রণবীরের আগে ‘রাম’ হয়েছিলেন সলমন, ‘সীতা’ সোনালি, কেন মাঝপথে বন্ধ হয় ‘রামায়ণ’-এর শুটিং?
রণবীর কাপুরের আগে ‘রাম’ হয়েছিলেন সলমন খানও। কোন ছোট্ট ভুলের মাশুল গুনতে হয় ভাইজানকে?
জানেন কি, এর আগে বলিউডের অনেক নির্মাতাই রামায়ণ বানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা কখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এই যেমন সলমন। রণবীরের বহু আগে 'রাম' হয়েছিলেন সলমন, গেরুয়া বসনে তীর-ধনুক হাতে ভাইজানকেও দেখার সুযোগ পেতেন দর্শক। কিন্তু 'রামায়ণ' -এর ৪০ শতাংশ শুটিং হয়ে যাওয়ার পর আচমকাই মাঝপথে ছন্দপতন! বন্ধ হয়ে যায় সলমনের রামায়ণের শুটিং। কেন জানেন?
আরও পড়ুন:
ভাই সোহেল খানের একটি ভুলের মাশুল গুনতে হয়েছিল সলমনকে! নব্বইয়ের দশকে সোহেল সদ্য 'অওজার' ছবি দিয়ে পরিচালক হিসেবে হাতেখড়ি করেছেন। তিনিই সলমনকে নিয়ে রামায়ণ করতে উদ্যত হন। কাস্টিংও তাবড়। সীতার ভূমিকায় স্নিগ্ধ সুন্দরী সোনালি বেন্দ্রে। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পূজা ভাটও। তিন তারকা-সহ গোটা টিম নিয়ে ছবির শুটিংও চলছিল পুরোদমে। কিন্তু আচমকাই ঘটল বিপত্তি! যার জেরে সলমনের আর রাম হওয়া হল না।
খবর, রামায়ণের শুটিং চলাকালীন পূজা ভাটের প্রেমে পড়েন সোহেল। এবং উভয়েই নাকি সম্পর্কটা নিয়ে বেশ সিরিয়াস হয়ে পড়েছিলেন। সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে, ১৯৯৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যেই সোহেলের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে কথা বলেন মহেশ ভাটকন্যা পূজা। খবর পৌঁছয় বাবা সেলিম খানের কানে। বেঁকে বসে সলমনের পরিবার! ভবিষ্যতে জটিলতার আশঙ্কায় ছেলে সোহেলকে পূজার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরামর্শ দেন তিনি।
খান পরিবারের তরফে এমন আচরণ আশা করেননি পূজা ভাট। পূজা তখন রীতিমতো বলিউড কাঁপাচ্ছেন! প্রথম সারির নায়িকা। এমতাবস্থায় সোহেলের সঙ্গে বিবাদ বাঁধে পূজার। সম্পর্ক দ্রুত তিক্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে সোহেল খান পরিচালিত 'রামায়ণ'-এর শুটিং ছেড়ে বেরিয়ে যান পূজা ভাট। ফলত, মনোমালিন্যের জেরে পুরো প্রজেক্টটাই বন্ধ হয়ে যায়। সলমন খানেরও আর 'রাম' অবতারে আত্মপ্রকাশ করা হয় না।
আরও পড়ুন:
এদিকে সমালোচিত হচ্ছে রণবীর কাপুরের 'রাম' লুক। কারও মতে তিনি বেমানান, কেউ বা আবার অভিনেতার অতীত গোমাংস ভক্ষণকে ইস্যু করে বয়কট রব তুলেছেন। তবে ইসলাম ধর্মালবম্বী হলেও হিন্দুধর্মের প্রতি অগাধ সম্মান সলমনের। ভাইজান একাধিকবার বলেছেন, 'গোমাতা আমারও মা, আমি গোমাংস ছুঁই না পর্যন্ত।' অতঃপর সেই অভিনেতাকে রামের চরিত্রে পেলে, দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন হত? সেটা নিঃসন্দেহে কৌতূহল জাগায়।