Rang Panchami 2026

হোলির পাঁচদিন পরে পালিত হয় রং পঞ্চমী, নেপথ্যে কোন আধ্যাত্মিক বিশ্বাস?

পূর্ণিমার ঠিক পাঁচ দিন পর পালিত হয় ‘রং পঞ্চমী’। বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে এই দিনটির মাহাত্ম্য অপরিসীম। শাস্ত্র মতে, বসন্ত উৎসবের প্রকৃত ইতি ঘটে এই রং পঞ্চমীর মাধ্যমেই। এ বছর কবে পালিত হবে দিনটি? এর তাৎপর্যই বা কী?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৭, ২০২৬, ১৭:২০

options
link
হোলির পাঁচদিন পরে পালিত হয় রং পঞ্চমী, নেপথ্যে কোন আধ্যাত্মিক বিশ্বাস?
শাস্ত্র মতে, বসন্ত উৎসবের প্রকৃত ইতি ঘটে এই রং পঞ্চমীর মাধ্যমেই। ছবি: সংগৃহীত

ফাল্গুনের পূর্ণিমায় দোল বা হোলির রং খেলা শেষ হলেও, ভারতের বহু প্রান্তে উৎসবের রেশ কিন্তু এখনও ফুরোয়নি। পূর্ণিমার ঠিক পাঁচ দিন পর পালিত হয় ‘রং পঞ্চমী’। বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে এই দিনটির মাহাত্ম্য অপরিসীম। শাস্ত্র মতে, বসন্ত উৎসবের প্রকৃত ইতি ঘটে এই রং পঞ্চমীর মাধ্যমেই।

Advertisement
প্রতীকী ছবি

হিন্দু পঞ্জিকা মতে, এবছর রং পঞ্চমী পালিত হবে ৮ই মার্চ। চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের পঞ্চমী তিথি শুরু হচ্ছে ৭ই মার্চ সন্ধ্যা ৭.১৭ মিনিটে। শেষ হবে ৮ই মার্চ রাত্রি ৯.১০ মিনিটে। উদয়তিথি অনুসারে, ২০২৬ সালের রং পঞ্চমী পালিত হবে ৮ই মার্চ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কৃষ্ণপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে আয়োজিত এই উৎসবকে ঘিরে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস। প্রচলিত লোকগাথা অনুযায়ী, দোল বা হোলি হল মানুষের উৎসব। আর রং পঞ্চমী হল দেবতাদের উৎসব। মনে করা হয়, এই বিশেষ দিনে মর্ত্যে নেমে আসেন দেব-দেবীরা। স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ ও রাধারাণী এদিন গোপিনীদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতে ওঠেন। তাই এই দিনটিকে রাধাকৃষ্ণের ‘দিব্য হোলি’র স্মারক হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈষ্ণব ভক্তদের কাছে এই তিথি ভক্তি এবং প্রেমের এক অনন্য মেলবন্ধন।

Advertisement
Radha Krishna
প্রতীকী ছবি

আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যার পাশাপাশি রং পঞ্চমীর নেপথ্যে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক দর্শন। এই উৎসব ‘পঞ্চতত্ত্ব’ বা প্রকৃতির পাঁচটি উপাদানের (ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম) সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। বিশ্বাস করা হয়, বাতাসে আবির ও রঙ ওড়ানোর মাধ্যমে এই পাঁচ উপাদানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। হোলিকা দহনের আগুন যেমন চারপাশের নেতিবাচক শক্তি বিনাশ করে, তেমনই রং পঞ্চমীর আবির মহাজাগতিক শক্তিকে জাগ্রত করে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে।

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই দিনটি ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে উদযাপিত হয়। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরে এই উপলক্ষে বিশাল শোভাযাত্রা বের হয়। রাজপথ ভরে ওঠে মানুষের ভিড়ে। মহারাষ্ট্র ও গুজরাটেও এই দিনটি হোলির চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে পালিত হয়। এটি কেবল আনন্দ-উচ্ছ্বাসের দিন নয়, বরং অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক। লৌকিক উৎসব থেকে আধ্যাত্মিক উত্তরণ— এই দুইয়ের সেতুবন্ধনই হল রং পঞ্চমী। বসন্তের বিদায়বেলায় এই উৎসব মন ও প্রকৃতিতে এক নতুন চেতনার সঞ্চার করে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.