‘গুগাবাবা’র মুক্তি আটকাতে মরিয়া ছিলেন উত্তম কুমার! মহানায়কের পাশে ছিলেন ‘মন্ত্রীমশাই’ জহরও
ফিরে দেখা রুপোলি পর্দার স্বর্ণযুগের আশ্চর্য এক ইতিহাস।
১৯৬৯ সালের ৮মে মুক্তি পেয়েছিল ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’। মিনার-বিজলি-ছবিঘরে ভিড় উপচে পড়েছিল। বহু বছর পর্যন্ত ছবিটি ছিল সবচেয়ে বাণিজ্যসফল ছবি। অথচ এই ছবির মুক্তির সময়ই জট পাকিয়ে গিয়েছিল পরিস্থিতি। একেবারেই অনভিপ্রেত সেই পরিস্থিতির নেপথ্যে কী ছিল? আসলে সেই সময় নিয়ম ছিল যে ছবি সেন্সরের সার্টিফিকেট আগে পাবে তা আগে মুক্তি পাবে। গোলমালটা বাঁধে সেটা নিয়েই।
আরও পড়ুন:
বিকাশ রায় অভিনীত 'আরোগ্য নিকেতন' এবং উত্তম-সুপ্রিয়ার 'মন নিয়ে' আগেই সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছিল। এরপর সার্টিফিকেট পায় 'গুগাবাবা'ও। উত্তমকুমারদের দাবি ছিল, কী করে সত্যজিতের ছবি পরে ছাড়পত্র পেয়ে আগে রিলিজ করতে পারে? সম্প্রতি অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি পডকাস্টে উত্তমকে নিয়ে বলতে গিয়ে ফের তুলে ধরেছেন সেই ইতিহাস। জানিয়েছেন, সত্যজিতের পাশে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়।
সৌমিত্রদের দাবি ছিল, 'মেরিট'-এর জোরেই 'গুগাবাবা' আগে মুক্তি পাক। আর এখানেই উত্তম কুমার ও আরও অনেকের প্রশ্ন ছিল 'মেরিট' কে ঠিক করবে। শিল্পের ক্ষেত্রে এমন বিচার যে আপেক্ষিক! আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় তীব্র সংঘাত। আর এই 'লড়াই'-এর সবচেয়ে অবাক করা নাম জহর রায়। তিনি আবার 'গুগাবাবা'র প্রধান খলচরিত্র 'মন্ত্রীমশাই'।
নিজে ছবির অংশ হলেও মতপার্থক্যের কারণে জহর রায় সত্যজিতের পাশে না থেকে উত্তম-বিকাশদের পক্ষে ছিলেন। এ এক আশ্চর্য বিষয়। আবার একই ভাবে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি সত্যজিতের কোনও ছবিই করেননি, তিনি কিন্তু 'বন্ধু' জহরের পাশে থাকলেন না। আসলে সেই সময়টাই এমন। কোনও ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, সেই লড়াই ছিল মতপার্থক্যের।
আরও পড়ুন:
তবে শেষপর্যন্ত মুক্তি পায় 'গুগাবাবা'। তারপর যা হয়েছিল তা ইতিহাস। কেবলই বাণিজ্যসফল হয়ে ওঠা নয়, এই ছবি যেন বাঙালির মনন ও সংস্কৃতির একেবারে গভীরে প্রবেশ করেছিল। গোটা বিশ্বই বিস্মিত হয়ে দেখেছিল সত্যজিতের এই অনন্য সৃষ্টিকে। ছোটদের যেমন আপন, বড়দের কাছেও তেমনই আপন হয়ে উঠেছিল গুপী-বাঘার জুটি। যা আজও অবিচ্ছেদ্য। থাকবে চিরকাল।