ঠোঁটে ঠোঁট রেখে ব্যারিকেড গড়ো… দ্রোহের আবহে ভিন্নধারার দেশপ্রেমের এসব সিনেমা দেখেছেন?
যুদ্ধ-অশান্তিক্লিষ্ট পৃথিবীতেও বলা যায় প্রেমের গল্প।
যুদ্ধ-অশান্তিক্লিষ্ট পৃথিবীতে প্রেমের গল্প বলা যায়, ইমতিয়াজ আলি 'ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা' তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ৯৫ বছর বয়সি ইশার সিং গ্রেওয়াল (নাসিরুদ্দিন শাহের) মন স্মৃতিভ্রান্তির ভারে ক্লান্ত। সারাদিন বিড়বিড় করতে থাকেন। যা তাঁর দুই ছেলে ইকবাল (রজত কাপুর), অঙ্গদ (জয়প্রীত সিং) ও বউমা মেহেরের (অঞ্জনা সুখানি) কাছে প্রলাপ। অ্যালঝাইমার আক্রান্ত মস্তিষ্কে দেশভাগের ক্ষত দাগ কাটে না আর। ফিরতে চান নিজের শিকড়ে।
আরও পড়ুন:
চেতন আনন্দ পরিচালিত 'হকিকত' ছবির কথাও বলতেই হয়। ১৯৬২ সালের ভারত ও চিন যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। কীভাবে লাদাখের তীব্র ঠান্ডায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী চিনা সৈন্যদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবিটিতে। ১৯৬৪ সালের ওই ছবিতে ধর্মেন্দ্রর অভিনয় অসামান্য। ১৯৬৫ সালে ছবিটি জাতীয় পুরস্কার পায়। ২০১২ সালে ছবিটির রঙিন সংস্করণ পুনরায় মুক্তি পায়।
তালিকায় রয়েছে 'দিল সে'। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া মণিরত্নমের এই ছবিতে শাহরুখ খান সাংবাদিক। কর্মসূত্রে অসমে যাওয়ার পথে ট্রেনে মনীষা কৈরালা সঙ্গে দেখা। প্রেমে পড়লেও প্রত্যাখ্যাত হন। কারণ, মনীষা কৈরাা আসলে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। পরবর্তীকালে প্রীতি জিন্টার সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন শাহরুখ। আবার কিং খানের জীবনে ফেরেন মনীষা। তারপর কী হল, তা নিয়েই এগিয়েছে ছবিটি।
'ম্যায় হু না'র কথা নতুন করে আর কী-ই বা বলার থাকতে পারে। কোরিওগ্রাফের ফারাহ খানের পরিচালিত প্রথম ছবি এটি। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তিপ্রতিষ্ঠায় এবং সেনাকর্তার মেয়েকে ছদ্মবেশে রক্ষা করার দায়িত্ব শাহরুখের। সেখানেই দেখা যায় তাঁর সৎ ভাইয়ের সঙ্গে। কলেজ শিক্ষিকা সুস্মিতা সেনের প্রেমেও পড়ে যান শাহরুখ। রোম্যান্স থেকে অ্যাকশন, বন্ধুত্ব - চরিত্রগুলির মধ্যে আলাদা আলাদা রং দর্শকদের মন জয় করেছে।
আরও পড়ুন:
শ্রীরাম রাঘবনের 'ইক্কিস' সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অরুণ ক্ষেত্রপালের বায়োপিক। একাত্তরের যুদ্ধে শত্রুপক্ষের ১০টা ট্যাঙ্ক উড়িয়ে দিয়েছিলেন। নিজের ট্যাঙ্কে আগুন লাগলেও অবস্থান ছেড়ে নড়েননি। সেই শহিদ যোদ্ধাকে নিয়েই ‘ইক্কিস’। একদিকে যুদ্ধের উত্তেজনা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের সংঘাতই কাহিনি। একাত্তর সালের বসন্তর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিতে শহিদ সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পিভিসি অরুণ ক্ষেত্রপালের বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ধর্মেন্দ্র। ছবি মুক্তির আগে মৃত্যু হয় তাঁর।
১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি 'বর্ডার ২'। মেজর চাঁদপুরীর ভূমিকায় সানি দেওল 'বর্ডার' মুক্তি ২৭ বছর পরেও কাঁপিয়ে দিয়েছেন। অনুরাগ সিং পরিচালিত এই ছবি দর্শকদের অ্যাড্রিনালিন রাশ বাড়াতে বাধ্য। তাই দেশপ্রেমের ছবি হিসাবে 'বর্ডার ২' যেন মিস না হয়!তাই স্বাধীনতার দিবসের ছুটিতে বাড়িতে বসে দেখুন একের পর এক ছবি। ওয়াচলিস্টে অবশ্যই রাখতে পারেন এই ছবিগুলি।