মনবীর-রায়ানদের দুরন্ত প্রয়াস সত্ত্বেও হার, কোথায় পিছিয়ে ভারতীয় ফুটবল?
স্কোরলাইন ৪-০ হলেও ম্যাচের সবটা যে একতরফা ছিল, তা বলা যাবে না।
ভারতীয় ফুটবল কোথায় পিছিয়ে, এর উত্তর কমবেশি সকলের জানা। পরিকাঠামো থেকে শুরু করে মান সবেতেই পিছড়েবর্গের দলে ভারতের ফুটবল। প্রচার, অর্থ, বাজারদর... কোনও তুলনাই চলে না দুই দলের। একটা দল পাঁচবার বিশ্বজয়ী। এখনও দলে বিশ্ব মাতানো ফুটবলার ভর্তি। সেখানে ভারতীয় দল এক অবিশ্বাস্য অঘটনের লড়াইয়ে নেমেছিল। কিন্তু সদ্য বিশ্বকাপ খেলা পানামার সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর অনেকেই আশাবাদী হয়েছিলেন মনবীরদের নিয়ে।
আরও পড়ুন:
তার উপর শুক্রবার ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে সেলেকাও অধিনায়ক মার্কুইনহোস ঢালাও প্রশংসা করেন ভারতের গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধুর। ততক্ষণ পর্যন্ত সব কিছুই কেবল যেন সেলুলয়েডের ছবির মতো রঙিন দেখাচ্ছিল। দেশের হয়ে ৯০তম ম্যাচ খেলতে নামা সেই গুরপ্রীতের দু'টি ভুলেই প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ল ভারত। এমন একটা ঐতিহাসিক ম্যাচে ক্ষমাহীন এই ভুল! শেষ পর্যন্ত চার গোল হজম করে মাঠ ছাড়ল খালিদ জামিলের দল।
গুরপ্রীতের ভুল অবশ্য নতুন নয়। পানামা ম্যাচেও তাঁর ভুলে গোল খেয়েছিল ভারত। এদিনও শুরুতে ভিনিসিয়াসের শটও বাঁচালেন। তারপর যেন খেই হারিয়ে গেল। ২৮ মিনিটে গুরপ্রীতের হাতের তলা দিয়ে এস্তেভাওর শট জালে জড়াল। ৪২ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে এস্তেভাওয়ের বাড়ানো বলে কার্যত একের বিরুদ্ধে এক পজিশনে চলে যান পেদ্রো। তুলনায় দুর্বল যে গোলটি তিনি করলেন, সেটা সেভ করতেই পারতেন।
বিরতির পর তাঁকে তুলে নিলেও গোলকিপার নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দেশের অন্যতম সেরা গোলকিপার বিশাল কাইথ দলে ছিলেন না। প্রভসুখন গিল বেঞ্চে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গুরপ্রীতের এমন পারফরম্যান্সের পর কেন তাঁকেই বারবার প্রথম একাদশে রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় গোলের পরপরই তাঁর আরও একটি ভুলে ব্রাজিল তৃতীয় গোল পেয়ে যেতে পারত। আপুইয়া কোনও মতে বল ক্লিয়ার করেন।
আরও পড়ুন:
তবে গুরপ্রীতের ভুলকে সরিয়ে রাখলে প্রথমার্ধে ভারতের লড়াই যথেষ্ট প্রশংসনীয়। পাঁচবারের বিশ্বসেরাদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই রক্ষণে সংগঠিত ছিল ভারত। সুযোগ পেলেই প্রতি আক্রমণে উঠছিলেন রায়ান, মনবীর, অভিষেকরা। ব্রাজিলের প্রথম একাদশে ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোস, দানিলো, ডগলাস সান্তোসের মতো তারকারা থাকলেও শুরুতে ভারতকে খুব একটা চাপে ফেলতে পারেনি তারা।
ভিনিসিয়াসকে আটকানোর দায়িত্ব ছিল অভিষেকের উপর। ব্রাজিলীয় তারকা একাধিকবার ড্রিবল করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অভিষেক তাঁকে ছাড়েননি। কখনও বোকা বনলেও ফের তাড়া করে গিয়েছেন। ভারতের রক্ষণে তাঁর এই লড়াইয়ের পাশাপাশি রায়ান উইলিয়ামসও সামনে থেকে ব্রাজিলকে সমস্যায় ফেলার চেষ্টা করেছেন। তবে গোল করার মতো দক্ষ ও কার্যকর স্ট্রাইকারের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে।
শেষ দিকে দু'দলই আক্রমণ করেছে। ভারত চেষ্টা করেছে ব্যবধান কমানোর। ব্রাজিলও গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত সংযুক্তি সময়ের শেষ মিনিটে লিনোর শট প্রভসুখনের শরীরের তলা দিয়ে ঢুকে যায় গোলে। স্কোরলাইন ৪-০ হলেও ম্যাচের সবটা যে একতরফা ছিল, তা বলা যাবে না। র্যাঙ্কিয়ে ১৩২ ধাপ পিছনে থাকা ভারত খারাপ খেলেনি। ৬ অক্টোবর সামনে উরুগুয়ে। আশা, উদ্বুদ্ধ হয়েই নামবেন খালিদের ছেলেরা।