এইট পাশ, রাজবংশী আবগকে কাজে লাগিয়ে রাতারাতি উত্থান! অনন্ত মহারাজের নেপথ্য কাহিনি
প্রথম জীবনে অসমে চাকরি করতেন অনন্ত মহারাজ।
কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমার গোসানিমারির এক নিম্নবিত্ত রাজবংশী পরিবারের সন্তান নগেন্দ্র। তাঁরা চার ভাই, চার বোন। পড়াশোনা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। প্রথম জীবনে অসমের বঙ্গাইগাঁওতে ইন্ডিয়াল ওয়েল কর্পোরেশনের গ্রুপ ডি কর্মী ছিলেন। একটা সময় হঠাৎই নিজেকে বিষ্ণুর অবতার বলে প্রচার করতে শুরু করেন। তাঁর মহারাজ উপাধি স্বঘোষিত বলেই দাবি অনেকের। জানা যায়, রাজবংশীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভকে হাতিয়ার করে রাতারাতি তাদের নেতা হয়ে যান নগেন্দ্র।
আরও পড়ুন:
রাজবংশীদের মন পেতে যে অনন্তকে দরকার তা ভালোই জানত তৃণমূল। চলতি বছরে ২১ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ভাষা দিবসে বিজেপি সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন তৃণমূল সরকার অনন্তকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দেয়। তথ্য বলছে, অনন্তর সম্পত্তি নেহাত কম নয়। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১.৯৬ কোটি টাকা। রয়েছে প্রাসাদোপম বাড়ি।
নেতাজি প্রসঙ্গে অনন্ত বলেন, "শুধু গান্ধি, নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, তা না। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে গুরুত্ব পায়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরি। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন।"
আরও পড়ুন:
এই মন্তব্যের জেরে অনন্তের বিরুদ্ধে তৈরি হয় জনরোষ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নেতাজি সম্পর্ক কোনও নেতিবাচক মন্তব্যকে বরদাস্ত করা হবে না। কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এরপরই বৃহস্পতিবার রাজ্য ফিরিয়ে নেয় বঙ্গবিভূষণ সম্মান। খানিকটা চাপে পড়েই পরবর্তীকালে ক্ষমা চেয়ে নেন অনন্ত। যদিও তারপরও তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। তবে কি এবার গ্রেপ্তার হবেন অনন্ত? সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।