুযোগ পাননি এখনও। তাছাড়া যুবরাজ আক্ষরিক অর্থেই 'মৃত্যুঞ্জয়ী'। সেই দুর্ভাগ্য যেন অভিষেকের জীবনে না নেমে আসে।
আরও পড়ুন:
তবে অভিষেকের সাফল্যে যুবরাজ খুশি হন। যখনই অভিষেক ভালো পারফর্ম করেন, তখনই প্রশংসা করেন। আবার খারাপ ফর্ম চললে ভুল শুধরে দেন। কখনও বা বকাঝকা করেন। অভিষেকের জীবনে 'ফ্রেন্ড, ফিলোসফার, গাইড' হলেন যুবি। ২০১৮-তে অভিষেক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতেন। তারপর নেমে আসে কোভিড। সেই সময় যুবরাজের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু করেন অভিষেক। সেখানে সঙ্গী ছিলেন শুভমান গিল। শট নির্বাচন থেকে চাপ সামলানো, সব শুধরে দেন যুবরাজ।
আরও একটি বিষয়ে দু'জনের মধ্যে 'মিল'। ক্রিকেট কেরিয়ারে যুবরাজের ভক্ত সংখ্যা কম ছিল না। তার মধ্যে সম্ভবত মহিলা ভক্তই সম্ভবত বেশি ছিল। আর বহু সেলিব্রিটি অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রেমের জল্পনাও ছিল। কিম শর্মা, দীপিকা পাডুকোন, রিয়া সেন থেকে নেহা ধুপিয়া, তালিকাটা আরও দীর্ঘ করা যায়। তবে এখন বেশ সংসারী। ২০১৫ সালে ব্রিটিশ অভিনেত্রী হাজেল কিচকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তানও আছে।
অভিষেকের প্রথম প্রেমের পরিণতি ভালো হয়নি। এর আগে হায়দরাবাদের বাসিন্দা তানিয়া সিংয়ের সঙ্গে অভিষেকের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ২৮ বছর বয়সি মডেল ২০২৪-এ আত্মঘাতী হন। দুজনের মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে অনুমান ছিল। তার পরেই আত্মঘাতী হন মডেল। সেই সময় পুলিশি তদন্তের মুখেও পড়েছিলেন অভিষেক। এত বিতর্কে কেরিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু এবার রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়ান যুবরাজ।
এখন অভিষেকের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে লায়লা ফয়জলের নাম। দিল্লির কাশ্মীরি মুসলিম পরিবারের মেয়ে ফ্যাশান ডিজাইনার। নিজের সংস্থাও আছে। কাশ্মীরি সিল্ক, ফেব্রিকের কাপড়ে তাঁর সংস্থা এলআরএফ ডিজাইন খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ইনস্টাগ্রামে নিয়মিত নিজের ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী পোস্টও করেন। লায়লা ও অভিষেককে নিয়ে জল্পনা ছড়ায় আইপিএলের সময় থেকে। বোন কোমলের সঙ্গে কমলা জার্সিতে হায়দরাবাদের ম্যাচ দেখতে হাজির হতেন।