মা হওয়ার স্বপ্নে বাধা, গর্ভপাতের পর এই ৯টি ভুল করলেই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি!
মা হওয়ার স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া যে কোনও মহিলার কাছেই এক যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা। গর্ভপাত বা অ্যাবরশন কেবল শরীরের ওপর ঝড় বইয়ে দেয় না, মনের উপরও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। এই কঠিন সময়ে সঠিক যত্নের অভাবে শারীরিক জটিলতা আরও বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য অসতর্কতা ভবিষ্যতে মা হওয়ার পথেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে এবং পরবর্তী বড় বিপদ এড়াতে আপনার জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
গর্ভপাতের পর শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকেই দ্রুত কাজে ফেরার তাড়াহুড়ো করেন, যা একেবারেই অনুচিত। জরায়ু বা গর্ভাশয় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। এই সময় বিশ্রাম না নিলে রক্তপাত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই অন্তত কয়েকদিন শরীরকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম দিন। হুটহাট পরিশ্রম আপনার সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।
আরও পড়ুন:
অনেক সময় ব্যথা কমে গেলে রোগীরা মাঝপথে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। এটি একটি মারাত্মক ভুল। চিকিৎসকরা সাধারণত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। ওষুধের কোর্স অসম্পূর্ণ রাখলে শরীরে ইনফেকশন দানা বাঁধতে পারে। এই অবহেলা ভবিষ্যতে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা বা সেপটিকের জন্ম দিতে পারে।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শরীরে আয়রন ও প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দেয়। এই সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, ডিম, দুধ, ডাল এবং টাটকা ফল রাখুন। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। সঠিক পুষ্টি আপনার হাড়ের শক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন:
গর্ভপাত পরবর্তী সময়ে সংক্রমণের ভয় সবথেকে বেশি থাকে। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কোনও আপস করবেন না। দীর্ঘক্ষণ ভিজে বা স্যাঁতসেঁতে অন্তর্বাস পরে থাকা বিপজ্জনক। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও রাসায়নিক যুক্ত ইন্টিমেট ওয়াশ ব্যবহার করবেন না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে জরায়ুর সংক্রমণ বা অন্যান্য গোপন রোগের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।
গর্ভপাত কেবল শারীরিক নয়, একটি মানসিক আঘাতও বটে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই সময় অবসাদ বা মুড সুইং হওয়া খুব স্বাভাবিক। মনের কষ্ট চেপে না রেখে প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নিন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের কাউন্সিলিং করান। মনে রাখবেন, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি না হলে শরীর পুরোপুরি সুস্থ হতে পারে না। নিজেকে সময় দিন।
রক্তপাত বন্ধ হয়ে গেলে অনেকেই মনে করেন সব ঠিক আছে। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে ফলো-আপ চেক-আপের জন্য যাওয়া বাধ্যতামূলক। অনেক সময় জরায়ুর ভেতরে টিস্যু থেকে গেলে পরবর্তীতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। আল্ট্রাসোনোগ্রাফির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি যে শরীর ভেতর থেকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়েছে কি না। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা সুস্থতার চাবিকাঠি।
সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছু উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। যদি দেখেন তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তপাত থামছে না কিংবা শরীরের তাপমাত্রা বাড়ছে, তবে দেরি করবেন না। এছাড়া শরীর থেকে দুর্গন্ধযুক্ত রস নির্গত হওয়াও ইনফেকশনের লক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে তৎক্ষণাৎ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জীবনদায়ী পদক্ষেপ হতে পারে।