কেতন হত্যায় শিরোনামে আসা লোহাগড়ে অশরীরীর আনাগোনা! তবু কেন এই দুর্গেই পর্যটকের ভিড়?
শোনা যায়, সন্ধ্যার পর দুর্গে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা শুনলে নাকি গায়ে কাঁটা দেবে।
আসলে লোহতমিয়া রাজবংশের আমলে এই দুর্গটি তৈরি হয়। বিভিন্ন রাজবংশের শাসনকালে দুর্গটি সমান গুরুত্ব পেয়েছে। ১৬৪৮ সালে ছত্রপতি শিবাজির সময় মারাঠা সাম্রাজ্যের ঘাঁটি ছিল। সেই সময় মারাঠা সাম্রাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ছিল এই দুর্গ। বছর পাঁচেক পর এটির মালিকানা পায় মোগলরা। এই দুর্গটি ইতিহাস, প্রকৃতি এবং স্থাপত্যের মেলবন্ধন বললে ভুল কিছু হয় না। এই দুর্গটি পরবর্তীকালে হয়ে ওঠে পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য।
আরও পড়ুন:
লোনাভেলার সহ্যাদ্রি পাহাড়ের লোহাগড় দুর্গের আক্ষরিক অর্থে 'লোহার গড়'। বহু যুদ্ধের সাক্ষী। একসময় রাজা, মহারাজা এবং যোদ্ধার পা পড়েছে। দুর্গের চারটি দরজা। হনুমান, গণেশ, নারায়ণ এবং মহাদরজা। পাথরের সূক্ষ্ম কাজ। মারাঠি স্থাপত্যের চিহ্ন দরজায়। পুণে থেকে ৫২ কিলোমিটার দূরে টিকিট কাউন্টার। সেখান থেকে শুরু হয় ট্রেকিং। যাত্রাপথ সুন্দর ও রোমাঞ্চকর। বর্ষায় দুর্গম। যেকোনও মুহূর্তে পা পিছলে খাদে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
শোনা যায়, সন্ধ্যার পর দুর্গে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। গণেশ দরজার নিচে নাকি এক মহিলা ও পুরুষকে জীবন্ত পুঁতে দেওয়া হয়। তাই ওই দরজায় নাকি অশীরীর দেখা মেলে। হঠাৎ করে নাকি ছায়ামূর্তিও সরে যায়। কখনও কখনও ওই ছায়ামূর্তি হাত নাড়িয়ে জানান দেয় তার উপস্থিতি। আবার পরমুহূর্তে সে গায়েব হয়ে যায়।
লোহাগড় দুর্গে নাকি নানা শব্দও শোনা যায়। মনে হয় কেউ যেন আশেপাশে ঘুরে শিস দিচ্ছে। অথচ তাকে দেখা যায় না। আবার কখনও দেখা যায় কোনও আলো যেন চোখের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে। অথচ ওই আলোর উৎস অজানা প্রায় সকলেরই। লোহাগড় দুর্গের এই রহস্য়ময় কাহিনি লোকমুখে বেশ প্রচলিত। অথচ স্থানীয়দের মুখে মুখে ফেরা এই কাহিনির যদিও কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
আরও পড়ুন:
ট্রেকিংয়ের সময়েও কেউ কেউ ভয়ংকর ঘটনার সাক্ষী হন। যাত্রাপথে নাকি মনে হয় পিছু পিছু কেউ অনুসরণ করছেন। তবে সে যে কে, তা খুঁজে পাওয়াই দায়। এই আতঙ্কে মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটলেই সর্বনাশ। ভয়ংকর ট্রেকিং পথে পা পিছলে গেলেই হতে পারে বিপদ। গিরিখাতে পড়ে প্রাণহানির সম্ভাবনা। বড়সড় চোটাঘাতও পেতে পারেন। তাই সেখানকার গাইডরা পর্যটকদের মনের জোর বাড়াতে সাহায্য করেন।
তা সত্ত্বেও লোহাগড় দুর্গে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। রয়েছে একাধিক কারণ। একে তো জায়গাটি অত্য়ন্ত সুন্দর। সবুজে ঘেরা পাহাড়ের মাঝে দুর্গ মনোমুগ্ধকর। আবার তার উপর এই দুর্গের মাথায় সবসময় কুয়াশা ও মেঘের খেলা চলে। তাই ছবির মতো সুন্দর জায়গা মন কাড়ে সকলের। আবার তাপমাত্রাও বেশ আরামদায়ক। ২৩-২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকে।
এছাড়া যে পর্যটকরা রোমাঞ্চের টানে ঘুরে বেড়ান। তাঁদের জন্য লোহাগড় দুর্গ খুবই পছন্দের। কারণ, অশরীরীর উপস্থিতি, নানা শব্দ. আলোর রহস্যময় ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণ বাড়ে রহস্যপ্রেমী পর্যটকদের। সে কারণেই তাঁরা লোহাগড় দুর্গে যান। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এখানে যাওয়া উচিত। বর্ষায় লোহাগড় দুর্গে না যাওয়াই ভালো।