‘শত্রু’দের জাতীয় পতাকা পোড়ানো, অশ্রাব্য গালিগালাজ! বিশ্বকাপজুড়ে ‘গুন্ডামি’ আর্জেন্টিনা ভক্তদের
ভারতীয় দর্শকদের কটাক্ষের নিন্দা করেছিলেন বিরাট। মেসিও কি পারতেন না তেমনটা করতে?
বিশ্বকাপে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে আর্জেন্টিনার ভক্তরা। মার্কিন মুলুকের স্টেডিয়াম হোক বা দুনিয়ার যেকোনও প্রান্তের সোশাল মিডিয়া-সর্বত্রই সমস্যা তৈরি হয়েছে তাদের একাংশকে নিয়ে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে আলজেরিয়া সমর্থকদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ায় আর্জেন্তিনীয় ভক্তকুল। টাইমস স্কোয়্যারের মতো ঐতিহ্যশালী জায়গায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ডাকতে হয়। টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, আর্জেন্টিনা ভক্তদের দৌরাত্ম্য ততই বেড়েছে।
আরও পড়ুন:
নকআউট পর্বে যথাক্রমে কেপ ভার্দে এবং মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল আর্জেন্টিনার। দু'টো ম্যাচই অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ হলেও জিততে বেশ কষ্ট করতে হয় মেসিদের। মাঠে যখন ফুটবলাররা হিমশিম খাচ্ছেন, তখন গ্যালারিতে কেপ ভার্দে এবং মিশরের সমর্থকদের উপর চড়াও হয় আর্জেন্টিনা ভক্তকুল। অশ্রাব্য গালিগালাজ, বিয়ারের বোতল ছুড়ে মারা এমনকী বর্ণবৈষম্যমূলক অপমানও করেছে তারা। যাবতীয় দৌরাত্ম্য দেখেও ফিফার তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল মেসিদের। পিছিয়ে থেকেও সেই ম্যাচ জেতে আর্জেন্টিনা। সেদিন শালীনতার যাবতীয় সীমা অতিক্রম করে ফেলেন আর্জেন্টিনার কিছু ভক্ত। আগুন ধরিয়ে দেন ইংল্যান্ডের জাতীয় পতাকায়। রাস্তায় ফেলে পা দিয়ে ইংল্যান্ডের পতাকা নষ্ট করতেও দেখা যায়। এহেন আচরণে ইন্ধন যোগায় আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্টের মন্তব্য। তিনি দাবি করেন, ইংল্যান্ডের সকলেই জলদস্যু। এহেন মন্তব্যের নিন্দা করা হয়নি প্রশাসনের তরফে।
ফাইনালের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে স্প্যানিশ হেড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। এখানেই শেষ নয়, সোশাল মিডিয়াতেও আর্জেন্টিনা ভক্তরা রীতিমতো দাদাগিরি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। বিপুল সংখ্যক পোস্টই ঘৃণাভাষণ, গালিগালাজে ভর্তি ছিল। বিশেষত কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশ্য করে বেছে বেছে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ফিফার তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অনুমান করা হচ্ছে,আর্জেন্টিনা ভক্তদের এই দৌরাত্ম্যে বিরক্ত হয়েই মেসিবিরোধী হয়ে উঠেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। গোটা টুর্নামেন্টে কখনও রেফারির থেকে সুবিধা পাওয়া, কখনও 'দুর্বল' প্রতিপক্ষ পাওয়া-নানা অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি না থাকলেও তা নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে মেসিদের দল নিয়ে। তাই আর্জেন্টিনার হারে বাড়ছে উল্লাস।
ক্রীড়ামহলের অনেকেই মনে করছেন, মেসিদের তরফ থেকে একটা বার্তা পেলেই হয়তো থেমে যেত পারত আর্জেন্টিনা ভক্তদের উৎপাত। এই প্রসঙ্গে মনে করা যেতে পারে বিরাট কোহলির উদাহরণ। ২০১৯ বিশ্বকাপ চলাকালীন ভারতীয় সমর্থকরা কটাক্ষ করছিলেন স্টিভ স্মিথকে। তিনি সেসময়ে বল বিকৃতির অভিযোগে বিদ্ধ, সদ্য নির্বাসন কাটিয়ে ফিরেছেন। অজি তারকাকে কটাক্ষ করা ভারতীয়দের থামিয়েছিলেন বিরাট স্বয়ং। মেসিও কি তেমনটা করতে পারতেন না?